খাসতালুক হাওড়ায় ভোটের আগের দিন আকাদেমি ও আইপিএল ধারাভাষ্য নিয়ে ব্যস্ত লক্ষ্মীরতন
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের কাল চতুর্থ দফা। হাওড়া জেলায় যেসব কেন্দ্রে কাল ভোট তার মধ্যে লক্ষ্মীরতন শুক্লার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। শুধু নিজের কেন, কয়েক মাস আগেও তো এই হাওড়া সদরের বিধানসভা কেন্দ্রগুলি তৃণমূল জেলা সভাপতি ও রাজ্যের ক্রীড়া এবং যুবকল্যাণ রাষ্ট্রমন্ত্রীর খাসতালুক ছিল। কিন্তু ভোটের আগের দিন রাজনীতি থেকে দূরে লক্ষ্মী। ভোট দেবেন। তবে রাজনীতির কচকচানি থেকে দূরে থেকে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা বাংলার অধিনায়ক লক্ষ্মীরতন এখন ব্যস্ত আকাদেমি নিয়ে। আর আজ থেকে আইপিএলে ধারাভাষ্যকারের ইনিংস খেলতেও দেখা যাবে তাঁকে।

নতুন ভূমিকায়
ভোট ঘোষণার অনেক আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্মী জানিয়ে দিয়েছিলেন আর ভোটে লড়বেন না। মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে বিধায়ক হিসেবে কার্যকালের মেয়াদটুকু পূরণ করতে চান। তবে রাজনৈতিক মহলের খবর, গোষ্ঠীকোন্দল-সহ দলের নানাবিধ কাজকর্মে বীতশ্রদ্ধ হয়েই লক্ষ্মী রাজনীতিকে বিদায় জানান। তারপর থেকে শুধুই নিজের কাজে মগ্ন আছেন, সময় দিচ্ছেন নিজের আকাদেমিতে। জল্পনা থাকলেও রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি। হাওড়াতেই এলআরএস বাংলা স্পোর্টস আকাদেমি, যেখানে বিনামূল্যে নানা বয়সের প্রতিভাদের তিনি প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন, সেখানেই আরও বেশি সময় দিতে পারছেন। আইপিএলে যে একশোজন ধারাভাষ্যকারের নাম ঘোষণা করেছে সম্প্রচারকারী চ্যানেল, বাংলায় ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে লক্ষ্মীরতন তাঁদের অন্যতম।

ফেভারিট কেউ নয়
টি ২০ ক্রিকেটে কোনও দলকেই আগেভাগে ফেভারিট মানতে নারাজ লক্ষ্মীরতন শুক্লা। তাঁর কথায়, ম্যাচের আগে কাউকে ফেভারিট বেছে নেওয়া খুব মুশকিলের। তবে যে টিম ভালো খেলবে, মাঠে নিজেদের পরিকল্পনা যারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারবে, ক্রিকেটাররা তাঁদের থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারবেন সেই দলই ম্যাচ জিতবে। মহেন্দ্র সিং ধোনি কেমন খেলেন সেদিকে সকলের মতো আমিও তাকিয়ে থাকিয়ে আছি। খুব এক্সাইটেড আছি বিশেষ করে ধোনিকে নিয়ে। কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে বাঙালি মুখ থাকলে ভালো লাগত। কিন্তু তা যখন হয়নি এবং কলকাতা আমাদের শহর তাই কেকেআরের প্রতিও সমর্থন, ভালোবাসা থাকবে।

বিরাট-রোহিত দ্বৈরথ
টি ২০ বিশ্বকাপে রোহিত শর্মার সঙ্গে ওপেন করার লক্ষ্যে আইপিএলেও ওপেন করবেন বিরাট কোহলি। রোহিত আইপিএলের সফলতম অধিনায়ক। বিরাট একবারও আইপিএল ট্রফি পাননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও একবারের জন্য তাঁর মাথায় আরসিবি ছাড়ার ভাবনা আসেনি। দুই দলের পারস্পরিক সাক্ষাতে গত দুই বারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এগিয়ে থাকলেও লক্ষ্মীর মতে আজকের ম্যাচ উপভোগ্য হবে। তিনি বলেন, রোহিতের সঙ্গে বিশ্বকাপে বিরাটের ওপেন করাটা খুব ভালো সিদ্ধান্ত। দুজনেই আউটস্ট্যান্ডিং ক্রিকেটার, অসাধারণ খেলছেন। আর আইপিএলে ভারতের অধিনায়ক আর সহ অধিনায়কের দ্বৈরথ আমরা আগেও দেখেছি। আজ আবার প্রথম ম্যাচেই দেখতে যাচ্ছি। ব্যাপারটা সত্য়িই এক্সাইটিং।

মাঠেই আছি
রাজনীতি থেকে সরে এসে জীবন উপভোগই করছেন লক্ষ্মী। তিনি বললেন, আমি মাঠের ছেলে। সেখানে কাজের সুযোগ পাচ্ছি, এর থেকে ভালো কিছু হয় না। লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে বানিয়েছে এই মাঠই। সেই মাঠেই ফিরে এসেছি। বিধায়ক বা মন্ত্রী হওয়ার পরও মাঠের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। দ্বিতীয় ডিভিশনের হয়ে ম্যাচও খেলেছি। কোচিং ক্যাম্পে সময় দিয়েছি। আমি কী কাজ করেছি সকলেই জানেন। আমার কাছে এসে খালি হাতে কেউ ফেরেননি, ভবিষ্যতেও ফিরবেন না। আইপিএলে ধারাভাষ্য দেওয়ার সুযোগ পেলাম। সেটা করব। বাংলার উঠতি প্রতিভাদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাও আছি। নিজের কাজ করছি। আকাদেমি দেখছি। ভালোই আছি।

ভবানীপুরের প্রশংসা
জে সি মুখার্জি ট্রফির ফাইনাল গতকাল ইডেনে বসে দেখেছেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা। ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে যেভাবে ভবানীপুর চ্যাম্পিয়ন হলো তার প্রশংসা করে লক্ষ্মী বলেন, ইস্টবেঙ্গলকে ফাইনালে হারিয়ে ট্রফি জেতা ভবানীপুরের এক দারুণ কৃতিত্বের। এর থেকে ভালো কিছু হয় না। এক যুগ ধরে যে দক্ষতার সঙ্গে আবদুল মোনায়েম ভবানীপুরকে কোচিং করাচ্ছেন তাতে এই সাফল্য তাঁর অবশ্যই প্রাপ্য ছিল। অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে তিনি দল পরিচালনা করেন। ফলে এই ট্রফি জেতার সঙ্গে আবদুল ভাই নিজের পাওনাটা পেয়েছেন জেনে ভালো লাগছে।












Click it and Unblock the Notifications