আইপিএল কীভাবে বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে শক্তিধর লিগ? পুরস্কারমূল্য বৃদ্ধির নজির চমকপ্রদ
আইপিএল ২০০৮ সাল থেকে শুরু হয়েছিল। এবার ষোড়শ সংস্করণ চলছে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স জিতেছে পাঁচবার। চেন্নাই সুপার কিংস চারবার খেতাব জিতেছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স ২ বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
রাজস্থান রয়্যালস চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল প্রথমবার। দ্বিতীয় সংস্করণটি জেতে ডেকান চার্জার্স। এ ছাড়া সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও গুজরাত টাইটান্স ১ বার করে আইপিএল জিতেছে। ১৫টি সংস্করণে প্রাইজমানি বৃদ্ধি হয়েছে চারগুণ।

আইপিএল জিতে ২০০৮ সালে রাজস্থান রয়্যালস প্রাইজমানি বাবদ পেয়েছিল ৪ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। রানার-আপ দল পেয়েছিল ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। ২০০৯ সালের আইপিএলে প্রাইজমানি অপরিবর্তিত ছিল। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল অবধি যে দলগুলি আইপিএল জিতেছে তারা পেয়েছে ১০ কোটি টাকা। রানার-আপ দলের প্রাপ্তি ৫ কোটি টাকা।
২০১৪ সালের আইপিএল থেকে প্রাইজমানির পরিমাণ ফের বাড়ানো হয়। ২০১৫ সালে তা অপরিবর্তিত থাকে। আইপিএল খেতাবজয়ী দলের প্রাইজমানি বাড়িয়ে ১৫ কোটি টাকা করা হয়। রানার-আপ দল পায় ১০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের আইপিএল থেকে আবারও বাড়ানো হয় প্রাইজমানির পরিমাণ। ২০১৯ সাল পর্যন্ত তা অপরিবর্তিত থাকে।

আইপিএল ফাইনালে জেতা দল পায় ২০ কোটি টাকা। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে রানার-আপ দল পায় ১১ কোটি টাকা করে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে সেটা বাড়িয়ে ১২.৫০ কোটি টাকা করা হয়। করোনাকালে ২০২০ সালের আইপিএলের প্রাইজমানির পরিমাণ কমানো হয়। চ্যাম্পিয়ন দল ১০ কোটি ও রানার-আপকে দেওয়া হয় ৬.২৫ কোটি টাকা।
যদিও ২০২১ সালে প্রাইজমানি বাড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ২০ কোটি ও রানার-আপ দলের জন্য ১২.৫ কোটি টাকা করা হয়। ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন দলের একই পুরস্কারমূল্য ধার্য ছিল। তবে রানার-আপ দলকে দেওয়া হয় ১৩ কোটি টাকা। এবার তা বাড়ানো হয় কিনা সেটা দেখার।

আইপিএল এখন বিশ্বের জনপ্রিয় নানা লিগকে টেক্কা দিচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয়। আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রাক্তন সদস্য রবি শাস্ত্রী স্টার স্পোর্টসে বলেন, ২০০৭ সালে ভারত টি ২০ বিশ্বকাপ জেতায় আইপিএলকে ঘিরে প্রথম থেকে অবিশ্বাস্য আগ্রহ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। যে সাপোর্ট দেখা গিয়েছিল তা আর কোথাও দেখিনি।
রবি শাস্ত্রীর কথায়, মনে হচ্ছিল যেন গোটা দেশ একসঙ্গে ম্যাচ দেখতে হাজির থাকছে। বিজ্ঞাপন জগৎ থেকে ক্রিকেটভক্ত, বলিউড, কলিউড, টলিউড, সব ক্ষেত্রের মানুষজন এসেছেন। প্রথম ম্যাচ থেকে যে মানের ক্রিকেট ম্যাচ হয়েছে তা নির্বিকল্প। ভালো মানের ক্রিকেটাররা ছিলেন, ভালো ক্রিকেটের কারণেই আইপিএলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

শাস্ত্রীর মতে, আইপিএল অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তা হওয়ায়। ভারতের মতো দক্ষিণ আফ্রিকাতেও একই আগ্রহ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এটাই বিশ্বকে আলোড়িত করে দেয়। অনেকেই আইপিএল দল কিনতে আগ্রহ দেখান। ফুটবলে যেমনটা হয় তেমন আইপিএলে হয়েছিল দ্বিতীয় বছর থেকেই। আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অনেক বছরে ফ্যানের সংখ্যা বাড়িয়েছে। কিন্তু মুম্বই, চেন্নাই বা আরসিবির ফ্যান বেস তৈরি হয় দুই বছরেই।
আইপিএলের সব খবরের আপডেট, স্কোর, স্ট্যাটিসটিক্স, ছবি, ভিডিও একনজরে












Click it and Unblock the Notifications