IPL 2025: টিকিট নিয়ে টালবাহানা, হুমকি থেকে ব্ল্যাকমেল! HCA সভাপতির বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সানরাইজার্সের
IPL 2025: সানরাইজার্স হায়দরাদের সঙ্গে হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সংঘাত তীব্র আকার নিল। বিষয়টি নিয়ে বিসিসিআই ও আইপিএলের দ্বারস্থ হলো সানরাইজার্স কর্তৃপক্ষ।
যদিও এইচসিএ সচিব, সিইও ও বাকি কর্তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথাও স্বীকার করেছে সানরাইজার্স। যদিও এইচসিএ সভাপতির বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলা হয়েছে। দাবি ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ খেলে হায়দরাবাদের উপ্পলে রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে। এই দলের মালিকানা রয়েছে চেন্নাইয়ের সান গ্রুপের। চাহিদামতো টিকিট না মেলায় এবং টিকিট নিয়ে তাঁর যাবতীয় দাবি সানরাইজার্স না মানায় ২৭ মার্চ হায়দরাবাদ বনাম লখনউ ম্যাচে এইচসিএ সভাপতি জগনমোহন রাও প্রবল অসহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ।
জগনমোহন রাও সানরাইজার্সের আধিকারিকদের হুমকি দিয়েছেন। বলপ্রয়োগ করেছেন। এমনকী ব্ল্যাকমেল করেন বলে অভিযোগ। আইপিএলের আগে থেকেই এইচসিএ সভাপতি জবরদস্তি করছেন, হুমকি দিচ্ছেন সানরাইজার্সের স্টাফদের। সে কথা তাঁকেই মেল করে লিপিবদ্ধ করিয়েছে সানরাইজার্স। যা পাঠানো হয়েছে এইচসিএ অ্যাপেক্স কাউন্সিলেও।
২৭ মার্চ উপ্পলে হায়দরাবাদের সঙ্গে লখনউয়ের খেলা ছিল। সেই ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে লখনউয়ের কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কার জন্য বরাদ্দ এফ ৩ কর্পোরেট বক্সে এইচসিএ সভাপতি তালা লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ। ম্যাচের আগে ২০টি কমপ্লিমেন্টারি পাসের জন্য চাপ বাড়াতেই তিনি জেনেশুনে এমনটা করেন বলে অভিযোগ।
সানরাইজার্সের অভিযোগ, ব্যক্তিগত টিকিট ও পাসের জন্য তিনি অনেকদিন ধরেই আইপিএলের হায়দরাবাদ দলের ম্যানেজমেন্টকে বিরক্ত করে চলেছেন। আইপিএল শুরুর আগে এইচসিএ সভাপতি বলেন, তাঁর জন্য প্রতি ম্য়াচে ১০ শতাংশ টিকিট আলাদাভাবে বরাদ্দ করতে। তিনি নিজে তা ব্যক্তিগতভাবে কিনবেন। টিকিট কেনার আলাদা লিঙ্ক দিতেও বলা হয়।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের তরফে জানানো হয়েছে, এমনিতে প্রতি ম্যাচে ৩৯০০টি করে কমপ্লিমেন্টারি পাস এইচসিএকে দেওয়া হয়। সভাপতি এর বাইরে আলাদা করে ৩৯০০টি টিকিট বরাদ্দ করতে বললে প্রথমে রাজি হয়নি সানরাইজার্স। তাতে সমর্থকদের বঞ্চিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতো। টিকিট নিয়ে স্বচ্ছতা থাকতো না।
সানরাইজার্স রাজি হচ্ছে না দেখে দাবি কমিয়ে আড়াই হাজার টিকিট দিতে বলেন এইচসিএ সভাপতি। সানরাইজার্স এক হাজার টিকিট দিতে রাজি হলে মাঠে যে স্টাফেরা ছিলেন তাঁদের এইচসিএ সভাপতি হুমকি দেন। এই পরিস্থিতিতে ২ হাজার টিকিট দিতে রাজি হয় সানরাইজার্স।
যদিও সানরাইজার্সের তরফে বলা হয়, এই টিকিট ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে নয়, এইচসিএ-র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকেই কিনতে হবে। না হলে কালোবাজারির আশঙ্কা তৈরি হতো। এইচসিএ সভাপতির জবরদস্তি, হুমকির কারণেই বাড়তি টিকিট দিতে রাজি হয় সানরাইজার্স। যদিও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের শর্তে সানরাইজার্স অনড় থাকায় এইচসিএ সভাপতি কোনও উত্তর দেননি।
সানরাইজার্সের দাবি, ৩৯০০টি টিকিট দেওয়া হলেও ম্যাচের আগে তাদের এফ ১২ এ বক্সের ২০টি টিকিট জগনমোহন রাওয়ের নির্দেশে ফিরিয়ে অন্য বক্সের টিকিট দিতে বলা হয়। ফলে ৩৮৮০টি টিকিট দেওয়ার কথা ভিত্তিহীন।
উপ্পল স্টেডিয়ামে যাবতীয় সংস্কার কাজের কৃতিত্ব একাই নিচ্ছেন এইচসিএ সভাপতি। এতেও আপত্তি সানরাইজার্সের। এমনিতে প্রতি ম্যাচ আয়োজনে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকে ১ কোটি টাকা করে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজি। স্টেডিয়াম রং করা থেকে শৌচাগারের সংস্কার, বক্সগুলি উন্নত করা, এসি লাগানোয় খরচ করেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মালিক সান গ্রুপ।
কিন্তু এইচসিএ সভাপতি একাই সব কিছু তিনি করেছেন বলে দাবি করায় সানরাইজার্সের তরফে তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হয় যৌথ সাংবাদিক বৈঠক আয়োজনের। বাস্তব তথ্য সামনে আনতে। কিন্তু তা তিনি করেননি। তবে সানরাইজার্স যে সংস্কারের কাজ করেছে সেটা স্বীকার করেন জগনমোহন।
Camaraderie beyond the contest 🧡💙#PlayWithFire | #DCvSRH | #TATAIPL2025 pic.twitter.com/zB5DJTNwrU
— SunRisers Hyderabad (@SunRisers) March 31, 2025
যাবতীয় বিতর্কের অবসানে হায়দরাবাদ ক্রিকেট সংস্থার অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠকে বসতেও রাজি সানরাইজার্স কর্তৃপক্ষ। এইচসিএ সভাপতির অপেশাদার মনোভাবে বিরক্ত সানরাইজার্স। সহ্যের সীমা ছাড়ায় গোয়েঙ্কার জন্য বরাদ্দ বক্সে এইচসিএ সভাপতি তালা ঝোলানোয়। তারপরই যাবতীয় অনিয়ম সামনে আনল সানরাইজার্স। এখনও এ বিষয়ে এইচসিএ সভাপতি কিছু বলেননি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ যে হোম গ্রাউন্ড অন্যত্র সরানোর ভাবনাচিন্তা করছে না এইচসিএর সিংহভাগের প্রশংসায় সেই ইঙ্গিত রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications