IPL 2025 Exclusive: সুজনের হাতিয়ার বিসিসিআইয়ের গাইডলাইন, ইডেনের পিচের চরিত্র রাতারাতি বদল সম্ভব নয় কেন?
IPL 2025 Exclusive: ইডেনে হয়েছে শুধু আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচ। তাতেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পিচ। প্রথম ম্যাচে কেকেআর হেরেছিল আরসিবির কাছে।
ম্যাচের শেষে কেকেআর অধিনায়ক অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেন, স্পিন পিচ হলে ভালো হতো। তারপরই একাংশের সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে ঝড়।

শেম অন সিএবি ট্যাগ ট্রেন্ডিং হয়েছে। ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের মুণ্ডপাত চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও সকলেই একটা বিষয় মাথায় রাখছেন না, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আইপিএলেই সেরা মাঠের শিরোপা আদায় করেছে ইডেন। সাইমন ডুল ও হর্ষ ভোগলের বক্তব্যেই বিতর্ক জোরালো হয়েছে। তবে এ সবে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন সুজন মুখোপাধ্যায়।
ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে ইডেনের প্রধান কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় বলেন, বিসিসিআই বা কেকেআরের তরফে পিচ নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। আমি বিসিসিআইয়ের গাইডলাইন মেনেই পিচ বানিয়ে আসছি। এবারও বানাচ্ছি। আগামী ম্যাচগুলির জন্য সেটাই করব। বোর্ডের গাইডলাইনে বলা আছে, পিচ নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা কিছু বলতে পারে না।
পরিসংখ্যান বলছে, কেকেআর-আরসিবি ম্যাচে পড়েছিল ১১ উইকেট। তার মধ্যে ৬টি পেয়েছিলেন স্পিনাররা। আরসিবির ক্রুণাল পাণ্ডিয়া তিনটি ও সুযশ শর্মা ১টি উইকেট পান। কেকেআরের বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিন পান ১টি করে উইকেট। ম্যাচের আগের দিন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কেকেআরের মিস্ট্রি স্পিনারদের নিয়ে বলেছিলেন, দেখুন না কী হয়। বিরাট এমন স্পিনারদের আগেও খেলেছেন। সৌরভের কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলেছিল।
বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা কোচ সৌরাশিস লাহিড়ী ওয়ানইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইডেনের উইকেটের প্রশংসা করলেন। সৌরাশিসের বক্তব্য, ইডেনের পিচ কমপ্যাক্ট। খুব ভালো মাটি দিয়ে বানানো হয়। স্পিন উইকেট করতে হলে জল না দিয়ে শুষ্ক করতে হবে। যাতে মাটির বাঁধন না থাকে। ফলে ইডেনের উইকেটের চরিত্র বদল রাতারাতি সম্ভব নয়।
সৌরাশিসের কথায়, আইপিএল খেলার সঙ্গে বিনোদনের মিশেল। মাঠে দর্শকরা চার-ছয় দেখতে যান, হাই স্কোরিং ম্যাচ দেখতে যান। ভারতের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে সেটাই হচ্ছে। ঘূর্ণি উইকেট হলে প্রথমে ব্যাট করা সুবিধাজনক। কারণ, পরের দিকে বল গ্রিপ করবে। ব্যাটিং করা কঠিন। ১৩০ রান তুলেও জেতা যাবে।
সৌরাশিস আরও বলেন, টি২০ ক্রিকেটে এখন বেশিরভাগ দল টস জিতলে রান তাড়া করতে চায়। ৪০ ওভারে পিচের চরিত্র বিশেষ বদলায় না। কিন্তু টেলর-মেড উইকেট হলে তা হবে না। ধরা যাক, ঘূর্ণি উইকেট বানানো হলো। কেকেআরকে টস হেরে পরে ব্যাট করতে হলে ম্যাচ জেতা সহজ হবে না। তাছাড়া দর্শকরাও লো-স্কোরিং ম্যাচ দেখতে পছন্দ করবেন না।
১০০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ২৫৬ উইকেট রয়েছে সৌরাশিসের। ৭৬টি ৫০ ওভারের ম্যাচে ৬৮ ও টি২০-তে ২২ ম্যাচে ২৫ উইকেটের মালিক তিনি। ইডেনের উইকেটকে হাতের তালুর মতো চেনেন। সৌরাশিস বলেন, এখানে খেলতে সকলেই পছন্দ করেন। উইকেটে বাউন্স থাকে। বল ভালো ব্যাটে আসে। বছরের পর বছর এই মাঠ সেরা হয়ে আসছে। ক্রিকেটের মূল বিষয় ব্যাটিং, জোরে বোলিং ও স্পিন বোলিং। তিন ধরনের বিভাগ ইডেনের উইকেটে সমানভাবে সাহায্য আদায় করে নেয়।
Nope … not all those wkts 😄
— Karthik Rao (@Cric_Karthikk) March 22, 2025
Best part was his bouncer to Venky 🤣
Scared the 💩 out of him, got into his head , made him wear a ⛑️, dismissed him very next ball
Alpha “Pandya” mentality, GameChanger
Venky was the key there for KKR -> for next 2/3 overs at the least https://t.co/AFlWAJBS5m pic.twitter.com/X6umlXPBUT
সৌরাশিস ওয়ানইন্ডিয়াকে বলেন, ক্রিকেটমহলে ইডেনের সুনাম রয়েছে ভালো উইকেটের জন্য। কিন্তু যদি স্পিনারদের জন্য উইকেট বানানো হয় তাহলে তা ইডেনের পক্ষে ভালো বিজ্ঞাপন হবে না। সব বিভাগে যাতে ভারসাম্য বজায় থাকে তেমন উইকেটই ইডেনে হচ্ছে।
কেকেআরের ইডেনে পরবর্তী ম্যাচ ৩ এপ্রিল। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে। যে দল মূলত পেস-নির্ভর। প্যাট কামিন্স, মহম্মদ শামি, হর্ষল প্যাটেল, সিমরজিৎ সিং রয়েছেন। স্পিনারদের মধ্যে আছেন অ্যাডাম জাম্পা, অভিষেক শর্মাও বল করছেন।
কেকেআরের স্পিন আক্রমণ বৈচিত্র্যপূর্ণ। সুনীল নারিন, বরুণ চক্রবর্তী তো আছেনই। নারিনের অনুপস্থিতিতে বল হাতে সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন মঈন আলি। সৌরাশিসের কথায়, ট্যাকটিক্যাল কারণে কেকেআর সানরাইজার্স ম্যাচে এমন পিচ চাইতে পারে যাতে স্পিনাররা বেশি কার্যকরী হন। কারণ প্রতিপক্ষে ভালো পেসাররা আছেন। উইকেটে জল কম দিয়ে বা রোল কম করালেই তা হতে পারে। তবে বিতর্ক নয়। কেকেআরের ম্যানেজমেন্ট যদি কিউরেটরের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলে, তেমন পরিবেশই তো প্রত্যাশিত।












Click it and Unblock the Notifications