IPL 2025: অনভিজ্ঞ বোলিং ডোবাল লখনউকে, আশুতোষের ব্যাটেই দিল্লির রুদ্ধশ্বাস জয়
IPL 2025: রুদ্ধশ্বাস জয় দিয়েই আইপিএল অভিযান শুরু করল দিল্লি ক্যাপিটালস। লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ভোগাল অনভিজ্ঞ বোলিং।
টস জিতে রান তাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিল্লি। পাওয়ারপ্লে-র প্রথম ৬ ওভারে চার উইকেট হারালেও সাতে নামা আশুতোষ শর্মা একাই কার্যত নিশ্চিত করলেন দুরন্ত জয়।

এই ম্যাচে মাঠে ছিলেন বাংলার চার প্রতিনিধি। লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে খেললেন শাহবাজ আহমেদ। দিল্লি ক্যাপিটালস দলে ছিলেন মুকেশ কুমার ও অভিষেক পোড়েল। সেই সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনা করলেন বাংলার আম্পায়ার অভিজিৎ ভট্টাচার্য।
টস জিতে লখনউকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি ক্যাপিটালস অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল। শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যেতে থাকে ঋষভ পন্থের দল। এইডেন মার্করাম ১৩ বলে ১৫ রান করেন। এরপর ঝড়ের তীব্রতা বাড়ান নিকোলাস পুরাণ ও মিচেল মার্শ।
মার্শ ২১ ও পুরাণ ২৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। মার্শের এটি দ্রুততম আইপিএল অর্ধশতরান। ৬টি করে চার ও ছয় মেরে মার্শ করেন ৩৬ বলে ৭২। নিকোলাস পুরাণ তিনে নেমে ৬টি চার ও সাতটি ছয়ের সাহায্যে ৩০ বলে ৭৫ রান করেন।
১৯ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন ডেভিড মিলার। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বাধিক দর পাওয়া ঋষভ পন্থ শূন্য রানে আউট হন, ৬ বল খেলে। আয়ুষ বাদোনি ৪, শার্দুল ঠাকুর ০, শাহবাজ ৯, রবি বিষ্ণোই ০ রানে আউট হন। দিগ্বেশ রাঠী ০ রানে অপরাজিত থাকেন।
মিচেল স্টার্ক ৪ ওভারে ৪২ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন। কুলদীপ যাদব ৪ ওভারে ২০ রানের বিনিময়ে নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পান বিপ্রাজ নিগম ও মুকেশ কুমার। তবে নিগম ২ ওভারে ৩৫ ও মুকেশ ২ ওভারে ২২ রান দেন। অক্ষর ৩ ওভারে ১৮, মোহিত শর্মা ৪ ওভারে ৪২ ও ট্রিস্টান স্টাবস ১ ওভারে ২৮ রান দিয়ে উইকেট পাননি।
একটা সময় মনে হচ্ছিল লখনউ ২৫০ বা তার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। যদিও কুলদীপ, মোহিত, অক্ষর লখনউ ইনিংসের দ্বিতীয়ার্ধে রানের গতিতে রাশ টানেন। শেষ ৩৮ বলে লখনউ ৪৮ রান তোলে ৬ উইকেট খুইয়ে। শেষ ২ বলে মিলার ২টি ছয় মারায় লখনউ তোলে ৮ উইকেটে ২০৯।
জবাবে খেলতে নেমে প্রথম ওভারেই জোড়া ধাক্কার সম্মুখীন হয় দিল্লি। তৃতীয় ও পঞ্চম বলে যথাক্রমে জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক (২ বলে ১) ও অভিষেক পোড়েলকে ফেরান শার্দুল ঠাকুর। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই চার উইকেট হারায় দিল্লি।
২ রানের মাথায় প্রথম ২ উইকেট পড়ে। ১.৪ ওভারে ৭ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে। সমীর রিজভি ৪ বলে ৪ রান করে মনিমারান সিদ্ধার্থের শিকার হন। সিদ্ধার্থ নামেন মিচেল মার্শের জায়গায় ইমপ্যাক্ট সাব হয়ে। এরপর অক্ষরকে (১১ বলে ২২) মিস্ট্রি স্পিনার দিগ্বেশ ফেরালে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ৫.৩ ওভারে চার উইকেটে ৫০।
৬.৪ ওভারে পড়ে পঞ্চম উইকেট, ৬৫ রানে। ফাফ দু প্লেসি ১৮ বলে ২৯ করে রবি বিষ্ণোইয়ের শিকার হন। ট্রিস্টান স্টাবস (২২ বলে ৩৪) সিদ্ধার্থের দ্বিতীয় শিকার। ১২.৩ ওভারে ১১৩ রানে পড়ে ষষ্ঠ উইকেট। এরপর ঝোড়োগতিতে রান তুলে লখনউয়ের স্নায়ুর চাপ বাড়ান আশুতোষ শর্মা ও বিপ্রাজ নিগম।
আশুতোষ মুকেশের জায়গায় ইমপ্যাক্ট সাব হয়ে নামেন। ১৭তম ওভারের প্রথম বলে বিপ্রাজকে ফেরান রাঠি। পাঁচটি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে নিগম করেন ১৫ বলে ৩৯। দিল্লির স্ট্র্যাটেজিক টাইমআউট শেষে প্রথম বলেই এই উইকেট হারায় দিল্লি।
১৮তম ওভারের প্রথম বলে মিচেল স্টার্ক (৫ বলে ২) রবি বিষ্ণোইয়ের শিকার। এরপরও আশুতোষ আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে কুলদীপ যাদব (৫ বলে ৫) রান আউট হন। ফলে ১৯২ রানে পড়ে নবম উইকেট।
আশুতোষ শর্মা ২৮ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করায় দিল্লির ২০০ রান পূর্ণ হয় ১৮.৫ ওভারে। শেষ ওভারে শাহবাজ আহমেদের বলে মোহিত শর্মাকে স্টাম্প আউট করলেই জিতে যেত লখনউ। পন্থ সেই সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর আয়ুষ বাদোনি বল ধরতে না পারায় রান আউটের সুযোগও হাতছাড়া করে পন্থের দল।
শেষে ১৯.৩ ওভারে ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতান আশুতোষ। ৩ বল বাকি থাকতে জয় ১ উইকেটে। পাঁচটি করে চার ও ছয় ম্যাচে অপরাজিত রইলেন আশুতোষ শর্মা। খেললেন ৩১ বলে ৬৬ রানের ইনিংস। ২টি করে উইকেট নেন শার্দুল ঠাকুর, এম সিদ্ধার্থ, দিগ্বেশ রাঠী ও রবি বিষ্ণোই।
আইপিএলে দিল্লি-লখনউ ম্যাচে উঠল ৪২০ রান। দুই দলের সম্মিলিত স্কোর এটিই সর্বাধিক। ১৩ থেকে ১৭ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে কিছুটা কম রান উঠলেও এই স্কোর জেতার মতো ছিল বলেই উপলব্ধি ঋষভ পন্থের।












Click it and Unblock the Notifications