IPL 2023: আইপিএলে নজিরবিহীন কাণ্ড! গুজরাত টাইটান্সের তিন বোলারের মধ্যে জোর টক্কর
আইপিএলের ষোড়শ সংস্করণে কমলা টুপি দখলে রাখা নিশ্চিত করে ফেলেছেন শুভমান গিল। তবে সর্বাধিক উইকেটশিকারী হিসেবে বেগুনি টুপি শেষ অবধি কার দখলে থাকবে তা ফাইনাল খেলা না হওয়া অবধি বলা যাচ্ছে না।
তবে এবার সর্বাধিক উইকেটশিকারী হওয়ার দৌড় যেমন রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে, তেমনই সকলে সাক্ষী থাকছেন নজিরবিহীন কাণ্ডের। বেগুনি টুপি দখলের লড়াইয়ে একই দলের তিন বোলার, এমনটা আগে হয়নি।

গুজরাত টাইটান্সের হয়ে বোলিং ওপেন করেন মহম্মদ শামি। মাঝের ওভারগুলিতে সাধারণত রশিদ খানকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবহার করেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। মোহিত শর্মা টিম ম্যানেজমেন্টকে আস্থা দিচ্ছেন মাঝের ওভারের পাশাপাশি ডেথ ওভারের বোলিংয়ে। এই তিনজনই আপাতত পার্পল ক্যাপ দখলের তালিকায় পরপর আছেন।

মহম্মদ শামি ১৬ ম্যাচে মোট ৬২ ওভার বল করেছেন। ৪৯৩ রান দিয়ে ২৮টি উইকেট নিয়েছেন। সেরা বোলিং ১১ রানে চার উইকেট। গড় ১৭.৬০, ইকনমি ৭.৯৫, স্ট্রাইক রেট ১৩.২৮। ইনিংসে দুবার চার উইকেট নিয়েছেন। শামির বেশিরভাগ উইকেটই এসেছে পাওয়ারপ্লে-র ওভারে। ডেথ ওভারেও ভালো বোলিং করছেন তিনি।

রশিদ খান ১৬ ম্যাচে মোট ৬৪ ওভার বল করেছেন। তিনি ৫০৮ রান দিয়েছেন, ঝুলিতে পুরেছেন ২৭টি উইকেট। সেরা বোলিং ৩০ রানে চার উইকেট। গড় ১৮.৮১, ইকনমি ৭.৯৩, স্ট্রাইক রেট ১৪.২২। ইনিংসে চার উইকেট ১ বার। জুটি ভাঙতে হার্দিক আস্থা রাখেন রশিদের উপর। সেই আস্থার মর্যাদাও দিচ্ছেন।
মোহিত শর্মা নিঃসন্দেহে এবার গুজরাত টাইটান্সের জার্সি গায়ে বড় চমক দিলেন। তিনি ১৩টি ম্যাচে ৪১.১ ওভার বল করে ৩২৫ রান দিয়ে ২৪টি উইকেট নিয়েছেন। সেরা বোলিং ১০ রান দিয়ে ৫ উইকেট। গড় ১৩.৫৪, ইকনমি ৭.৮৯, স্ট্রাইক রেট ১০.২৯। ইনিংসে চার উইকেট নিয়েছেন ২টি ম্যাচে, একবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।
গুজরাত টাইটান্সের লিগ পর্বে শীর্ষস্থান ধরে রাখা, ধারাবাহিকতা দেখানোর পিছনে শুভমান গিলের ব্যাট হাতে বিধ্বংসী ফর্ম যেমন অন্যতম ফ্যাক্টর, তেমনই বোলারদের অনবদ্য পারফরম্যান্স। যার জেরে শুভমানের দখলে রয়েছে কমলা টুপি। আর বেগুনি টুপি দখলের লড়াইয়ে প্রথম তিনে রয়েছেন তিনজন বোলার।

মোহিত শর্মা দৌড়ে থাকলেও কমলা টুপির দখল নিতে তাঁকে পাঁচ উইকেট পেতে হবে। সেই সঙ্গে শামি উইকেট পেলে চলবে না। যদি শামি ও মোহিত দুজনেই ২৯ উইকেটে পৌঁছন, সেক্ষেত্রে কম ম্যাচ খেলা, ভালো ইকনমির মতো বিষয়গুলির জন্য তিনি পার্পল ক্যাপ পেতেই পারেন। কিন্তু কাজটা কঠিন।
মোহিত শর্মা ২০১৩ সালের আইপিএলে ২০টি, ২০১৪ সাবে ২৩টি, ২০১৫ সালে ১৪টি, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ১৩টি করে উইকেট নিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে নেন ৭ উইকেট, ২০১৯ ও ২০২০ সালে পান একটি করে উইকেট। ২০২১ ও ২০২২ সালে খেলার সুযোগ পাননি। কিন্তু এবার নেমেই চমক দিলেন গুজরাত টাইটান্সেরর প্রাক্তন নেট বোলার।

গত টি ২০ বিশ্বকাপের পর থেকে দেশের হয়ে টি ২০ খেলেননি মহম্মদ শামি। তিনি ২০১৩ সালের আইপিএলে ১টি, ২০১৪ সালে ৭টি, ২০১৬ সালে ৫টি, ২০১৭ সালে ৫টি, ২০১৮ সালে তিনটি উইকেট নিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে শামি ১৯টি উইকেট পান। ২০২০ সালে ২০টি, ২০২১ সালে ১৯টি, ২০২২ সালে ২০টি উইকেট পান। এবারের মরশুমই কেরিয়ারে সেরা।
রশিদ খান ২০১৭ সালের আইপিএলে ১৭টি উইকেট পেয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ২১টি, ২০১৯ সালে ১৭টি, ২০২০ সালে ২০টি, ২০২১ সালে ১৮টি ও ২০২২ সালে ১৯টি উইকেট নিয়েছিলেন। শামির মতো রশিদেরও চলতি মরশুমই আইপিএল কেরিয়ারে সেরা। আইপিএলে ১০৮ ম্যাচে রশিদের উইকেট ১৩৯, শামির রয়েছে ১০৯ ম্যাচে ১২৭ উইকেট।
আইপিএলের সব খবরের আপডেট, স্কোর, স্ট্যাটিসটিক্স, ছবি, ভিডিও একনজরে












Click it and Unblock the Notifications