IPL 2024: ভারতের মাটিতে আইপিএলে মন্থরতম শতরান বিরাট কোহলির, উইকেটের দিকেই তুললেন আঙুল
IPL 2024: আইপিএলে বিরাট কোহলি আজ জয়পুরে পেলেন অষ্টম শতরান। চলতি মরশুমে প্রথম শতরান। মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ছাপিয়ে গেলেন আইপিএলে ছক্কা মারার নিরিখে।
আইপিএলে প্রথম ব্যাটার হিসেবে সাড়ে ৭ হাজার রান করার ঈর্ষণীয় নজিরও গড়ে ফেললেন। যদিও বিরাট কোহলির এদিনের শতরান ভারতের মাটিতে আইপিএলে মন্থরতম।

বিরাট কোহলি ২০১৬ সালের পর এই প্রথম এত ভালো স্ট্রাইক রেট রেখে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন এবারের আইপিএলে। ৫ ম্যাচে ৩১৬ রান, ২টি অর্ধশতরান, একটি শতরান। ব্যাটিং গড় ১০৫.৩৩, স্ট্রাইক রেট ১৪৬.২৯। এদিনের শতরান টি২০ বিশ্বকাপের দল গঠনের আগে সকলকেই স্বস্তি দিল।
বিরাট আজ শতরান পূর্ণ করেছেন ৬৭ বল খেলে। ভারতের মাটিতে আইপিএলে শতরান করতে এত বল আগে কেউ নেননি। ২০০৯ সালে ৬৭ বলে ডেকান চার্জার্সের বিরুদ্ধে শতরান করেছিলেন মণীশ পাণ্ডে। তবে সেটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে, সেঞ্চুরিয়নে হয়েছিল ম্যাচটি।
২০১০ সালে দিল্লিতে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিরুদ্ধে ডেভিড ওয়ার্নার ও ২০১১ সালে মুম্বইয়ে কোচি টাস্কার্স কেরালার বিরুদ্ধে সচিন তেন্ডুলকর শতরান করেছিলেন ৬৬ বল খেলে। সেই নজির এদিন ভেঙে গেল বিরাটের শতরানে। আইপিএলের ইতিহাসে যুগ্ম মন্থরতম শতরানের নিরিখে বিরাট ও মণীশ রইলেন একই আসনে।
বিরাট কোহলির অপরাজিত ১১৩ রান সত্ত্বেও আরসিবিকে ১৮৩ রানেই থামিয়ে রেখেছে রাজস্থান রয়্যালস। বিরাট বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা নিয়ে এদিন খেলতে নামিনি। উইকেটের চরিত্র অনুযায়ীই খেলেছি। আমি এদিন ৯ বলে ২০ করিনি, একটা সময় ১০ বলে ১২ রানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। যদিও অভিজ্ঞতা কাজে দিয়েছে বলে দাবি বিরাটের।
বিরাট ম্যাচের বিরতিতে বলেন, আমি জানতাম অতিরিক্ত আগ্রাসী হওয়া যাবে না। আমার খেলার ধরন সম্পর্ক প্রতিপক্ষ যাতে আঁচ না পায় সে ব্যাপারে সতর্ক ছিলাম। তবে বল ভালো মারতে পারছিলাম, ফলে রান তোলার গতি বাড়াতে পারব বলে বিশ্বাস ছিল। আমি কী করব, তা নিয়ে বোলার যাতে ভাবেন, সেভাবেই এগিয়ে গিয়েছি।
বিরাটের দাবি, বোলাররা তাঁকে দ্রুত ফেরানোর পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ছয় ওভার কাটিয়ে দিতে পারলে ভালো রান তোলা সহজ হবে বলে বিশ্বাস ছিল। এই ভাবনা মাথায় এসেছিল অভিজ্ঞতা ও এতদিন ধরে খেলার ফলে পরিণত হওয়াতেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী সব সময়ই দুই বা তিন রকম পদ্ধতিতে খেলার জন্য তিনি প্রস্তুত থাকেন বলে জানান কোহলি।
তবে উইকেটের চরিত্রের জন্যই যুজবেন্দ্র চাহাল বা রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে যে ধরনের শট খেলবেন বলে ভেবেছিলেন তা হয়নি, স্বীকারোক্তি কোহলির। বুঝিয়ে দিলেন এই উইকেটে ব্যাট করা সহজ ছিল না। উইকেট প্রথমদিকে পাটা বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু বল থমকে আসছিল, বলের গতির তারতম্যও চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিল।
বিরাট বলেন, তিনি ও ফাফের মধ্যে একজন শেষ অবধি থাকতে চেয়েছিলেন। বিরাট নিজেই অপরাজিত রইলেন। ১৯০ থেকে ১৯৫ রান এই উইকেটে যথেষ্ট বলে উপলব্ধি কোহলির। উইকেট কিছুটা মন্থরও হয়েছিল। ফলে ১৮০ থেকে ১৮৫ রান তোলা লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় বলে জানিয়েছেন কোহলি। এখন দেখার আরসিবি এই রানের পুঁজি নিয়ে জয়ের সরণিতে ফিরতে পারে কিনা।












Click it and Unblock the Notifications