Exclusive : বৃষ্টির পরেও ম্যাচ, শ্রেয়সের কুর্নিশ মাঠকর্মীদের! ইডেন দেশের কাছে দৃষ্টান্ত সৌরভ-সুজন জুটিতেই
IPL 2024: ইডেনে শেষ হোম ম্যাচ থেকেই প্লে-অফের টিকিট পাকা করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। দর্শকঠাসা ইডেনে অবশ্য রবিবার বিকেল থেকে ঘুরপাক খাচ্ছিল একটাই প্রশ্ন, বৃষ্টিতে ম্যাচ কি হবে?
২০১৫ সালে এই ইডেনেই বৃষ্টিতে মাঠ পুরো ঢাকা না থাকায় ভেস্তে গিয়েছিল ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা তৃতীয় টি২০ আন্তর্জাতিক। যদিও তারপর থেকে সেই পরিস্থিতি আর তৈরি হয়নি ইডেনে।

কেকেআর অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার আজ ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মাঠকর্মীদের কুর্নিশ জানিয়েছেন। আহ্বান জানিয়েছেন তাঁদের জন্য জয়ধ্বনি দেওয়ার। মাঠকর্মীদের জন্যই গতকালের ম্যাচটি সম্পন্ন করা গিয়েছে বলে উল্লেখ করে শ্রেয়স লিখেছেন, "Shoutout to the ground staff for helping the match happen."
ইডেনের চিফ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে আইপিএলে একাধিকবার ইডেন সেরা মাঠের পুরস্কার পেয়েছে। এবারও প্রতি ম্যাচেই ইডেনে জমজমাট দ্বৈরথ হয়েছে। রেকর্ডের ফুলঝুরি ছুটেছে। সুজন ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, শ্রেয়সকে ধন্যবাদ। আগেও অনেকে প্রশংসা করেছেন।
সুজনের কথায়, ইডেনে আমার ১০ বছরে এমন মরশুম বা আইপিএল যায়নি যেখানে বৃষ্টি হয়নি। এবারও অনেকে তাই অবাক হচ্ছিল বৃষ্টি না হওয়ায়। কিন্তু আমি বলেছিলাম, শেষ ম্য়াচে ঠিক ভোগাবে বৃষ্টি। সেজন্য আমরা প্রস্তুতও ছিলাম। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সচিব-সহ বাকি সকলের সহযোগিতা পেয়েছি সব সময়।
সুজন মুখোপাধ্যায় জানালেন, গতকাল যখন বৃষ্টি হচ্ছিল তখন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পীযূষ চাওলা বলেন, বৃষ্টি থামলে দাদা (সুজন মুখোপাধ্যায়) ঠিক ম্যাচ করিয়ে দেবেন। রোহিতও সম্মতি জানিয়ে বলেন, বিশ্বকাপের সময়ও এর চেয়ে বেশি বৃষ্টিতেও ম্যাচ হয়েছিল এখানে।
সুজন মুখোপাধ্যায় বলেন, আজ সব মাঠকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওদের নরম পানীয় খাইয়ে সফলভাবে ম্যাচ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ছুটি দিলাম। যাদবপুর, কল্যাণীর মাঠকর্মীদের পাশাপাশি ইডেনে যে ভিনরাজ্যের মাঠকর্মীরা থাকেন, তাঁরা সকলে ছিলেন। সংখ্যাটা প্রায় ১০০। এতটাই বোঝাপড়া তৈরি হয়ে গিয়েছে, হাত নাড়লেই ওঁরা বুঝতে পারেন আমি কী চাইছি।
গরমে খেলা হয়। মাঠকর্মীদের খাওয়া-দাওয়া, ওষুধ, ওআরএসের বন্দোবস্ত করার বিষয়ে সতর্ক থাকেন সুজন। তিনি বললেন, গতবার ওঁদের লাঞ্চ নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসার পর সিএবি ব্যবস্থা নিয়েছিল। সব ঠিকঠাক আছে কিনা তা জানতে আমিও ওঁদের সঙ্গে লাঞ্চ করেছি।
ইডেনে বৃষ্টি থামলেই খেলা করানো সম্ভব হচ্ছে গোটা মাঠ কভার দিয়ে ঢাকা থাকায়। সুজনের কথায়, আমি প্রথমেই শর্ত দিয়েছিলাম গোটা মাঠ ঢাকার বন্দোবস্ত করতে হবে। অর্থ খরচ-সহ মাঠের জন্য যা যা করণীয় তা করতে হবে। সিএবি সেটা করে চলেছে, তাতে ধন্যবাদ।
সুজন বলেন, আমি আর ভেঙ্কট সুন্দরম একবার ইংল্যান্ডের কভার দেখেছিলাম। জগমোহন ডালমিয়াই কভার দেখতে পাঠিয়েছিলেন। তখন দাম ছিল ৩৫ লক্ষ টাকা। পরবর্তীকালে সৌরভকে সেই সংস্থার বিষয়ে জানাই। সৌরভের সময়কালেই ইডেনের গোটা মাঠ ঢাকার কভার আসে। ফলে ওঁর অবদানের কথা অনস্বীকার্য।
সৌরভের সময় আসা সেই কভার এখন ব্যবহার করা হয় স্থানীয় লিগের ম্যাচে। ইডেনে একই সংস্থা থেকে ফের গোটা মাঠ ঢাকার বর্তমান কভারটি আনা হয়েছে বছর দুয়েক হলো। ইডেন এবারও সেরা মাঠের স্বীকৃতি পাবে কিনা তা জানতে আর কয়েক দিনের অপেক্ষা করতে হবে। সুজন বললেন, সকাল থেকে গভীর রাত অবধি মাঠের তদারকির কাজে ব্যস্ত থাকি। পরিবারকেও বিশেষ সময় দেওয়া হয় না। ফলে সাফল্যের সঙ্গে ম্যাচ আয়োজনের পিছনে পরিবারের স্বার্থত্যাগের অবদানও অনস্বীকার্য।












Click it and Unblock the Notifications