IPL 2022: মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পরাজয়েও নজির গড়ে উজ্জ্বল তিলক, হায়দরাবাদ থেকে আইপিএলের আসরের পথ কেমন?
আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অনুশীলনেই নজর কাড়ছিলেন। টুর্নামেন্ট শুরুর পর বছর ১৯-এর হায়দরাবাদি বাঁহাতি ব্যাটারের উপর ভরসা রাখে টিম ম্যানেজমেন্ট। হতেই পারে চলতি আইপিএল তিলক বর্মার মতো ভবিষ্যতের তারকা উপহার দিতে চলছে। আজ রাজস্থান রয়্যালসের কাছে হেরে গিয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। তবু দুরন্ত অর্ধশতরানে নজর কাড়লেন তিলক। হায়দরাবাদ ব্যাটারের চারিত্রিক দৃঢ়তা, লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা বিভিন্ন মহলে।

তিলকের নজির
জয়ের জন্য ১৯৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৭০ রানের বেশি এগোতে পারেনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। তবে দলের হয়ে এদিন সর্বাধিক রান করলেন তিলক বর্মা। চারে নেমে খেললেন ৩৩ বলে ৬১ রানের ইনিংস। অভিজ্ঞ অশ্বিনের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তিনটি চার ও পাঁচটি ছক্কা হাঁকান। ওপেনার ঈশান কিষাণ (৪৩ বলে ৫৪)-র সঙ্গে তিলকের তৃতীয় উইকেট জুটিতে ওঠে ৭১ রান। ২৮ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিলক। ১৯ বছর ১৪৫ দিনের মাথায় আইপিএলে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই অর্ধশতরান করার পাশাপাশি তিনিই হলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সর্বকনিষ্ঠ অর্ধশতরানকারী।

হায়দরাবাদের ব্যাটার
তিন বছর আগে তিলকের রঞ্জি অভিষেক হয়েছিল হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে। ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে তিনি ভারতীয় দলে ছিলেন। সেবার ফাইনালে ভারত হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশের কাছে। সেই বিশ্বকাপে তিলক ৩৮ ও ৪৮ রান করেছিলেন দুটি ম্যাচে সুযোগ পেয়ে। ১৯ বছরের এই ক্রিকেটার হায়দরাবাদের হয়ে ২০২১-২২ মরশুমেও দুরন্ত ছন্দে ছিলেন। বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৫ ম্যাচে ১৮০ রান করেন, এটিই ছিল হায়দরাবাদের কোনও ক্রিকেটারের ওই টুর্নামেন্টে সর্বাধিক স্কোর। রঞ্জি ট্রফির ৬ ইনিংসে তিলক ২১৬ রান করেছেন। সৈয়দ মুস্তাক আলি টি ২০-র ৭ ইনিংসে তিনি করেন ২১৫ রান, স্ট্রাইক রেট ১৪৭.২৬।

নজর কাড়ছেন
তিলক বর্মাকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স নিয়েছে ১.৭ কোটি টাকায়। আইপিএলে দল পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় তিলক জানান, আমারও আইপিএল খেলার স্বপ্ন ছিল। গোটা মরশুমেই খেলার সুযোগ পেতে নিজেকে উজাড় করে দেব। বিভিন্ন দলের সিলেকশন ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার পর আইপিএলের ইতিহাসে সফলতম দলের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ নিঃসন্দেহে তিলকের কেরিয়ারে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে। প্রথম ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে করেছিলেন ১৫ বলে ২২, তিনটি চারের সাহায্যে। তারপরই আজকের এই দুরন্ত ইনিংস। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিলক ৪ ম্যাচে ২টি হাফ সেঞ্চুরি-সহ ২৫৫ রান করেছেন। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ১৬ ম্যাচে রান ৭৮৪, তিনটি করে শতরান ও অর্ধশতরান রয়েছে। ১৭টি টি ২০ ম্যাচে তিলক ১৪৮-এর উপর স্ট্রাইক রেটে ৪৬৪ রান করেছেন। চারটি অর্ধশতরান রয়েছে।

গর্বিত বাবা-মা
তিলকের বাবা নাগরাজু ও মা গায়ত্রী ছেলের আইপিএলের ম্যাচ দেখতে মুম্বই এসেছেন। গত রবিবার ম্যাচের পর তাঁরা জানিয়েছিলেন, তিলক যখন হায়দরাবাদের বয়সভিত্তিক দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তখন, এমনকী তারপরেও তিলকের খেলা দেখতে তাঁরা মাঠে যাননি। তিলকের বাবা পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান নাগরাজু জানিয়েছেন, ছেলের জোরাজুরিতেই তাঁরা আইপিএলের খেলা দেখতে এসেছেন। যে শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে তিলক নিজের কেরিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তাতে তাঁর বাবা-মা নিশ্চিত সাফল্য আসবেই।
কঠিন পরিশ্রমের সুফল
তবে তিলকের চলার পথ অনেকের মতোই মসৃণ ছিল না। নাগরাজুর কথায়, কঠিন সময়ে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর কোচ সালাম বায়াশের কথা সবার আগে উল্লেখ করতে হবে। অনূর্ধ্ব ১৪ ক্রিকেটার হিসেবে তিলক উপ্পলের রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে যেতেন। ৩০ কিলোমিটার দূরে মাঠে পৌঁছানোর জন্য ভোর চারটেয় উঠতে হতো। সকালে ছেলেকে মাঠে রেখে নিজের কাজ সেরে বিকেলে মাঠ থেকে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরতেন নাগরাজু। সেই পাঁচ বছরের কঠোর পরিশ্রমেরই সুফল এখন মিলছে। তিলক মা গায়ত্রীকে বলেছিলেন, চিন্তা করার দরকার নেই। অনুশীলনে ভালোই ছন্দে রয়েছি, দলের হয়ে অবদান রাখতে প্রস্তুত। মাঠে বসে ছেলের খেলা দেখে স্বাভাবিকভাবেই গর্বিত রত্নগর্ভা।
গর্বিত কোচ
আইপিএলে নামার আগে গত রবিবার সকালে কোচ বায়াশের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয় তিলকের। তাঁর কথায় আত্মবিশ্বাসের ছাপ ছিল স্পষ্ট। তিলক আকাদেমির অনেকের সঙ্গেও কথা বলেন। তিলকের পারফরম্যান্স, বর্ণময় সফর অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আত্মবিশ্বাসী তিলকের কোচ।












Click it and Unblock the Notifications