আইপিএলে ধোনির সতীর্থ এখন মেলবোর্নে বাস ড্রাইভার
আইপিএল পরিচিত কোটিপতি লিগ নামে। আইপিএল রাতারাতি কোনও অনামি ক্রিকেটারকে বানিয়ে দেয় লাখপতি বা কোটিপতি। আইপিএল নিলামে অনেক অখ্যাত ক্রিকেটার কয়েক গুণ বেশি দর পান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের চেয়ে। এ সব তো আলো আর জৌলুসের কথা। প্রদীপের নীচেও যে থাকে অন্ধকার। সুরজ রনদিভদের জীবন পরিবর্তন করতে পারেনি আইপিএল। পেশার তাগিদে জনা তিনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার এখন অস্ট্রেলিয়ার বাস ড্রাইভার।

রনদিভের কেরিয়ার
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতের বিরুদ্ধে নাগপুরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় সুরজ রনদিভের। ২০১০ সালের জুলাইয়ে কলম্বো টেস্টে ভারতের বিরুদ্ধেই টেস্ট অভিষেক। শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলেছেন ১২টি টেস্ট, ৩১টি ওয়ান ডে ও ৭টি টি ২০ আন্তর্জাতিক। ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস দলেও ছিলেন ২০১১ ও ২০১৩ সালে। ২০১১-র আইপএল চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল চেন্নাই। আইপিএল থেকে রনদিভের রোজগার হয় ৭৫ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষবার শ্রীলঙ্কার ওয়ান ডে দলে ছিলেন। তারপর ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতেন। এরপর পেশার তাগিদে পাড়ি দেন অস্ট্রেলিয়ায়। পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকেন, রনদিভ এখন বাস ড্রাইভার।

খেলার ইচ্ছা বিগ ব্যাশে
রনদিভ এখন কর্মরত অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। ফরাসি সংস্থা ট্রান্সডেভের বাস চালান। কেউ দেখে চিনতে পারেন। কেউ আবার রনদিভকে মনে করেন শ্রীলঙ্কার অভিনেতা। সম্প্রতি রনদিভকে ডেকেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্নে ভারতের বিরুদ্ধে চতুর্থ টেস্টে অজিদের নেটে হাজির হয়ে ক্রিকেটারদের সহযোগিতা করার জন্য। নেটে দূর থেকে অনেকেই দেখে বলেছিলেন, এ তো সুরজ রনদিভের মতো বোলিং করেন! যখন তাঁরা দেখেন বাস্তবেই রনদিভ, তাঁরা অবাক হয়ে যান। রনদিভ অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নেটে যখন তাঁদের বোলারদের বল করতে ডাকল সেই সুযোগ হাতছাড়া করিনি। বাস চালানোর ফাঁকে অনুশীলন করছি। দেখা যাক যদি বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ মেলে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার বাস ড্রাইভার
সুরজ রনদিভ ছাড়াও আরও অন্তত দুজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মেলবোর্নে একই সংস্থার বাস চালান। জিম্বাবোয়ের ওয়াডিংটন মোয়ায়েঙ্গা ২০০৫ সালে ভারতের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্ট খেলেছেন। ২০০২ থেকে ২০০৪ অবধি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুটি ওয়ান ডে খেলেছেন। শ্রীলঙ্কার চিন্তকা নমস্তের অভিষেকও ভারতের বিরুদ্ধে, দেশের হয়ে খেলেছেন ৫টি টি ২০। তাঁরাও রনদিভের সহকর্মী। সময় পেলে তাঁরা ক্রিকেটের ময়দানেও নেমে পড়েন। পেটের তাগিদে বাস চালাচ্ছেন, প্যাশন তো ক্রিকেটই। বাস চালানোর সময় বহু মানুষের সঙ্গে পরিচিতি হওয়ায় নতুন পেশা তিনজন হাসিমুখেই উপভোগ করছেন।

বাস ও ক্রিকেট
তাঁরা তিনজন যে সংস্থায় কর্মরত সেই সংস্থার মোট কর্মী ১২০০। বিভিন্ন পেশার মানুষ এসে বাস চালাচ্ছেন মেলবোর্নে। রনদিভ, ওয়াডিংটন ও চিন্তকা ভিক্টোরিয়া প্রিমিয়ার ক্রিকেটের অনুমোদনপ্রাপ্ত ড্যানডেনং ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলাও চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা পর্যায়ের হয়ে রনদিভ খেলেছেনও। এই ক্লাবের হয়ে আগে খেলেছেন জেমস প্যাটিনসন, সারা এলিয়ট, পিটার সিডলরা। রনদিভরা চাইছেন আরও কয়েকজন ক্রিকেটার তাঁদের পেশায় এলে ফরাসি সংস্থার ক্রিকেট দল তৈরি করতে।
ছবি- ইনস্টাগ্রাম












Click it and Unblock the Notifications