IPL Exclusive: ইডেনের মাঠকর্মীদের বহুমূল্য নিম্নমানের খাবার! সিএবির আর্থিক অপচয়, সর্ষের মধ্যেই ভূত?
আইপিএলের আসরে আলোর ঝরনাধারার আড়ালেই নিকষ কালো অন্ধকার। আজ থেকে প্লে-অফ শুরু। গত শনিবার ইডেনে হয়ে গিয়েছে লিগ পর্বে কলকাতা নাইট রাইডার্সের শেষ ম্যাচ। জিতেছে লখনউ সুপার জায়ান্টস। আইপিএলের পর বিশ্বকাপের অপেক্ষায় থাকা ইডেনে যেন পুজো শেষে মণ্ডপের নিঃস্তব্ধতা।
যে মাঠকর্মীরা রোদ-জল উপেক্ষা করে বজ্রপাতের মধ্যেও কভারের উপর ঠায় বসে বা দাঁড়িয়ে জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে যেভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের দিনযাপন কেমন তা দেখতে গিয়েছিল ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা। তাতে যে চিত্র উঠে এলো তা মন ভালো করার মতো নয়।

গত আইপিএলে একটি বেসরকারি সংস্থা মাঠকর্মীদের পাঁচতারা হোটেলে রেখে ভিআইপি ট্রিটমেন্টের বিজ্ঞাপনী চমক দিয়েছিল। এবার সব ভোঁ ভাঁ। ২০১২ সালে উদ্বোধনের পর এই গুমটি ঘরগুলিতেই থাকতে হয় ইডেনের মাঠকর্মীদের। মাথার উপর অ্যাসবেসটস। ১১ বছর পরেও সেখানে ঢালাই করা ছাদ নেই!

দীর্ঘদিন ধরেই মাঠকর্মীরা খাবারের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন। সিএবির চিফ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় সে কথা স্বীকারও করেন। ম্যাচের দিন ও আগের দিন জনৈক মুন্নার তত্ত্বাবধানে মাঠকর্মীদের খাবার আসে সেন্ট্রাল এক্সাইজ ক্যান্টিন থেকে। সিএবি অর্থ বরাদ্দে কার্পণ্য করে না। কিন্তু খাবারের দাম যে অত্যধিক বেশি তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
দুটো ডিম, কলা, চার পিস পাউরুটি টোস্ট, বিল ৭০ টাকার! এক চাপ চা ১০ টাকা। যা মোটেই ভালো নয়। সোমবার নিরামিষ। বাকি দিনগুলিতে হয় এক পিস মাছ, নয়তো দুই পিস চিকেন বা দুটি ডিম। ভাত, ডাল, তরকারি দিয়ে যার দাম ১৭০ টাকা! রাতের খাবারের দাম ধরা হয় ১৬০ টাকা।

ফলে বোঝাই যাচ্ছে সিএবি মাঠকর্মীদের খাবারের জন্য যথেষ্ট দাম দেয়। কিন্তু যে খাবার আসছে তা যে ভালো নয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনকে বলেছিলেন সুজন মুখোপাধ্যায়। সিএবির কর্তাদেরও জানিয়েছেন। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির যে কোনও উন্নতি হয়নি তা ধরা পড়েছে ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার ক্যামেরায়।

খাবারের গুণমান নিয়ে ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার কাছে কিছু অভিযোগ আসছিল। তা খতিয়ে দেখতেই আমরা পৌঁছে যাই কে ব্লক পেরিয়ে মাঠকর্মীদের ক্যান্টিনে। সোমবার নিরামিষ খাবার আসে। মোটা চালের ভাত, মুসুরির ডালে ডাল খুঁজতে হবে। ঝিঙে-আলুর তরকারিতে ঝোলের বন্যায় ভাসছে সব্জি। সঙ্গে আলু ও করলা ভাজা, পেঁয়াজ-লেবু-লঙ্কা ও দই।

এই খাবারের দাম সেন্ট্রাল এক্সাইজ ক্যান্টিনে যা রাস্তা পেরোলেই তা বেড়ে যাচ্ছে দ্বিগুণের বেশি। এ তো সিএবির অর্থেরও অপচয়। চিকেন বা মাছ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু মাঠকর্মীরা কাজ হারানোর ভয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। যদিও খাবারের দশা দেখলে সকলেই বুঝবেন ডাল মে কুছ কালা হ্যায়!

সিএবি-র চিফ কিউরেটর বিষয়টি সিএবি কর্তাদের জানিয়েছেন। তাঁর পক্ষে রোজ খাবারের গুণমান পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। আইপিএলের সময় প্রিন্স ক্যাটারারের থেকে যে প্যাকেট আসে তা নিয়ে অভিযোগ নেই। কিন্তু অভিযোগ সেন্ট্রাল এক্সাইজের ক্যান্টিনের খাবার নিয়েই। তবে চিফ কিউরেটরের কথাতেও যে কাজ হয় না সেই ছবি এখনও স্পষ্ট।

আইপিএলের আসরে এবার প্রথম ম্যাচে বিজলি গ্রিলকে সরিয়ে মুন্না মহারাজকে আনা নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। আচমকা এই পরিবর্তনে অনিয়মের অভিযোগও ছিল। জঘন্য পরিষেবায় ক্ষুব্ধ সিএবি পরের ম্যাচ থেকেই পরিস্থিতি সামাল দেয়। এরপর সিক্স বালিগঞ্জ প্লেস হয়ে ফের কামব্যাক করেছে বিজলি গ্রিল।
সিএবি কর্তারা অতিথি আপ্যায়নে রকমারি খাবারের বন্দোবস্ত করে থাকেন। কিন্তু মাঠকর্মীদের খবর কজন রাখেন? সিএবির যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাস ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে বলেন, সিএবিতে খাবার লাগলে নিজস্ব ক্যান্টিন থেকেই তা নেওয়া হয়। মাঠকর্মীদের জন্য অনেকদিন ধরেই খাবার সেন্ট্রাল এক্সাইজ ক্যান্টিন থেকে আসে। এতদিন অভিযোগ পাইনি।

দেবব্রত দাস আরও জানিয়েছেন, এবার যে অভিযোগ এসেছে তা নিশ্চিতভাবেই আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখব। ডাকা হয়েছে ওই ক্যান্টিনের ভারপ্রাপ্তকে। সমস্যা সমাধানে আমরা সর্বতোভাবে পদক্ষেপ করব। তবে সিএবিতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত এমন কেউ কেউ কিছু কাজকর্ম করছেন যাতে সিএবিরই বদনাম হচ্ছে, তাঁরাই সেই চেষ্টা করে চলেছেন।

সূত্রের খবর, এই ক্যান্টিনের খাবার আনার পিছনেও রয়েছেন সিএবির এক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। যাঁর নামের মতোই খাবারের দামেও ফারাক। সিএবির যাতে বদনাম না হয় তা নিশ্চিত করা দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের কর্তব্যের মধ্যেও পড়ে। সিএবির পদক্ষেপের দিকে ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার নজর থাকবে।
দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম হিসেবে আমরা চাই খেলা হওয়ার পিছনে যে মাঠকর্মীদের বিপুল অবদান, ভালো থাকুন তাঁরাও। সিএবির অর্থের অপচয়ই বা কেন হবে? হয় এই অর্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ খাবার আসুক। নয়তো খরচ বাঁচিয়ে তা লাগানো হোক ক্রিকেটের উন্নতিতেই।
আইপিএলের সব খবরের আপডেট, স্কোর, স্ট্যাটিসটিক্স, ছবি, ভিডিও একনজরে












Click it and Unblock the Notifications