IPL 2022: শাহবাজের বাংলা থেকে আরসিবির সেতুবন্ধনে অবদান জয়দীপের, ক্যাটিচও কীভাবে নেন বড় ভূমিকা?
শাহবাজ আহমেদ যেভাবে রাজস্থান রয়্যালসকে হারানোর ক্ষেত্রে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পরিত্রাতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন তা দেখে মোটেই অবাক নন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা কোচ জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। তাঁর মতে, এখনও শাহবাজের দক্ষতার ১০০ শতাংশ দেখা যায়নি। বল হাতেও বাংলার অলরাউন্ডার ম্যাজিক দেখাতে পারেন বলে জানিয়েছেন জয়দীপ।

শাহবাজের কেরিয়ার
কলকাতায় ক্লাব ক্রিকেট খেলতে শাহবাজ আহমেদ এসেছিলেন ২০১৫ সালে। তপন মেমোরিয়ালের হয়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দেন। এরপর বাংলার অনূর্ধ্ব ২৫ দলে সুযোগ। সেখান থেকে বাংলার সিনিয়র দলে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে রঞ্জি অভিষেক হায়দরাবাদে। তার আগেই অবশ্য বাংলার হয়ে সেপ্টেম্বর মাসে বিজয় হাজারে ট্রফি খেলেছিলেন, অভিষেক হয়েছিল চেন্নাইয়ে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কটকে হরিয়ানার বিরুদ্ধে বাংলার হয়ে সৈয়দ মুস্তাক আলিতে টি ২০ অভিষেক হরিয়ানার গ্রাম থেকে বাংলায় আসা শাহবাজের। ইতিমধ্যেই রঞ্জিতে বল হাতে হ্যাটট্রিক করেছেন। এ বছরের রঞ্জিতেও তিনি বল ও ব্যাট হাতে বাংলার সাফল্যের পিছনে অবদান রেখেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৬ ম্যাচে ৬টি অর্ধশতরান-সহ ৭৭৯ রান করার পাশাপাশি ৪৫ উইকেট পেয়েছেন। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ২৬ ম্যাচে ৬৬২ রান করেছেন, ২টি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি-সহ, ২৪টি উইকেট রয়েছে। টি ২০ ক্রিকেটে ৪৩টি ম্যাচ খেলেছেন ১টি অর্ধশতরান-সহ ৩৬৫ রান করেছেন, ঝুলিতে ৩৫ উইকেট।
স্টোকস-ভক্ত বাংলার জাদেজা
রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছেন। একইভাবে ২০২০ সালের রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে রাজস্থানের বিরুদ্ধে বাংলাকে একার কাঁধে জিতিয়েছিলেন। জয়পুরের ম্যাচে বাংলা ১২৩ রানে অল আউট হয়ে গিয়েছিল। ১১৮ রানে পিছিয়ে পড়া বাংলার সামনে শেষে জয়ের টার্গেট দাঁড়ায় ৩২০। ১৯৩ রানে ৫ উইকেট, ২০৮ রানে ৬ উইকেট পড়ার পরেও শাহবাজ ১৩৩ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাকে ২ উইকেটে জিতিয়েছিলেন। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ৫৭ রানে ৭ উইকেট তাঁর রঞ্জি কেরিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। বাংলা দলের মেন্টর ভিভিএস লক্ষ্মণ শাহবাজকে ভারতীয় দলে রবীন্দ্র জাদেজার ভূমিকা পালনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেটাই তাতিয়ে দেয় শাহবাজকে। তিনি পছন্দ করেন বেন স্টোকসকেও।

