আইপিএল নিলামে দাপট ভারতীয়দের, ৫৩ গুণ বেশি দর হর্ষলের, গৌতমের বেতন কমল ৯০ শতাংশ
আইপিএল নিলামের পর ১০টি দলের হাতে মোট রয়েছেন ২০৪ জন ক্রিকেটার। তাঁদের মধ্যে বিদেশি ৬৭ জন। রিটেনশন, ড্রাফট পিক ও নিলামের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের কিনতে ৫৫১কোটি ৭০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। অনেকে যেমন পেয়েছেন অপ্রত্যাশিত দর, তেমনই দল পাননি বহু তারকা। কেউ আবার দল পেলেও বেতন কমে গিয়েছে অনেকটাই। এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানের দিকে নজর রাখা যাক:
|
ভারতীয়দের দাপট
আইপিএল নিলামে সবচয়ে বেশি দর পাওয়া ক্রিকেটারদের তালিকার প্রথম ৮ জনের তালিকায় ভারতীয়দের দাপটই বেশি। নিলামে সবচেয়ে বেশি দর পেয়েছেন ঈশান কিষাণ। ১৫.২৫ কোটি টাকায় তাঁকে ফিরিয়ে নিয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। দীপক চাহারকে ১৪ কোটি টাকায় নিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। শ্রেয়স আইয়ারকে ১২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা দিয়ে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। পাঞ্চাব কিংস ১১.২৫ কোটি টাকায় নিয়েছে ইংল্যান্ডের লিয়াম লিভিংস্টোনকে। ১০ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা যাঁদের দর উঠেছে তাঁরা হলেন- দিল্লি ক্যাপিটালসের শার্দুল ঠাকুর, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গা ও হর্ষল প্যাটেল ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নিকোলাস পুরাণ।
|
নিলামের রেকর্ড
২০৪ জন ক্রিকেটারের মধ্যে ১৩৭ জন ভারতীয় ক্রিকেটারের মোট দর উঠেছে ৩১৪ কোটি টাকা, গড়ে ২.২৯ কোটি টাকা। সাড়ে ৭ কোটি টাকা বা তার বেশি দর পেয়েছেন ১৫ জন। বিদেশিদের মধ্যে ৬৭ জন ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে খরচ প্রায় ২৩৮ কোটি টাকা, গড় ৩.৫৫ কোটি। সাড়ে ৭ কোটি বা তার বেশি দর ১৩ জনের। ১০ কোটি বা তার বেশি দর পেয়েছেন ১১ জন, আইপিএল নিলামের ইতিহাসে এটি রেকর্ড।

নয়া নজির
চেন্নাই সুপার কিংস দীপক চাহারের জন্য ১৪ কোটি টাকা খরচ করেছে। নিলামের ইতিহাসে এর আগে সিএসকে কোনও ক্রিকেটারের জন্য ১০ কোটি টাকা খরচ করেনি, এবারই তা প্রথম হলো। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সও এই প্রথম কোনও ক্রিকেটারের জন্য নিলামে ১০ কোটির বেশি দর দিল, ঈশান কিষাণকে নিতে ১৫.২৫ কোটি টাকা খরচ হলো আম্বানিদের দলের। কিষাণের পাশাপাশি টিম ডেভিডের জন্য ৮.২৫ কোটি ও জোফ্রা আর্চারের জন্য ৮ কোটি খরচ করেছে মুম্বই। নিলামে বাকি ১৮ জন ক্রিকেটারের জন্য মুম্বই খরচ করেছে ১৬.৪ কোটি টাকা।

বেতন বৃদ্ধি
২০০০ শতাংশ বা তার বেশি বেতন বৃদ্ধি হয়েছে পাঁচজন ক্রিকেটারের। তাঁদের মধ্যে ৪ জন গতবার ছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরে। হর্ষল প্যাটেলের গত বছর দর ছিল ২০ লক্ষ টাকা, এবার তিনি পাচ্ছেন ১০.৭৫ কোটি, যা আগের দরের ৫২.৭৫ গুণ বেশি। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর আগের বছর দর ছিল ২০ লক্ষ, কেকেআরের প্রাক্তন পেসারের এবার রাজস্থানে দর উঠেছে ১০ কোটি, যা ৪৯ গুণ বেশি। টিম ডেভিড এবার আরসিবি থেকে মুম্বইয়ে, গতবার তিনি ২০ লক্ষে ছিলেন বিরাটদের দলে, এবার তাঁকে ৮.২৫ কোটি টাকায় নিয়েছে মুম্বই, দর বেড়েছে ৪০.২৫ গুণ। আরসিবিতে ২০ লক্ষে ছিলেন দেবদত্ত পাড়িক্কল, রাজস্থান এবার তাঁকে নিয়েছে ৭.৭৫ কোটিতে, ৩৭৭৫ শতাংশ দর বৃদ্ধি হয়েছে। ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গা গত বছর আরসিবিতে ছিলেন ৫০ লক্ষে, এবার আরসিবি তাঁকে দিয়েছে ১০.৭৫ কোটি টাকা, গতবারের চেয়ে ২০৫০ শতাংশ বেশি দর পাচ্ছেন তিনি।

বেতনে কোপ
সবথেকে বেশি বেতন ছাঁটাই হলো যে ক্রিকেটারদের তাঁদের মধ্যে প্রথম পাঁচে দুই ভারতীয়। কৃষ্ণাপ্পা গৌতম গত বছর চেন্নাই সুপার কিংসে ছিলেন ৯.২৫ কোটি টাকায়, এবার তাঁকে ৯০ লক্ষে নিয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টস, ৯০.২৭ শতাংশ ছাঁটাই বেতনে। কর্ণ শর্মা গত বছর সিএসকেতে পেতেন ৫ কোটি, তাঁর দর নেমে এসেছে ৫০ লক্ষে, আরসিবিতে গিয়ে তাঁর বেতন কমেছে ৯০ শতাংশ। প্রিয়ম গর্গ সানরাইজার্স হায়দরাবাদে পেতেন ১.৯ কোটি, এবার তাঁকে ২০ লক্ষে নিয়েছে সানরাইজার্স, বেতন কমেছে ৮৯.৪৭ শতাংশ। টাইমাল মিলস ২০১৭ সালে আরসিবিতে পেয়েছিলেন ১২ কোটি, এবার তিনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে সুযোগ পেয়েছেন দেড় কোটিতে, বেতন কমেছে ৮৭.৫০ শতাংশ। রাইলে মেয়ারডিথ গত বছর পাঞ্জাব কিংসে ছিলেন ৮ কোটিতে, এবার মুম্বইয়ে পেলেন ১ কোটি, বেতন ছাঁটাই ৮৭.৫০ শতাংশ। জয়দেব উনাদকাটকে ১.৩ কোটিতে কিনেছে মুম্বই। আইপিএল নিলামে এই নিয়ে ১০ বার তিনি দল পেলেন, এই নজির আরও কারও নেই। দীনেশ কার্তিক ও নাথান কুল্টার-নাইল আইপিএল নিলামে দর পেলেন সপ্তমবার। আইপিএলে অ্যারন ফিঞ্চ ৮টি দলের হয়ে খেলেছেন। উনাদকাট মুম্বইয়ের হয়ে খেলার সুযোগ পেলে তিনি ষষ্ঠ দলের হয়ে আইপিএল খেলবেন।












Click it and Unblock the Notifications