একটা একটা বল পড়ে আর রাশি রাশি টাকা ওড়ে, আইপিএলের নান্দনিকতায় থাবা বেটিংয়ের
টি-২০ লিগ মানে শুধু ক্রিকেটারদের নিলামই নয়, টি-২০ লিগ মানে কোটি টাকা রোজগারের হাতছানি দর্শকদের কাছে। একটা একটা বল পড়ে আর রাশি রাশি টাকা ওড়ে টি-২০ লিগে। মানে আইপিএলেও। এককথায় অনলাইন বেটিং অ্যাপ বদলে দিয়েছে ক্রিকেট দর্শনকে।
তাই এখন আর আইপিএল দেখা নয়, আইপিএল মানেই ইনকাম। ক্রিকেটীয় সৌন্দর্যকে উড়িয়ে এখন রাজ ক্রিকেট আয়ের। আর এই আয়ের লোভেই অপরাধ বাড়ছে। আইপিএলের ফাইনালেও বাজি ধরার প্রবণতা ছিল প্রবল। পরতে পরতে ম্যাচের রং বদলে যাওয়ায় বাজি ধরার উপদানও বলবৎ ছিল চেন্নাই ও গুজরাতে ফাইনাল ম্যাচে।

রাভেট থেকে আইপিএল বাজি ধরার জন্য চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে অগ্রগতি আসে যখন লোধা বেলমন্ডো প্রাঙ্গনে আইপিএল ক্রিকেট ম্যাচের উপর বাজি ধরার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছিলেন তদন্তকারী অফিসার নীতিন লোখান্ডে।
রাভেটের একটি হাউজিং সোসাইটি থেকে চলমান আইপিএল ম্যাচগুলিতে বাজি ধরায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুলিশ। অভিযুক্তরা, দুর্গেশ পারিখ, শিবদন সিং, সাভারিয়া প্রজাপতি এবং ওমপ্রকাশ চৌধুরীকে আবাসিক কমপ্লেক্স থেকে আটক করা হয়েছিল।
পুলিশ তাদের বেআইনি কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য পেয়ে সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তরা রাজস্থানের বাসিন্দা। জাল নথির মাধ্যমে সিম কার্ড তুলে সেই সিম কার্ডগুলি ব্যবহার করে একটি বেটিং ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিল তারা।
এইভাবে ভুয়ো বেটিং ওয়েবসাইটের চক্করে অনেকেসর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছেন। তবু আইপিএলকে ঘিরে ক্রিকেটীয় উন্মাদনাকে ছাপিয়ে বেটিং চক্রের বাড়বাড়ন্ত হয়েই চলেছে। ক্রিকেটের নান্দনিকতা লোপ পাচ্ছে অর্থ উপার্জনের যুপকাষ্ঠে পড়ে। বলা যায়, ক্রিকেটের সৌন্দর্য্য আজ বেটিং গ্রাসে পড়ে হাঁসফাঁস করছে।

'শুধু ক্রিকেট দেখো না, টিম বানিয়ে ফেলো। আর তাড়াতাড়ি জিতে নাও কোটি টাকা'। কিংবা কেউ কেউ ওয়ানলাইনার দিয়ে উসকানি দিচ্ছেন, 'তুমি টিম বানাও, বাকিটা আমি দেখছি'। খুব সহজেই ক্রিকেট অনুরাগীরা প্রভাবিত হচ্ছেন আর বদলে যাচ্ছে বেটিং অনুরাগীতে। বাড়ছে অপরাধমনস্কতা।
এই ধরনের অনলাইন বেটিং অ্যাপে খুব সহজে কেউ কেউ একদিনের রোজগার, কখনো বা এক সপ্তাহের রোজগার, কখনো বা সারা মাসের রোজগার করে ফেলছেন। অনেকেরই এমন মানসিকতা একবার-দুবার টাকা খোয়ালেও যায় আসে না, ইনরাম আসবেই। আর তা করতে গিয়েই সব মাটি হয়ে যাচ্ছে।
এবার ষষ্ঠদশ আইপিএলের মোট বিজ্ঞাপনের ২০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ইনকাম গেমিং অ্যাপ থেকে। টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, তত লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে লগ্নির পরিমাণ। তা করতে গিয়ে অনেকে ফতুর হয়ে গিয়েছে, অনেকে হয়েছে রাজা। বেটিং সিন্ডিকেট বৃহত্তম অর্থনীতির অঙ্গ হয়ে উঠেছে। তাতেই হাঁসফাঁসল অবস্থা আইপিএলের নান্দনিকতার। ফের কি শ্রী ফিরবে, নাকি বেটিংয়ের যুপকাষ্ঠে শেষ হয়ে যাবে সৌন্দর্য্য।












Click it and Unblock the Notifications