আইপিএলে শেষ দুই দলের লড়াই, রাজস্থানকে হারাতে মরিয়া কেকেআর, রাসেল-ঝড়ের পূর্বাভাস
মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় শেষ দুই দলের লড়াই। পাঞ্জাব কিংস মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারাতেই সাতে নেমে গিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। আটে রয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। কেকেআর জয় দিয়ে আইপিএল অভিযান শুরু করলেও শেষ তিনটি ম্যাচেই হেরেছে। রাজস্থান রয়্যালস হেরেছে শেষ দুটি ম্যাচ। চারটি ম্যাচে দুই দলের ঝুলিতেই ২ পয়েন্ট, তবে নেট রান রেট কিছুটা ভালো থাকায় সাতে রয়েছে কেকেআর। দুই দলই জয়ের লক্ষ্যে ফিরতে মরিয়া এবং জিতলে নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা হলেও উপরে উঠে আসতে পারবেন। ফের হারলে কেকেআর নেমে যাবে পয়েন্ট তালিকার একেবারে নীচে অষ্টম স্থানে। তবে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে লড়াকু ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে পরিসংখ্যানেও এগিয়ে থেকে শুরু করবেন নাইটরা।

এগিয়ে নাইটরা
কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রাজস্থান রয়্যালস পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে ২৩ বার। ১২টি ম্যাচে জিতেছে কেকেআর। রাজস্থান জিতেছে ১০টিতে। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। বহু বছর দুই দলই আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। ২০০৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আর আইপিএল জয়ের স্বাদ পায়নি রাজস্থান রয়্যালস। কলকাতা নাইট রাইডার্স ২০১২ ও ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়। গত দুই বছর ধরেই কেকেআর জঘন্য পারফর্ম করেছে আইপিএলে। রাজস্থান রয়্যালসের অবস্থাও গত বছর ছিল সবচেয়ে খারাপ। গত বছর অবশ্য দুটি সাক্ষাতের দুটিতেই বড় ব্যবধানে জিতেছিল কেকেআর। প্রথম সাক্ষাতে ৩৭ রানে জেতার পর ফিরতি ম্যাচ ৬০ রানে জিতেছিল নাইটরা। ২০১৮ সালের এলিমিনেটরে রাজস্থানকে কেকেআর হারিয়েছিল ২৫ রানে। অধিনায়ক বদলে দুই দলই এবার ভালো কিছু করতে বদ্ধপরিকর।
(ছবি- বিসিসিআই/আইপিএল)

নজরে নজির
কেকেআরের হয়ে আইপিএলে ৯৯২ রান করেছেন দীনেশ কার্তিক। আর ৮ রান করলেই তিনি কেকেআরের ১ হাজার রান করার নজির গড়বেন। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে কেকেআরের এই দলে সবচেয়ে বেশি রানও (৫১৯) তাঁর দখলে। কেরিয়ারের সেরা অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসও রাজস্থানের বিরুদ্ধেই খেলেছিলেন কার্তিক। ২৯৯টি টি ২০ ইনিংসে ৬৯৫৭ রান করেছেন ইয়ন মর্গ্যান। কেকেআর অধিনায়কের টি ২০-তে সাত হাজার রানের মাইলস্টোন স্পর্শ করতে দরকার ৪৩ রান। ৮১ ইনিংসে ডেভিড মিলার ১৯১৪ রান করেছেন আইপিএলে। আইপিএলে ২ হাজার রান পূর্ণ করতে তাঁর দরকার ৮৬ রান। আন্দ্রে রাসেলের বিরুদ্ধে রাজস্থান রয়্যালসের বোলারদের মধ্যে সফলতম ক্রিস মরিস। ২০ বলে ৩২ রান খরচ করে তিনবার রাসেলের উইকেট পেয়েছেন আইপিএলের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার। আবার ৪৫ বলে ৩৯ রান করলেও রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন তিনবার সুনীল নারিনের শিকার হয়েছেন।
(ছবি- বিসিসিআই/আইপিএল)

