IPL 2025: কেকেআর-সানরাইজার্স ম্যাচে নজরে ইডেনের বাইশ গজ, হোম অ্যাডভান্টেজের কাঁদুনিতে বড় ভাবনা বিসিসিআইয়ের

IPL 2025: আইপিএলে আজ ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্স খেলবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচে। এই নিয়ে চলতি আইপিএলে দ্বিতীয় হোম ম্যাচ খেলবে নাইটরা।

নজর থাকবে ইডেনের বাইশ গজে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আইপিএলের পিচ নিয়ে সন্তোষ রয়েছে বিসিসিআইয়ের অন্দরে। খুব একটা পাত্তা দেওয়া হচ্ছে না হোম অ্যাডভান্টেজ নিয়ে কাঁদুনি গাওয়াকেও।

IPL 2025 -

বিসিসিআই পিচ তৈরির যে গাইডলাইন বিভিন্ন রাজ্য সংস্থার কিউরেটরদের কাছে পাঠিয়েছে তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পুরোপুরি টার্নিং ট্র্যাক বানানো যাবে না। পিচে বাউন্স ও ক্যারি থাকবে। অত্যধিক সিম মুভমেন্ট বা বল ঘোরার মতো পরিস্থিতি যেন না থাকে।

এমনকী বোর্ডসূত্রে খবর, যেহেতু আইপিএল অনেকদিন ধরে চলবে এবং গ্রীষ্মকাল তাতে উইকেটের বাঁধুনি ধরে রাখতে ঘাসও রাখতে হবে। ইডেনে প্রথম ম্যাচ হারার পর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে জানিয়েছিলেন, তাঁরা আরও বেশি স্পিন সহায়ক উইকেট আশা করেছিলেন।

Take a Poll

কেকেআরের মূল ভরসা স্পিনাররা। সুনীল নারিন, বরুণ চক্রবর্তী, মঈন আলিরা রয়েছেন। সিএবির কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় অবশ্য বারেবারেই বলে এসেছেন, নাইট শিবির থেকে কোনও অসন্তোষের বার্তা তিনি পাননি। তাছাড়া কেকেআরের যদি কেউ নিজেদের পছন্দের কথা বলেন তাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু পিচ বানানো হচ্ছে বোর়্ডের গাইডলাইন মেনেই।

বিসিসিআইয়ের গাইডলাইনেও বলা আছে, কোন পিচে খেলা হবে, কোন পিচে প্র্যাকটিস হবে, সেই বিষয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি বা টিম ম্যানেজমেন্টের কেউ কোনও মতামত দিতে পারবেন না। কিউরেটররাই সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি কোনও বিষয়ে কিছু বলার থাকে তা জানাতে হবে বোর্ডের কিউরেটরকে। তিনি প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেবেন।

আজ ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম সানরাইজার্স ম্যাচ যে পিচে খেলা হবে তা নিয়ে সুজন মুখোপাধ্যায় বলেছেন, এটা ফ্রেশ পিচ নয়। আগেও খেলা হয়েছে। তাছাড়া কেকেআরের প্রথম ম্যাচেও বল ঘুরেছিল। এদিনও যেমন বল ঘুরবে, তেমনই বাউন্স থাকবে। ভালো ম্যাচ হবে। যদিও দেখা গিয়েছে, পিচ শুষ্ক। সূত্রের খবর, কয়েকদিন ধরেই জল কম দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু কেকেআর নয়, দিল্লি ক্যাপিটালস ও লখনউ সুপার জায়ান্টসও হোম অ্যাডভান্টেজ না পেয়ে বিরক্ত। বিশাখাপত্তনমে যে পিচ তৈরি হয়েছিল তাতে খুশি নয় দিল্লি ক্যাপিটালস। উল্লেখ্য, দিল্লি ক্যাপিটালসে ডিরেক্টর অব ক্রিকেট থাকাকালীন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিয়মিত কোটলার পিচ দেখতেন। তাতে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের পিচের চরিত্র বদলায়। হাই স্কোরিং ম্যাচও হয়েছে।

লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে পাঞ্জাব কিংস বিধ্বস্ত করেছে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে। দলের মেন্টর জাহির খান স্পষ্ট বলেছেন, আইপিএলে হোম অ্যাডভান্টেজ পাওয়া প্রত্যাশিত। কিন্তু এমন পিচ হয়েছে দেখে মনে হচ্ছিল যেন পাঞ্জাবের কিউরেটর পিচ বানিয়েছেন। পরের ম্যাচ থেকে সেটা যাতে হয় সেটা দেখার কথাও বলেছেন জাহির।

ময়াঙ্ক যাদব, আকাশ দীপদের এথনও পায়নি লখনউ সুপার জায়ান্টস। ফলে তাঁদের পেস ব্য়াটারি দুর্বল। ফলে মন্থর উইকেটই আপাতত পছন্দ তাদের। লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামের উইকেট সাধারণভাবে মন্থরই হয়। কিন্তু এবার তা পেসারদের সহায়তা করেছে। তাতে ভরাডুবি হয়েছে লখনউয়ের। সে কারণেই অসন্তুষ্ট জাহির।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বোর্ডসূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে এবার আইপিএলের পিচ নিয়ে খুশি বিসিসিআই। বোর্ডের গাইডলাইন মেনেই পিচ তৈরি হয়েছে। কিউরেটরদের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির ভালো বোঝাপড়া থাকলে সমস্যা যে হবে না তেমনটাও মনে করছেন বিসিসিআই কর্তারা।

স্টেডিয়ামের পিচের চরিত্র অনুযায়ী দল গঠন করে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি। ২০১৯ সালে চেন্নাইয়ের চিপকে ঘূর্ণি উইকেটে দাপট দেখাতেন স্পিনাররা। সেজন্য বিভিন্ন কেন্দ্রে বিসিসিআই নিরপেক্ষ কিউরেটর রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। যদি হোম অ্যাডভান্টেজের জন্য বিভিন্ন দল পছন্দসই পিচ তৈরির জন্য চাপ দিতে থাকে তাহলে ফের নিরপেক্ষ কিউরেটর রাখা হতে পারে। কেন না, রাতারাতি স্টেডিয়ামের পিচের চরিত্র বদল সম্ভব নয়। তা বোর্ডের গাইডলাইনেরও পরিপন্থী হবে।

ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে বাংলার প্রাক্তন স্পিনার তথা কোচ সৌরাশিস লাহিড়ি ইতিমধ্যেই বলেছেন, ইডেনে যে উইকেটের মাটি দিয়ে পিচ তৈরি করা হয় তা যথেষ্ট ভালো। সে কারণে ইডেনের সুনামও রয়েছে বল ভালো ব্যাটে আসে। পেসাররা সাহায্য পান। স্পিনাররাও বল ঘোরাতে পারেন।

সৌরাশিসের কথায়, আচমকা পিচের চরিত্র বদল কোনওভাবেই সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে আইপিএলে ক্রিকেটের সঙ্গে বিনোদনের মিশেল থাকে। দর্শকরা চার-ছয় দেখতে মাঠে যান। ইডেনে হাই স্কোরিং ম্যাচ হয়ে থাকে। বিগত কয়েক বছরে ইডেন আইপিএলের সেরা মাঠের তকমা পেয়েছে পিচ আর আউটফিল্ডের জন্যই। এই পরিস্থিতিতে ইডেনের উইকেটের চরিত্র বদল হলে তা সুনামকে ক্ষুণ্ণ করবে। সেটা কাঙ্ক্ষিত নয়।

তবে সৌরাশিস বলেন, কিউরেটরের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের পারস্পরিক যোগাযোগ বা বোঝাপড়া ভালো থাকলে বিতর্ক ছাড়াই পরিস্থিতি অনুকূলে আনা যায়। যেমন, উইকেট রাতারাতি না বদলে জল কম দেওয়া বা রোলিংয়ের বিষয়টি প্রয়োজনমতো করলেও সুবিধা হতে পারে হোম টিমের। কিন্তু ইডেনের উইকেটের যা ঐতিহ্য তাতে বোর্ডের গাইডলাইনের বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না মোটেই। সেটা সিএবি বা ইডেনের কিউরেটর করবেনও না। তাছাড়া কেকেআর-আরসিবি ম্যাচে তো স্পিনাররা উইকেট পেয়েছেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+