অশ্বিন বিয়ের পরদিনই ইডেন টেস্ট খেলেন, কলকাতার হোটেলে রাতে ঘুমোতে পারেননি কেন?
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের নানা অধ্যায় নিয়ে জিও সিনেমায় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সহধর্মিণী প্রীতি নারায়ণন। তবে যেটা জানাননি সেটাও কম আকর্ষণীয় নয়। জানেন কি, বিয়ে করেই নববধূকে নিয়ে চেন্নাই থেকে সটান কলকাতায় এসেছিলেন অশ্বিন?
২০১১ সালে বান্ধবী থেকে প্রেমিকা হয়ে ওঠা প্রীতির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অশ্বিন। তার পরের দিনই ছিল ইডেন টেস্ট। যদিও আগের রাতে অশ্বিন ও প্রীতির ঘুমে ব্যাঘাত ঘটেছিল কলকাতার টিম হোটেলে। কারণ জানা গিয়েছে প্রীতির ফেসবুক পোস্টে।

রবিচন্দ্রন অশ্বিন এখন রাজস্থান রয়্যালসের বড় ভরসা। ব্যাটে-বলে অবদান রাখছেন সঞ্জু স্যামসনের দলের হয়ে। অশ্বিনের স্ত্রী প্রীতিও একটা সময় চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে কর্মরত থাকাকালীনই অশ্বিন ও প্রীতির সম্পর্ক সফল পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়।
জিও সিনেমাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রীতি বলেন, অশ্বিন আর আমি মাধ্যমিক স্তরে একই স্কুলে পড়তাম। ক্লাস সেভেন থেকে আমরা একে অপরকে চিনি। স্কুলের সকলেই জানত অশ্বিন আমাকে ক্রাশ ভাবে। ক্রিকেট খেলার জন্য অশ্বিনকে স্কুল বদলাতে হলেও আমাদের যোগাযোগ হতো। কারও জন্মদিনে, কখনও প্রতিবেশীর বাড়িতে। এভাবেই চলছিল।

প্রীতি জানান, আমি একটি ইভেন্টের সংস্থায় কর্মরত ছিলাম। চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে যুক্ত থাকাকালীন অশ্বিনের সঙ্গে দেখা। তখন অশ্বিন ছয় ফুট উচ্চতার একজন। স্কুল থেকে শুরু করে ১০ বছরের সম্পর্ক। অশ্বিন প্রীতিকে বিয়ের প্রস্তাবও দেন ক্রিকেট মাঠে নিয়ে গিয়ে। জানান, ১০ বছরেও একইভাবে তিনি প্রীতিকে পছন্দ করেন। তাই বিয়ের প্রস্তাব।
প্রেমের পরিণতিতে পরিবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ২০১১ সালের ১৩ নভেম্বর তামিল আচার-অনুষ্ঠান মেনে চেন্নাইয়ে বিয়ে হয়। পরদিনই ছিল কলকাতা টেস্ট। তাই বিয়ে সেরেই অশ্বিন কলকাতা রওনা হন স্ত্রীকে নিয়ে। ফেসবুক পোস্টে প্রীতি লিখেছেন, যেহেতু পরের দিন খেলা ছিল তাই পরিবার থেকে বলা হয় অশ্বিনকে রাতে ঘুমোতে দিতে।

যদিও বিয়ের রাতে স্ত্রী প্রীতি পাশে থাকলেও অশ্বিনের ঘুম হয়নি। দলই যেন কোনও গোপন অ্যালার্ম রেখে দেয়। সে কারণেই সারারাত ঘুম হয়নি। কপাল ভালো, ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সেই টেস্টে অবশ্য পরের দিন সকালে ভারত ব্যাটিং করে। অশ্বিনকে প্রথম দিন ব্যাট করতে নামতে হয়নি।
প্রীতির কথায়, মাঠে বসে টেস্ট দেখা ইডেনেই প্রথম। নার্ভাস ছিলাম, উত্তেজিতও ছিলাম। ভারত ফিল্ডিং করার সময় অশ্বিন কোথায় দাঁড়িয়ে তা বুঝতেও কয়েকবার সমস্যা হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন প্রীতি।
ভারত ৭ উইকেটে ৬৩১ রান তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ার করেছিল। অশ্বিন ব্যাচ হাতে ১২ বলে অপরাজিত ৪ রান করার পাশাপাশি দুই ইনিংসেই দুটি করে উইকেট নেন। চারদিনে ভারত টেস্টটি জিতেছিল ইনিংস ও ১৫ রানে।

অশ্বিন-প্রীতির দুই কন্যা বর্তমান। তাঁর কেরিয়ারে স্ত্রীর অবদানের কথা বারবারই উল্লেখ করেন অশ্বিন। এমনকী করোনাকালে পরিবারের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ায় অশ্বিন আইপিএলের আসর থেকে সরেও দাঁড়ান। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ৯টি ম্যাচে অশ্বিন ১৩ উইকেট নিয়েছেন। আইপিএলের পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল খেলতে যাবেন ইংল্যান্ডে।
আইপিএলের সব খবরের আপডেট, স্কোর, স্ট্যাটিসটিক্স, ছবি, ভিডিও একনজরে












Click it and Unblock the Notifications