IPL 2023: শেষ ওভারে মহসীন অনবদ্য, মুম্বইকে হারিয়ে কেকেআরকে বাড়ি পাঠাচ্ছে লখনউ
আইপিএলের ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের সাক্ষী থাকল লখনউয়ের একানা স্টেডিয়াম। দুই দলের কাছেই প্লে-অফে যাওয়ার জন্য ২ পয়েন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শেষ ওভারে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জেতার জন্য দরকার ছিল ১১ রান। মহসীন খান প্রথম ৫ বলে দেন মাত্র ৩ রান।
শেষ অবধি মহসীন খানের দুরন্ত বোলিংয়ে ৫ রানে ম্যাচ জিতল লখনউ সুপার জায়ান্টস। কেকেআরের বিদায় কার্যত নিশ্চিত করেই কলকাতায় আসছে ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার দল।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স প্রথম ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৫৮ রান তুলে ফেলে। ৯.৪ ওভারে ৯০ রানে প্রথম উইকেট পড়ে। একটি চার ও তিনটি ছয়ের সাহায্যে ২৫ বলে ৩৭ রান করেন রোহিত শর্মা। তাঁকে সাজঘরে ফেরান রবি বিষ্ণোই। মুম্বইয়ের ৫০ রান এসেছিল ৫.২ ওভারে। ১০০ রান পূর্ণ হয় ১০.৩ ওভারে।

৩৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করা ঈশানের উইকেটটিও তুলে নেন বিষ্ণোই। আটটি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে ৩৯ বলে ৫৯ রান করে আউট হন কিষাণ। ১০৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে ১১.১ ওভারে। ১৪.১ ওভারে সূর্যকুমার যাদব ৯ বলে ৭ রান করে যশ ঠাকুরের বলে বোল্ড হন। স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১১৫।
১৬.১ ওভারে নেহাল ওয়াধেরার উইকেটটি তুলে নেন মহসীন খান। নেহাল ২০ বলে ১৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। শেষ তিন ওভারে লখনউ তুলেছিল ৫৪ রান। মুম্বইয়ের জয়ের জন্য শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন দাঁড়ায় ৩৯ রান। ১৮তম ওভারে যশ ঠাকুর দুরন্ত বোলিং করেন। তুলে নেন বিষ্ণু বিনোদ (৪ বলে ২)-এর উইকেট।

শেষ ২ ওভারে জিততে মুম্বইয়ের প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। নবীন উল হকের ১৯তম ওভারে আসে ১৯। তার মধ্যে একটি নো বল ও চার রান বাই ছিল। দুটি ছক্কা মারেন টিম ডেভিড। শেষ ৬ বলে প্রয়োজন দাঁড়ায় ১১ রান। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭২ রানের বেশি এগোতে পারেনি।
১টি চার ও তিনটি ছয়ের সাহায্যে ১৯ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন টিম ডেভিড। ৬ বলে চার রানে অপরাজিত থাকেন ক্যামেরন গ্রিন। মহসীন খানের প্রথম ওভারে ঈশান কিষাণের দাপটে ১৩ রান উঠেছিল। কিন্তু ডেথ ওভারে সেই মহসীনই খেলা ঘোরালেন। তিনি ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন।

রবি বিষ্ণোই ৪ ওভারে ২৬ ও যশ ঠাকুর ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ২টি করে উইকেট নিলেন। এই জয়ের ফলে লখনউয়ের পয়েন্ট দাঁড়াল ১৩ ম্যাচে ১৫। কলকাতা নাইট রাইডার্স শেষ ম্যাচে লখনউকে হারালেও পয়েন্টের নিরিখে তাদের পিছনে ফেলতে পারবে না। লখনউয়ের নেট রান রেট ০.৩০৪। ক্রুণালরা উঠে এলেন তিন নম্বরে।

এর আগে, টস জিতে লখনউকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল মুম্বই। ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রান তোলে লখনউ সুপার জায়ান্টস। চারটি চার ও আটটি ছয়ের সাহায্যে ৪৭ বলে ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন মার্কাস স্টইনিস। ৪২ বলে ৪৯ রান করার পর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক ক্রুণাল পাণ্ডিয়া।

জেসন বেহরেনডর্ফ ২টি ও পীযূষ চাওলা ১টি উইকেট নেন। এই ম্যাচ হারার ফলে রোহিত শর্মাদের কাছে শেষ ম্যাচ ডু অর ডাই হয়ে গেল। ১৩ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট রয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। তবে নেট রান রেট মাইনাস (-) ০.১২৮। শেষ ম্যাচে হারলে ১৪ পয়েন্ট প্লে-অফে যাওয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নাও হতে পারে।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের নেট রান রেট মাইনাস (-) ০.২৫৬। শেষ ম্যাচ জিতলে পয়েন্ট হবে ১২ ম্যাচে ১৪। পাঞ্জাব যদি শেষ দুটি ম্যাচে জেতে তাহলে তাদের পয়েন্ট হবে ১৬। একটিতে জিতলে পয়েন্ট হবে ১৪। পাঞ্জাবের নেট রান মাইনাস (-) ০.২৬৮। ফলে লখনউয়ের জয় কলকাতাকে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে ফেলে দিল।
আইপিএলের সব খবরের আপডেট, স্কোর, স্ট্যাটিসটিক্স, ছবি, ভিডিও একনজরে












Click it and Unblock the Notifications