'কেরিয়ারে এমন বিভীষিকা দেখেননি', লর্ডসে বুমরাহের বিষাক্ত বাউন্সার নিয়ে মুখ খুললেন অ্যান্ডারসন
কেরিয়ারে এমন অবস্থায় পড়েননি, বুমরাহের বিষাক্ত লর্ডসের বাউন্সার নিয়ে মুখ খুললেন অ্যান্ডারসন
লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষবেলায় ব্যাটিং করতে গিয়ে জসপ্রীত বুমরাহের বিষাক্ত বাউন্সারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল জেমস অ্যান্ডারসনকে। একটি তাঁর মাথায় আঘাত করলে এই ইস্যুতে ভারত ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের মধ্যে বাগবিতন্ডা, কথার যুদ্ধ ও গরমাগরমি শুরু হয়েছিল। যার রেশ ম্যাচের শেষ দিন পর্যন্ত জারি ছিল। পরিশেষে ঘরের মাঠে বিরাট কোহলিদের আগ্রাসনের সামনে মাথা নত করতে হয়েছিল জো রুটের দলকে। হেডিংলিতে তৃতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার আগে এবার ওই ইস্যুতেই মুখ খুললেন কিংবদন্তি জিমি অ্যান্ডারসন।

কী বললেন অ্যান্ডারসন
এক সাক্ষাৎকারে লর্ডস টেস্টের বিভীষিকার কথা তুলে ধরেছেন জেমস অ্যান্ডারসন। স্বীকার করেছেন যে ভারতীয় ফাস্ট বোলার জসপ্রীত বুমরাহের একের পর এক বিষাক্ত বাউন্সারের সামনে তিনি নিজেকে অসহায় বলে মনে করেছিলেন। এত বছরের ক্রিকেট কেরিয়ারে তিনি এমন অবস্থার মধ্যে পড়েননি বলেও জানিয়েছেন জিমি। তাঁর কথায়, ম্যাচের তৃতীয় দিন আউট হয়ে সাজঘরে ফেরা ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা মন্থর উইকেট নিয়ে কথা বলছিলেন। সেই পিচে দিনের শেষে যে তাঁকে বুমরাহের একের পর এক গতিশীল বাউন্সারের সম্মুখীন হতে হবে, তা তিনি ধারণাতেই আনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন টেস্টে ছয়শো উইকেটের গণ্ডী পার করা বিশ্বের প্রথম ফাস্ট বোলার।

বুমরাহ আউট করতে চাননি
লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষবেলায় ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন জেমস অ্যান্ডারসন। পিচের অন্যদিকে তখন দাঁড়িয়েছিলেন শতরান করা জো রুট। অ্যান্ডারসনের কথা অনুযায়ী, তিনি ক্রিজে যেতেই ইংল্যান্ড অধিনায়ক এগিয়ে গিয়ে জানিয়েছিলেন যে জসপ্রীত বুমরাহ অন্যান্য দিনের থেকে কম গতিতে বোলিং করছেন। সেই ধারণার বশবর্তী হয়ে তিনি ভারতীয় ফাস্ট বোলারের প্রথম যে বল ফেস করেছিলেন সেটি প্রায় ঘণ্টায় ৯০ মাইল গতিতে ছুটে আসা বাউন্সার ছিল। চোখে ধাঁধাঁ ধরে গিয়েছিল ব্রিটিশ ফাস্ট বোলারের। অ্যান্ডারসনের মনে হয়েছিল যে বুমরাহ তাঁকে আউট নয়, আহত করার জন্য বল করছেন। ইংল্যান্ডে ফাস্ট বোলরের কথায়, ওই ওভারে ১০ থেকে ১২টি ডেলিভারি করেছিলেন বুমরাহ। একের পর এক বাউন্সার দিয়ে যাচ্ছিলেন ভারতীয় ফাস্ট বোলার। একের পর এক নো ডাকা হলেও সেদিকে বুমরাহের ভ্রুক্ষেপ ছিল না বলে জানিয়েছেন জিমি।

কী হয়েছিল সেদিন
ভারতের বিরুদ্ধে নটিংহ্যামের মতো লর্ডস টেস্টের প্রথম ইনিংসেও শতরান করেছিলেন জো রুট। তাঁর এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সৌজন্যে ওই ইনিংসে ভারতের থেকে ২৭ রানের লিড নিয়েছিল ইংল্যান্ড। দলের অধিনায়ক একটা কৌশলগত ভুল না করলে হোম টিমের ওই লিড ৫০ ছাড়িয়ে যেতে পারত। ম্যাচের তৃতীয় দিনের শেষবেলায় রুটের সঙ্গে ব্যাটিং করছিলেন জেমস অ্যান্ডারসন। ভারতীয় ফাস্ট বোলার জসপ্রীত বুমরাহের বল তাঁর হেলমেটে লাগলে কনকাশন চেকের আওতায় পড়ে গিয়েছিলেন জিমি। স্নায়ুর চাপে ভুগতে শুরু করেছিলেন ব্রিটিশ ফাস্ট বোলার। তা বুঝে অ্যান্ডারসনকে লক্ষ্য করে বডি লাইন বোলিং করতে শুরু করেছিল ভারত। এমনই আবহে দিনের শেষ ওভারের তিন বল খেলে ফেলেন জো রুট। চতুর্থ বলে সিঙ্গলস নিয়ে কৌশলগত ভুল করে ফেলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। নড়বড়ে অ্যান্ডারসন দিনের শেষে আউট না হয়ে গেলে ইংল্যান্ডের লিড আরও কিছুটা বাড়তে পারত।

ম্যাচ জুড়ে ছিল রেশ
লর্ডস টেস্টে জেমস অ্যান্ডারসনের হেলমেটে বল আঘাত করা নিয়ে ভারত ও ইংল্যান্ড শিবিরের ক্রিকেটারদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল, তা ম্যাচের পঞ্চম দিনে চরম আকার নেয়। ভারতের অষ্টম উইকেট পড়ে যাওয়ার পর জসপ্রীত বুমরাহ ব্যাট করতে নামলে পারফরম্যান্সের থেকে প্রতিপক্ষ দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে বেশি জড়িয়ে পড়েছিলেন জস বাটলাররা। তার সুবিধা পেয়ে গিয়েছিলেন মহম্মদ শামি ও জসপ্রীত বুমরাহ। এরপর ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে এলে মাঠে ভারতীয় ক্রিকেটারদের তীব্র স্লেজিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল। সেদিন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক বিরাট কোহলির আগ্রাসন ছিল দেখার মতো।












Click it and Unblock the Notifications