এবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটে স্বপ্নভঙ্গ এই বাঙালির, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ফিরছেন ঘরে
এই মুহূর্তে মন খারাপ করে দেওয়া সবচেয়ে বড় খবর হল ইশানের চোট এতটাই সাংঘাতিক যে তাঁকে দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে। তাঁর স্থানে বিশ্বকাপ দলে ডেকে নেওয়া হয়েছে বিদর্ভের আদিত্য ঠাকরেকে।
নিজেকে উজার করে দিয়েছিলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁর আগুন ঝরানো বোলিং ভারতীয় অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট দলের থিঙ্ক ট্যাঙ্ককে ভরসা জুগিয়েছিল। যার জেরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ওপেনিং স্পেলেই বল করতে গিয়েছিলেন চন্দননগরের ইশান। কিন্তু, পঞ্চম ওভারে বোলিং স্টেপে বিশ্রিভাবে পা হড়কে গিয়ে চোট পান ইশান পোড়েল। চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়েছিল চন্দননগরের এই ছেলেকে।

এই মুহূর্তে মন খারাপ করে দেওয়া সবচেয়ে বড় খবর হল ইশানের চোট এতটাই সাংঘাতিক যে তাঁকে দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে। তাঁর স্থানে বিশ্বকাপ দলে ডেকে নেওয়া হয়েছে বিদর্ভের আদিত্য ঠাকরেকে। জানা গিয়েছে পা হড়কে গিয়ে ইশানের গোড়ালি মচকে গিয়েছে। তাঁকে এখন মাস খানেক বিশ্রামে থাকতে হবে।


আইসিসি অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ দলে আদিত্য ঠাকরের নাম বিবেচিত হয়নি। অথচ, এবার ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ম্যাচে খুবই ভালো ফর্মে ছিলেন আদিত্য। রঞ্জি ম্যাচে দিল্লির বিরুদ্ধে ২টি উইকেটও নিয়েছিলেন। বিসিসিআই-এর নির্বাচকরা এর প্রশংসাও করেছিলেন। কিন্তু, তাতেও বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি আদিত্যর। বর্তমানে তিনি কোচবিহার ট্রফি খেলতে ব্যস্ত। ছয় ম্যাচে ইতিমধ্যে ৩৪টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। কোচ টি কৃষ্ণকুমারও বিশ্বকাপ দলে প্রিয় ছাত্রের নির্বাচন না হওয়ায় হতাশ হয়েছিলেন। সমস্ত মন খারাপ সরিয়ে কোচবিহার ট্রফিতে ভাল পারফর্ম করারই পরামর্শ আদিত্যকে দিয়েছিলেন কৃষ্ণকুমার। পরিবার ও বন্ধুরা মনে করছে গুরুর পরামর্শ মেনে কোচবিহার ট্রফিতে ভাল পারফর্ম করার পুরষ্কার পেলেন আদিত্য। এর আগে বিদর্ভ থেকে ২০০৪ সালে ফয়েজ ফজল অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু, অনুশীলন ম্যাচে আঙুল ভেঙে দেশে ফিরে এসেছিলেন ফয়েজ। আদিত্য অবশ্য পুরোপুরি ফিট এখন। সোমবারই তাঁর ফিটনেস রিপোর্ট চেয়ে পাঠায় বিসিসিআই। এর খানিক পরেই আদিত্যকে এখন কোনও ম্যাচ না খেলার জন্য বিসিসিআই থেকেনির্দেশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার জানানো হয় আদিত্যকে এখন নিউজিল্যান্ড উড়ে যেতে হবে। যোগ দিতে হবে সেখানে অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট দলের সঙ্গে।

এদিকে, আদিত্যর পরিবারে যখন খুশির হাওয়া, তখন কার্যতই হতাশ চন্দননগর। ছেলে ইশানের চোট যাতে সেরে যায় সে জন্য রাতদিন ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করছিলেন মা রীতাদেবী। পোড়েল পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন পাপুয়া নিউ গিনির বিরুদ্ধে হয়তো মাঠে নামবেন ইশান। কিন্তু, তা হয়নি। ইশান এখনও ঠিক করে পা ফেলতে পারছেন না। ইশানের কোচ প্রদীপকুমার মণ্ডলও জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালে ওড়িশায় রঞ্জি ম্যাচ খেলতে গিয়ে কোমরে চোট পেয়েছিলেন তাঁর ছাত্র। যার ফলে ইশানকে কলকাতায় ফিরে আসতে হয় এবং তাঁর রঞ্জি অভিষেক বছর খানেকের জন্য পিছিয়ে যায়। এবারও একই ধরনের ঘটনায় বিশ্বকাপ থেকে ইশান ছিটকে যাওয়ায় মন খারাপ প্রদীপ মণ্ডলের। ইশানের বাবা চন্দ্রনাথ পোড়েলও জানিয়েছিলেন, ছেলের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণটাই নির্ভর করছিল এমআরআই রিপোর্টের উপরে- সে কথা ইশান জানিয়েছিল। দাদা চোট পাওয়ায় মন খারাপ খুড়তুতো ভাই অভিষেক পোড়েলেরও। তাঁর মন এতটাই খারাপ ছিল যে টিভি-ই বন্ধ করে দিয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications