ফের আইপিএলের শুরুতেই পরাস্ত মুম্বই, এবি-র বুড়ো হাড়ে ভেল্কি, চাপ সামলে আনলেন বিরাট-জয়
আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের ধারা অব্যাহত রইল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। এই নিয়ে টানা ৯ বছর প্রথম ম্যাচে পরাস্ত হলো আইপিএলের সফলতম দল। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে রোহিত শর্মাদের চাপে রাখে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। এরপর হর্ষল প্যাটেলের বিধ্বংসী স্পেল আর বিরাট কোহলি ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের জুটিতে জয়ের ভিত তৈরি হয়। যদিও একটা সময় দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল আরসিবি। তবে অভিজ্ঞ এবি ডি ভিলিয়ার্সের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে স্নায়ুযুদ্ধ ২ উইকেট জিতল আরসিবি। ডেথ ওভারে বিপজ্জনক জশপ্রীত বুমরাহকে এবি সামলালেন পরিকল্পিত ব্যাটিংয়ে। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৭। চতুর্থ বলে দুই রান নিতে গিয়ে ২৭ বলে ৪৮ রান করে রান আউট হন এবি। শেষ দুই বলে দরকার ছিল ২। জয় এলো শেষ বলে।

বিরাট-ম্যাক্স জুটি
জয়ের জন্য দরকার ১৬০। এই অবস্থায় ৪৬ রানে দুই উইকেট পড়ার পর বিরাট কোহলি ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ঝোড়োগতিতে রান তুলে দলের রান এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। তাঁদের জুটিতে ওঠে ৫২ রান। জশপ্রীত বুমরাহ-র বলে বিরাট কোহলি যখন লেগ বিফোর হন আরসিবি তখন ১২.৩ ওভারে তিন উইকেটে ৯৮। এরপর একই ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিরাট কোহলিকে নেটে বোল্ড করা মার্কো জেনসেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও শাহবাজ আহমেদের উইকেট তুলে নিয়ে চাপ বাড়ান। ম্যাক্সওয়েল ২৮ বলে ৩৯ করে আউট হন। শাহবাজ আউট হন ১ রানে। ১৫ ওভারে ৫ উইকেটে আরসিবি-র স্কোর ছিল ১০৬ রান। ১৬.৩ ওভারে ড্যান ক্রিশ্চিয়ানের উইকেটটি তুলে নেন বুমরাহ। আরসিবি-র ষষ্ঠ উইকেট পড়ে ১২২ রানে।

ওপেনিংয়ে চমক
দেবদত্ত পাড়িক্কল করোনা নেগেটিভ হয়ে অনুশীলন করলেও প্রথম ম্যাচে তাঁকে খেলায়নি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। রজত পাতিদারের অভিষেক হলেও তাঁকে নামানো হয় তিনে। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১৬০ রান তুলতে ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে ব্যাট করতে নামেন বিরাট কোহলি। তাঁদের জুটিতে ৪.২ ওভারে ওঠে ৩৬ রান। ১৬ বলে ১০ রান করে ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার বলে ক্রিস লিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সুন্দর। তিনে নামা পাতিদার ৮ রান করে ট্রেন্ট বোল্টের বলে বোল্ড হন। ৫.৫ ওভারে ৪৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে আরসিবি-র।

বিধ্বংসী হর্ষল
বহুদিন পর টস জিতে প্রথমেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন বিরাট কোহলি। এদিন কয়েন তোলেন রোহিত শর্মা, বিরাট হেড কল করেন। টস জিতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ব্যাট করতে পাঠান আরসিবি অধিনায়ক। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রানের বেশি এগোতে পারেনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। শেষ ওভারে একটি রান আউট-সহ চার উইকেট পড়ে। হর্ষল প্যাটেল ওই ওভারে তিন উইকেট নেন, খরচ করেন মাত্র ১ রান। ২৭ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নেন হর্ষল প্যাটেল। টি ২০ ম্যাচে তাঁর কেরিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধেও তাঁর আগে কেউ কোনও ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেননি।

ফারাক গড়ল শেষ ওভার
শেষ চার ওভারে ৫ উইকেট খুইয়ে রোহিতের দল মাত্র ২৪ রানই তুলতে সক্ষম হয়। ৩৫ বলে সর্বাধিক ৪৯ রান করেন ক্রিস লিন। সূর্যকুমার যাদব ৩১ ও ঈষান কিষাণ ২৮ রান করেন। এই ম্যাচে অভিষেক হওয়া ক্রিস লিনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে এবং কোহলির ক্ষিপ্রতায় ১৯ রানে রান আউট হন রোহিত শর্মা। শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে ম্যাচের সেরা হর্ষলের শিকার হন যথাক্রমে ক্রুণাল পাণ্ডিয়া ও কায়রন পোলার্ড। চতুর্থ বলে বোল্ড হন মার্কো জেনসেন। শেষ বলে রান আউট হন রাহুল চাহার। কাইল জেমিসন ও ওয়াশিংটন সুন্দর নেন একটি করে উইকেট। তবে বাংলার শাহবাজ আহমেদ ১ ওভারে ১৪ রান দেওয়ার পর তাঁকে দিয়ে আর বোলিং করানোর ঝুঁকি নেননি বিরাট। নিজের শততম ম্যাচে ৪ ওভারে ৪১ রান দিয়েও কোনও উইকেট পাননি যুজবেন্দ্র চাহাল।












Click it and Unblock the Notifications