খুশি জয়দীপ
শাহবাজের গতকালের ইনিংস দেখে তাই অবাক নন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, "এমন বুদ্ধিদীপ্ত ইনিংস খেলতে শাহবাজকে ক্লাব ক্রিকেটে দেখেছি, বাংলার হয়েও দেখেছি। শাহবাজ আরও ভালো খেলবে। ওর দক্ষতার ৬০-৭০ শতাংশই এখনও অবধি দেখা গিয়েছে। বল হাতে চার ওভার যে কোনও দিন করতে পারে। মার খায় না, সঠিক জায়গায় বল ফেলে। কাকে কীভাবে বল করতে হয় সেই অনুযায়ী চাপের মুখেও দারুণ বোলিং করতে পারে। চার ওভারে ২৪ থেকে ২৮ রানের বেশি সচরাচর দেয় না। আসলে যে ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে শাহবাজ উঠে এসেছে তাতে চাপকে ও আত্মস্থ করে ফেলেছে। বাইরে থেকে বাংলায় এসে দেড় হাজার রান, ৭০ উইকেট নিতে হয়েছে। অনূর্ধ্ব ২৫ কিংবা বাংলা সিনিয়র দল, এমনকী ক্লাব ক্রিকেটেও ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের বিরুদ্ধে চাপের মুখে ভালো ইনিংস খেলেছে। ছোটবেলা থেকে এতটাই চাপ সামলে উঠে এসেছে এবং গত ৭ বছরে বাংলায় সামলাচ্ছে তাতে আর শাহবাজের অসুবিধা হয় না। চাপের লেভেল বাড়ছে, কিন্তু তা আর কোনও বাধা নয়।"

ক্যাটিচের অবদান
শাহবাজের আরসিবিতে সুযোগের বিষয়ে আলোকপাত করে জয়দীপ জানান, "আমি আর সাইমন ক্যাটিচ কেকেআরে সহকারী কোচ ছিলাম। আমরা ভালো বন্ধু। ক্যাটিচ পরে আরসিবিতে যান, হেড কোচও হন। সেখানে গিয়ে আমার কাছে বাংলার ক্রিকেটারদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছিলেন। আমি শাহবাজ, আকাশ দীপ, মুকেশদের কথা বলেছিলাম। ওরা বাঁহাতি ব্যাটার, স্পিনার খুঁজছিল। শাহবাজকে নেয়। এখন তো আকাশ দীপও আরসিবির প্রথম একাদশে থাকছে। আমার কথা শুনে আকাশ দীপকেও ক্যাটিচ দেখতে চেয়েছিলেন। একটা কথাই বলব, শাহবাজের আরসিবিতে সুযোগ পাওয়া এবং যেখানে আজ শাহবাজ পৌঁছে গিয়েছে সে ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রয়েছে ক্য়াটিচের। মনে আছে, বাংলার খেলা চলছিল বলে আমরা কলকাতার বাইরে। নিলাম দেখছিলাম সকলে মিলে। শাহবাজকে আরসিবি নেওয়ার একটু পরেই ক্যাটিচ মেসেজ করেন। লেখেন, বাংলার প্লেয়ার এখন আমাদের সঙ্গে। ক্যাটিচ এবার কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নেই। তবে শাহবাজের পারফরম্যান্স দেখে তাঁকে আমি মেসেজ করেছি।"
ছবি- আরসিবি
কেকেআরে ব্রাত্য বাংলা
পাঞ্জাব কিংস, আরসিবি, গুজরাত টাইটান্সে যেখানে বাংলার ক্রিকেটাররা রয়েছেন, সেখানে কেকেআরে বাংলার কেউ নেই। অথচ বাংলার ক্রিকেটাররা যে ম্যাচ জেতাতে দক্ষ তা শামিদের পাশাপাশি দেখাচ্ছেন শাহবাজ, আকাশ দীপরাও। এ প্রসঙ্গে জয়দীপ বলেন, "আমি কেকেআরের সঙ্গে যুক্ত নই, ধারাভাষ্যের কাজে রয়েছি। জানি না কোন ভাবনা কাজ করছে। আমার সময় সায়নশেখর মণ্ডল, সায়ন ঘোষ, দেবব্রত দাসরাও তবু কেকেআরে ছিল। লোকাল ক্রিকেটার খেলাতেই হবে। বাংলা এখন সব ধরনের ফরম্যাটেই ভালো খেলছে। অনেক ভালো ক্রিকেটার রয়েছেন। এই উদীয়মান ক্রিকেটারদের কলকাতা নাইট রাইডার্স নিলে তাঁরাও উৎসাহ পাবেন। কিন্তু এক-দুজনকেও কেন নিচ্ছে না এটাই দুঃখের।"












Click it and Unblock the Notifications