কেকেআরের সম্ভাব্য একাদশ
চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়েও ২০২ রান অবধি পৌঁছেছিল কেকেআর। প্যাট কামিন্স, আন্দ্রে রাসেল ও দীনেশ কার্তিকের ব্যাটিং তাণ্ডব দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও শুভমান গিল, ইয়ন মর্গ্যানদের ফর্ম চিন্তা বাড়াচ্ছে। বল হাতে সুনীল নারিন, বরুণ চক্রবর্তীরা ভরসা দিচ্ছেন। আগের ম্যাচে অবশ্য পেসাররা অনেক রান খরচ করে ফেলেছেন। তবু খুব বেশি রদবদলের সম্ভাবনা নেই নাইটদের প্রথম একাদশে। কমলেশ নাগরকোটির জায়গায় খেলানো হতে পারে শিবম মাভিকে। নাইটদের প্রথম একাদশ হতে পারে এরকম: নীতীশ রানা, শুভমান গিল, রাহুল ত্রিপাঠি, সুনীল নারিন, ইয়ন মর্গ্যান (অধিনায়ক), দীনেশ কার্তিক (উইকেটকিপার), আন্দ্রে রাসেল, প্যাট কামিন্স, কমলেশ নাগরকোটি বা শিবম মাভি, বরুণ চক্রবর্তী ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ
(ছবি- বিসিসিআই/আইপিএল)

রাজস্থান রয়্যালসে রদবদল?
টানা দুটি ম্যাচে পরাজয়ের জেরে রদবদল হতে পারে রাজস্থান রয়্যালসে। তবে বেন স্টোকস, লিয়াম লিভিংস্টোন ও জোফ্রা আর্চারের মতো তিন বিদেশি ছিটকে যাওয়ায় খুব বেশি বিকল্প নেই সঞ্জু স্যামসনদের হাতে। দক্ষিণ আফ্রিকার রাসি ভ্যান ডার দুসেনকে নেওয়া হলেও তিনি এখনও ভিসার অপেক্ষায়। তারপর এসে থাকতে হবে সাতদিনের কোয়ারান্টিনে। ফলে রাজস্থান রয়্যালস খুব সমস্যায়। মনন ভোরা বাদ পড়তে পারেন প্রথম একাদশ থেকে। তাঁর জায়গায় খেলানো হতে পারে যশস্বী জয়সওয়াল বা অনুজ রাওয়াতকে। মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গা নিতে পারেন অ্যান্ড্রু টাই। রাজস্থান রয়্যালসের সম্ভাব্য প্রথম একাদশ হতে পারে এরকম: জস বাটলার, যশস্বী জয়সওয়াল বা অনুজ রাওয়াত, সঞ্জু স্যামসন (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), শিবম দুবে, ডেভিড মিলার, রিয়ান পরাগ, রাহুল তেওয়াটিয়া, ক্রিস মরিস, জয়দেব উনাদকাট, চেতন সাকারিয়া, মুস্তাফিজুর রহমান বা অ্যান্ড্রু টাই।
(ছবি- বিসিসিআই/আইপিএল)

ঝড়ের পূর্বাভাস
ঝোড়ো অর্ধশতরান করেও দলকে জিতিয়ে আসতে না পারায় হতাশ আন্দ্রে রাসেল। স্যাম কারানের বল ওয়াইড ভেবে ছাড়তে গিয়ে বোল্ড হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ ড্রেসিংরুমে না ঢুকে সিঁড়িতে বসে ছিলেন দ্রে রাস। রাগ, হতাশা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। রাসেল বলেছেন, দলকে না জিতিয়ে আসতে পেরে, ওভাবে আউট হয়ে মন ভেঙে গিয়েছিল। আমি আগেও অনেক অসম্ভব জয়কে সম্ভবে পরিণত করেছি। নিজের প্রতি বিশ্বাস রয়েছে যতক্ষণ ক্রিজে থাকব, জয়ের আশা কেউ ছাড়বেন না। ২০ বলে ১০০ দরকার থাকলেও আমি চেষ্টা চালিয়ে যেতে চাই আপ্রাণ। কিন্তু চেন্নাই ম্যাচে বল ছেড়ে বোল্ড হয়ে আবেগপ্রবণ, হতাশ হয়ে পড়ি। দলকে জেতাতে চেয়েছিলাম, কাজ সম্পূর্ণ না করতে পারায় ভেঙে পড়ি। হার্টব্রোকেন! ভাবছিলাম সাজঘরে গিয়ে কীভাবে সতীর্থদের মুখ দেখাব! তবে এই আবেগ আমার সেরাটা বের করে আনে। পজিটিভ রয়েছি, মনকে শক্ত করেছি। বিশ্বাস আছে, খারাপ সময় দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সবচেয়ে বড় কথা, চেন্নাই ম্যাচে আমরা লড়াই ছাড়িনি। সবমিলিয়ে রাসেলের বক্তব্যে যেন আরব সাগরের ধারে ফের ঝড়ের পূর্বাভাস!
(ছবি- বিসিসিআই/আইপিএল)












Click it and Unblock the Notifications