IPL 2025: মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে দুরন্ত জয় লখনউয়ের, আত্মবিশ্বাস নিয়েই কলকাতায় আসছেন পন্থরা
শুক্রবার আইপিএলে মুখোমুখি হয়েছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এই ম্যাচে ১২ রানে জয় পেল লখনউ।
টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া। চোটের জন্য এই ম্যাচে খেলতে পারেননি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অভিজ্ঞ ব্যাটার রোহিত শর্মা। টসে হেরে ব্যাট করতে নামা লখনউ দলের কাছে লক্ষ্য ছিল স্কোরবোর্ডে বড় রান তোলা। লখনউ দলের হয়ে শুরুটা ভালোই করেন মিচেল মার্শ, এইডেন মার্করাম জুটি। ওপেনিং জুটিতেই উঠে ৭৬ রান।

পেসাররা উইকেট না পাওয়ায় হার্দিক আনেন স্পিনার ভিগনেশ পুথুরকে। নিজের প্রথম ওভারেই পুথুর মার্শকে আউট করে দেন। ৯টি চার এবং ২টি ছয় মেরে ৩১ বলে ৬০ রান করে আউট হন মার্শ। নিকোলাস পুরাণ এই ম্যাচে ব্যর্থ হলেন। ৬ বলে ১২ রান করে হার্দিক পাণ্ডিয়ার বলে আউট হলেন পুরাণ। এই ম্যাচেও ব্য়াট হাতে ব্যর্থ হলেন পন্থ। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে লখনউ অধিনায়ক করলেন ২ রানে। আইপিএলের চার ম্যাচে লখনউয়ের জার্সিতে পন্থের রান যথাক্রমে ০, ১৫, ২, ২।
মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে তিনি ফিরলেন ৬ বলে ২ রান করে। হার্দিক পাণ্ডিয়ার বলে কোরবিন বশের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হলেন পন্থ। মার্করাম এই ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করলেন। লখনউয়ের হয়ে আগের তিনটি ম্যাচেই রান করতে পারেননি। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ৩৮ বলে ৫৩ রান করলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার এবং চারটি ছক্কা।
এরপর দ্রুতলয়ে রান তোলার চেষ্টা করেন আয়ুষ বাদোনি । ৯ বলে ৩০ রান করেন। বড় রান পাননি ডেভিড মিলারও । ১৪ বলে ২৭ রকান করে আউইট হলেন প্রোটিয়া তারকা। আবদুল, শার্দুল বা আকাশদীপরা সেভাবে রান করতে পারলে না। কিন্তু তাও ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে গেল লখনউ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ২০৩ রান তুলল লখনউ।
মুম্বইয়ের বোলিংয়ের নায়ক অধিনায়ক পাণ্ডিয়া। পাঁচ উইকেট পূরণ করেন হার্দিক। ৪ ওভারে ৩৬ রান খরচ করে ৫ উইকেট নিলেন পাণ্ডিয়া। বোল্ট, অশ্বিনী কুমার, ভিগনেশ একটি করে উইকেট নেন।
জবাবে ব্য়াট করতে নেমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। উইল জ্যাকস, রায়ান রিকেলটন দলকে বড় রানের দিশা দেখাতে পারলেন না। উইল জ্যাকস ৭ বলে ৫ রানে আকাশদীপের বলে, রায়ান রিকেলটন ৫ বলে ১০ রান করে শার্দুলের বলে আউট হলেন। শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে মুম্বই।
কঠিন পরিস্থিতিতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন নমন ধীর এবং সূর্যকুমার যাদব। ২৪ বলে ৪৬ রান করে রাঠীর বলে আউট হলেন নমন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার এবং তিনটি ছক্কা। এরপর সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে জুটি বাধেন পরিবর্ত হিসাবে নামা তিলক ভার্মা। ৪০ বলে ৫০ রানের পার্টনারশিপ তৈরি করেন। শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ৬৭ রান করে আউট হলেন সূর্য। শেষদিকে টান টান হল এই ম্যাচ।
শেষদিকে দুরন্ত বোলিং করলেন লখনউ বোলাররা। বিশেষ করে ১৯ ওভারে শার্দুল। ২৩ বলে ২৫ রান করে তিলক রিটায়ার আউট হলেন। তাঁর পরিবর্তে নামলেন মিচেল স্যান্টনার।শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২২ রান। বল করতে আসেন আবেশ খান। প্রথম বলেই হার্দিক ছক্কা মারেন। পরের বলেই ২ রান করেন। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে কোনও রান হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১২ রানে জয় পেল লখনউ।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯১ রান তুলতে সক্ষম হল লখনউ। হার্দিক ১৬ বলে ২৮ রানে অপরাজিত থাকলেন। লখনউ দলের সেরা বোলার রাঠী। ৪ ওভারে ২১ রান খরচ করে ১ উইকেট নিলেন, এই ম্য়াচ জিতে ৪ ম্য়াচে ৪ পয়েন্ট ও প্লাস ০.০৪৮ রানরেট নিয়ে ৬ নম্বরে থাকল লখনউ। ৪ ম্য়াচে ২ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে মুম্বই।
লখনউয়ের পরের ম্য়াচ কেকেআরের সঙ্গে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নিয়েই কলকাতায় আসছেন পন্থরা।












Click it and Unblock the Notifications