IPL 2022: পৃথ্বী শ প্রসঙ্গে উচ্ছ্বসিত ডেভিড ওয়ার্নার, দিল্লির কার খেলা দেখে শেহওয়াগের কথা মনে পড়ছে পাঠানের?
চলতি আইপিএলে জোড়া শতরান-সহ সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী জস বাটলার যেমন রাজস্থান রয়্যালসকে শক্ত ভিতে দাঁড় করাচ্ছেন, তেমনই দিল্লি ক্যাপিটালসের সাফল্যের চাবিকাঠিও ওপেনিং জুটি। টিম সেইফার্টের সঙ্গে পৃথ্বী শ-র ওপেনিং জুটি প্রথম দুটি ম্যাচে উল্লেখযোগ্য কিছু না করতে পারলেও ডেভিড ওয়ার্নার আসতেই চিত্র বদলে গিয়েছে। এবারের আইপিএলে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে ওয়ার্নার-পৃথ্বী জুটি।

চলতি আইপিএলে ওয়ার্নার
লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ১২ বলে মাত্র ৪ রানে আউট হয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। তা সত্ত্বেও পৃথ্বী শ বিস্ফোরক মেজাজে থাকায় ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৭.৩ ওভারে ৬৭ রান। যদিও এরপর টানা তিনটি ম্যাচে অর্ধশতরান করেছেন অস্ট্রেলিয়ার টি ২০ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে করেন ৪৫ বলে ৬১। ৩৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেছিলেন, সেই ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছয়। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৮.৪ ওভারে ৯৩। আরসিবি ম্যাচে আবার পৃথ্বী সফল না হলেও ওপেনিং জুটিতে ৪.৪ ওভারে ৫০ রান উঠেছিল। সেই ম্যাচে চারটি চার ও পাঁচটি ছয়ের সাহায্যে ডেভিড ওয়ার্নার ৩৮ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন। ২৯ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন ওয়ার্নার। পাঞ্জাব কিংস ম্যাচে ডেভিড ওয়ার্নার ১০টি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে ৩০ বলে ৬০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ওয়ার্নারের হাফ সেঞ্চুরিটি এসেছিল ২৬ বলে। পাওয়ারপ্লে-র ৬ ওভারে দিল্লি ক্যাপিটালস তোলে বিনা উইকেটে ৮১। এই ম্যাচে ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৬.৩ ওভারে ৮৩ রান।

বিধ্বংসী পৃথ্বী
এবারের আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে পৃথ্বী শ করেছিলেন ২৪ বলে ৩৮। চারটি চার ও দুটি ছয়ের সাহায্যে। গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে পৃথ্বী করেন ৭ বলে ১০। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে করেন ৩৪ বলে ৬১, ৯টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে। ৩০ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেছিলেন। কেকেআরের বিরুদ্ধে ২৭ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন পৃথ্বী। সাতটি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ২৯ বলে ৫১ রান করেন তিনি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে ১টি করে চার ও ৬ মেরে পৃথ্বী ১৩ বলে ১৬ রান করে আউট হন। পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে পৃথ্বী শ করেন ২০ বলে ৪১, তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও একটি ছয়।

উপভোগ্য পার্টনারশিপ
পৃথ্বী শ এর আগে শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে জুটিতেও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছেন আইপিএলে। এবার ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে তাঁর সমীকরণটিও বেশ জমজমাট। সর্বোপরি ওয়ার্নার নিজে উপভোগ করছেন এই জুটি। পৃথ্বী আগ্রাসী মেজাজে থাকার ফলে ওয়ার্নারের উপর চাপও কিছুটা কমে যাচ্ছে। পৃথ্বীর প্রশংসা করে ওয়ার্নার স্টার স্পোর্টসের ক্রিকেট লাইভ অনুষ্ঠানে বলেছেন, পৃথ্বীর সঙ্গে ওপেন করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। যে দ্রুতগতিতে তিনি ব্যাট চালান এবং বলের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন তা অসাধারণ। দৌড়ে রান নেওয়ার চেয়ে বাউন্ডারি মারতে ভালোবাসেন। ফলে আমাকেও খুব বেশি রান তোলার জন্য দৌড়াতে হচ্ছে না। প্রথম বল থেকেই ম্যাচের রাশ আমাদের হাতে যাতে থাকে তার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন পৃথ্বী। নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী দুজনে মিলে ইতিবাচক খেলা চালিয়ে যাওয়াই যে লক্ষ্য, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ওয়ার্নার।

পাঠানের প্রশংসা
ইরফান পাঠানও পৃথ্বী শ-র খেলার প্রশংসা করেছেন। তাঁর কথায়, শ-র টেকনিক দুর্দান্ত। তাঁর হাই ব্যাকলিফট যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনই সে কারণেই এত ভালো তাঁর টাইমিং। পৃথ্বীর খেলা দেখে আমার বীরেন্দ্র শেহওয়াগের কথা মনে পড়ে যায়। বিশেষ করে পৃথ্বী যখন স্কোয়ার কাট, পুল, স্ট্রেট ড্রাইভ মারেন। ব্যাকফুটে মিড অফের দিক দিয়ে তিনি এমনভাবে শট খেলেন তাতে ভালো বলকেও দেখে মনে হয় খারাপ বল। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিং নিঃসন্দেহে চিত্তাকর্ষক। ভালো স্ট্রাইক রেট বজায় রেখে চাপের মুখেও দ্রুতগতিতে রান তুলতে দক্ষ পৃথ্বী। তিনি এককথায় পারফেক্ট হিটার।












Click it and Unblock the Notifications