IPL 2023: গুজরাত টাইটান্স আইপিএলে গড়ল অনন্য নজির, ধারাবাহিকতার নেপথ্যে কোন ফ্যাক্টর?
আইপিএলের ইতিহাসে তৃতীয় দল হিসেবে খেতাব দখলে রাখতে পারল না গুজরাত টাইটান্স। ২০১০ ও ২০১১ সালে পরপর আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস। ২০১৯ ও ২০২০ সালে জেতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।
সেই নজির স্পর্শ করতে না পারলেও হার্দিক পাণ্ডিয়ার গুজরাত টাইটান্স আবির্ভাবের বছরে চ্যাম্পিয়ন এবং এবার রানার-আপ হলো। যে কীর্তি মোটেই খাটো করে দেখার নয়। গোটা আইপিএলে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেছে টাইটান্স। লিগ পর্বে ছিল শীর্ষস্থানেই।

প্রথম কোয়ালিফায়ারে চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে হারার পর ফাইনালে পরাস্ত হলো গুজরাত টাইটান্স। দুই দলের প্রথম তিনটি দ্বৈরথ টাইটান্স জিতেছিল, শেষ দুটিতে হার। এবারের আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে হার্দিকরা হারিয়ে দিয়েছিলেন ধোনিদের। যদিও চিপকে ফাইনালের টিকিট আদায় করে, আমেদাবাদেও ফাইনালে বাজিমাত ধোনিদের।
হার্দিক পাণ্ডিয়া নিজে ধোনিকে গুরু বলে মেনে চলেন। ম্যাচের শেষে হার্দিক বলেন, ভালো মানুষের সঙ্গে ভালো কিছুই হয়। ধোনির জন্য ভালো লাগছে। তাঁর কাছে পরাস্ত হলেও আমি কিছু মনে করি না। অর্থাৎ গুরুর কাছে পরাজিত হয়েও গর্বিত সিএসকে। ফাইনালের শেষে গুজরাত টাইটান্স দলের তরফেও কুর্নিশ জানানো হয় ধোনিকে।

ফাইনালে টস হেরেছিলেন হার্দিক। ৪ উইকেটে ২১৪ রান তুলেছিল গুজরাত টাইটান্স, যা আইপিএলের ফাইনালে সর্বকালীন রেকর্ড। মহেন্দ্র সিং ধোনি টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়েছিলেন বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকাকে। বৃষ্টিতে ওভার কমায় চেন্নাইয়ের সুবিধা হবে বলে বলছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

তা সত্ত্বেও সিএসকে-কে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখেই ফেলে টাইটান্স। জয় নিশ্চিত হয় শেষ বলে। আইপিএলে এই প্রথম সর্বাধিক উইকেটশিকারীর প্রথম তিনে একই দলের ক্রিকেটাররা। মহম্মদ শামি ২৮টি উইকেট নিয়ে পেলেন বেগুনি টুপি। রশিদ খান ও মোহিত শর্মা ২৭টি করে উইকেট দখল করেন। ফাইনালে শামি ও রশিদ উইকেট পাননি।

মোহিত শর্মা ফাইনালে ২টি উইকেট নেন। গত মরশুমে গুজরাত টাইটান্সের নেট বোলার মোহিত এবার ১৪ ইনিংসে ঝুলিতে পুরলেন ২৭ উইকেট। রশিদ ও শামি ১৭টি ইনিংসে বল করেছেন। ২০১২-১৩ সালে রাম স্ল্যাম টি ২০ চ্যালেঞ্জে উইকেটশিকারীদের তালিকার প্রথম চারে ছিলেন লায়ন্সের ক্রিকেটাররা।
শুভমান গিল এবার সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী হয়েছেন। তিনি ৮৯০ রান করলেন। তিনি বলেন, এবার ভালো শুরুকে বড় রানে পরিণত করায় জোর দিয়েছিলাম। ছক্কা মারা প্র্যাকটিস করেছি। ডেথ ওভারের জন্য ব্যাটিং রণকৌশলে বদল এনেছি। গুজরাতকে ফের চ্যাম্পিয়ন করাতে না পারার আক্ষেপ অবশ্য রয়ে গেল গিলের।

কেন উইলিয়ামসন চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ায় বি সাই সুদর্শনকে নিয়েছিল গুজরাত টাইটান্স। প্রথমদিকে কিছু ম্যাচে খেলালেও হার্দিক পাণ্ডিয়া যেহেতু চারটি ম্যাচে বল করেননি, ফলে দাসুন শনাকাকে খেলানো হয়। সুদর্শন বাইরে থাকছিলেন। কিন্তু সুদর্শন ফের সুযোগ পেতেই নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরলেন। ফাইনালে করলেন ৯৬।
ঋদ্ধিমান সাহাকে জাতীয় দলে ব্রাত্য রাখা হলেও হার্দিক পাণ্ডিয়া তাঁর উপর আস্থা রেখেছেন। সব ম্যাচে খেলেছেন ঋদ্ধি। ফাইনালে ঝকঝকে ঝোড়ো অর্ধশতরানও করেছেন। তাঁর উইকেটকিপিং প্রশংসিত হয়েছে সর্বস্তরে। তথাকথিত তারকার ভিড় নেই। সেই দলকে হার্দিক পাণ্ডিয়া যেভাবে নেতৃত্ব দিলেন তাতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া ও হেড কোচ আশিস নেহরা দলের ড্রেসিংরুমকে চাপের মুখেও শান্ত রাখতে সক্ষম হয়েছেন। হ্যাপি ড্রেসিংরুমের জেরেই দু বছরই টানা ফাইনাল খেলল গুজরাত। ক্যাপ্টেন কুল ধোনির পদাঙ্ক অনুসরণ করে হার্দিক তাঁর দলের একাদশ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরিবর্তিত রেখেছেন।

রশিদ খানের পাশাপাশি তাঁর দেশের রিস্ট স্পিনার নূর আহমেদও ভরসা দিলেন গুজরাত টাইটান্সকে। তাঁর বোলিংয়েই ফাইনালে একটা সময় চাপেও পড়েছিল সিএসকে। সবমিলিয়ে আগামীতে আরও সাফল্য পাওয়ার অঙ্গীকার রেখেই এবার অভিযান শেষ করল গুজরাত।
আইপিএলের সব খবরের আপডেট, স্কোর, স্ট্যাটিসটিক্স, ছবি, ভিডিও একনজরে












Click it and Unblock the Notifications