Sakib Hussain: টেনিস বল ক্রিকেট থেকে কেকেআরে সাকিব! ৫০০ টাকার জন্য অন্য খাতে বইত কেরিয়ার
Sakib Hussain: সাকিব হুসেন। বিহারের গোপালগঞ্জের বছর ১৯-এর এই ক্রিকেটার এবার কলকাতা নাইট রাইডার্স জার্সিতে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন।
বিহারের হয়ে ২০২২ সালে ২টি টি২০ খেলে ৪ উইকেট নেওয়া সাকিবের এখনও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। আইপিএল গড়ে দিতেই পারে তাঁর কেরিয়ার।

টেনিস বল ক্রিকেট দিয়ে শুরু করে বিহারেরই আকাশ দীপ পৌঁছে গিয়েছেন ভারতীয় টেস্ট দলে। সাকিবও বিহারেরই। র পেস মুগ্ধ করেছে ড্যানি মরিসন থেকে সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনকী ভিভিএস লক্ষ্মণকেও। কলকাতায় আইপিএলের দিল্লি ক্যাপিটালস শিবিরে সাকিবকে মূল্যবান টিপস দেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
সৌরভের দিল্লি ক্যাপিটালস সাকিবকে নেয়নি। নিলামে প্রথমে অবিক্রিত ছিলেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ, এরপরই কোচ রবিনকে ফোন করে সাকিব বলেছিলেন, আরও নিবিড় অনুশীলন করতে চান। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বে সাকিবকে বেস প্রাইস ২০ লক্ষ টাকায় নিয়েছে কেকেআর।
সাকিবের বাবা কৃষক, মা গৃহবধূ। সাকিবরা চার ভাই, দুই বোন। টেনিস বলে ক্রিকেট খেলেই পরিবারকে সাহায্য করতেন সাকিব। আইপিএলের টাকা দিয়ে নিজের জন্য শুধু ভালো স্পাইক আর ক্রিকেটীয় কিছু সরঞ্জাম কিনবেন। বাকি টাকাটা তুলে দেবেন পরিবারের হাতে।
আইপিএলে সুযোগ পাওয়া যেন স্বপ্নের মতো। রবিনের ভাইপোর সঙ্গে টেনিস বলে ক্রিকেট খেলতেন সাকিব। তাঁর কাছেই জেনেছিলেন সাকিবের জোরে বল করতে পারার দক্ষতার কথা। পাটনাতে ডেকে শাকিবের র পেস দেখেন, কিছুটা সমস্যা ছিল লাইন ও লেংথে।
খুবই গরিব পরিবারের ছেলে সাকিব। পাটনায় থেকে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। গোপালগঞ্জে গিয়ে জেলা ক্রিকেট সংস্থার সচিবের সঙ্গে দেখা করে সাকিব সম্পর্কে জানান রবিন। ঠিক করেন, তাঁকে কোচিং করাবেন। মাস তিন-চারেক পর বিহার ক্রিকেট লিগে খেলানোর সুযোগ এসে যায়।
একটি ক্লাবের কর্তা ভালো পেসার খুঁজছিলেন। কিন্তু সাকিব যেহেতু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেননি, যার ফলে ওই কর্তা রাজি ছিলেন না। রবিন বলেন, সাকিব হতাশ করলে তিনি আর পাটনাতেই আসবেন না। যদিও সাকিব ট্রায়ালের কথা শুনে বলেন, ওই দিন যাওয়া সম্ভব হবে না।
টেনিস বলে ক্রিকেট ম্যাচ খেলে ৫০০ টাকা পাবেন, সে টাকা মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছিলেন। ফলে ট্রায়ালে যেতে চাইছিলেন না সাকিব। তাঁর পকেটে পাটনায় যাতায়াতের পয়সাও ছিল না। রবিন ৫০০ টাকা দেন সাকিবকে। ট্রায়ালে নামার জন্য জুতোও কিনে দেন। দুরন্ত পেসে সকলের মন জয় করেন সাকিব।
ট্রায়ালে বিহারের রঞ্জি দলের ব্যাটারদেরও উইকেট পেয়েছিলেন। বিহার ক্রিকেট লিগ থেকে অনূর্ধ্ব ১৯ দলে নিয়মিত উইকেট দখল করতে থাকেন সাকিব। গরিব পরিবারে ভালো মানের খাওয়াদাওয়া করতে না পারায় পুষ্টির অভাব সাকিবকে ভোগাতে থাকে। কয়েকটি ম্যাচে বিশ্রাম নিতে বলেন রবিন, সমস্যা মেটানোর বন্দোবস্ত করেন।
বিহারের হয়ে কোচবিহার ট্রফিতে ২০২০-২১ মরশুমে অভিষেক হয়। ৪ ম্যাচে ২১ উইকেট নেন সাকিব। এই পারফরম্যান্স সাকিবকে এনসিএতে প্রস্তুতির সুযোগ করে দেয়। সাকিবকে পুদুচেরীতে একটি পাটা উইকেটে বল করতে পাঠানো হয়েছিল জোনাল ম্যাচে। সেখানেও অনবদ্য বোলিং করেন, ম্যাচটি দেখেছিলেন ভিভিএস লক্ষ্মণ।
আইপিএল অনেক তারকার জন্ম দিয়েছে। ভালো মানের কোচিং স্টাফদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশি তারকাদের কাছে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাবেন সাকিব। সাকিবের প্রিয় ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনি। নেটে শ্রেয়স আইয়ার, রিঙ্কু সিংদের বল করার জন্যেও মুখিয়ে রয়েছেন কেকেআরের এই নয়া রিক্রুট। সাকিব কি হয়ে উঠতে পারবেন রিঙ্কু সিং বা সুযশ শর্মা? কেকেআরকে জিতিয়ে হয়ে উঠবেন নয়নের মণি? অপেক্ষা কিছুদিনের।












Click it and Unblock the Notifications