বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ, ৩ মে পর্যন্ত স্থগিত আইপিএল, টুর্নামেন্ট বাতিলের সম্ভাবনা?
বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ, অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত আইপিএল, টুর্নামেন্ট বাতিলের সম্ভাবনা?
করোনা ভাইরাস রুখতে ১৫ এপ্রিল থেকে দেশে জারি হতে চলেছে দ্বিতীয় দফার লকডাউন। প্রাথমিক ভাবে ২৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। এই ২১ দিনে দেশে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে তিনশো পার করেছে।
কঠিন পরিস্থিতিতে তাই মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয় দফায় ৩ মে পর্যন্ত লকডাউনের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন। যারপর আইপিএল টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়বড় প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গেল। দ্বিতীয় দফার লকডাউন ৩ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ায় ঐ দিন পর্যন্ত আপাতত আইপিএল পিছিয়ে দেওয়া হল।

আইপিএল শুরু কবে ছিল
২৯ মার্চ ওয়াংখেড়েতে মুম্বই বনাম চেন্নাই ম্যাচ দিয়ে আইপিএল ২০২০ শুরু হওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে টুর্নামেন্ট ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। এরপর ১৫ এপ্রিল থেকে দেশে এবার দ্বিতীয় দফার লকডাউন শুরু হতে চলেছে। যার ফলে আইপিএল নিয়ে কোনও বৈঠক সম্ভব হল না। প্রথম দফার লকডাউন খুললে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে আইপিএল নিয়ে বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। যদিও নাগরিকদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে বোর্ডে প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় করোনা মুক্ত দেশ গড়া এখন প্রথম লক্ষ্য, পরে আইপিএল নিয়ে ভাবা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন।

আগামী দুমাসেও সম্ভবত নয় আইপিএল
দ্বিতীয় দফার লকডাউন শুরুর পর ক্রিকেট মহলের অনেকেই আগামী দুমাস আইপিএল হওয়ার কোনও ভবিষ্যৎ নেই বলে মনে করছেন। তবে টুর্নামেন্ট বাতিল করলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও বো্র্ডের মাথাব্যথার কারণ। সেক্ষেত্রে জুলাইয়ে আইপিএল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আইপিএল নিয়ে সোমবার বোর্ড কোষাধ্যক্ষ অরুন ধুমাল বিসিসিআই কী ভাবছে জানিয়েছেন।

সৌরভ যা বলেছেন
সৌরভ এই নিয়ে বলেন, 'করোনা আটকাতে লকডাউন জরুরি। এই মুহূর্তে বিশ্বের সর্বত্রই যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এয়ারপোর্টগুলি বন্ধ। পরিস্থিতি প্রতিকূল। প্রতিদিন আমরা আপডেটের উপর নজর রাখছি। মে মাসের মাঝে করোনা মোকাবিলায় ভারত কোথায় দাঁড়িয়ে, সেই পরিস্থিতি দেখে তখন আইপিএল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। '

কোষাধ্যক্ষ যা বললেন
বিসিসিআই কোষাধ্যক্ষ বলেন, 'আইপিএল নিয়ে বোর্ড এখন কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্যকে সবার আগে আমরা প্রাধান্য দেব। কারণে কারণে দেশে যা পরিস্থিতি তাতে লকডাউন আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে আগে লকডাউন পুরোপুরি উঠুক। করোনা থেকে কবে মুক্তি পাওয়া যায় আগে সেই ছবিটা পরিষ্কার হওয়া দরকার। তারপরই আইপিএল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। সবাই আইপিএল হোক, চাইছে। তবে আমাদেরও পরিস্থিতিটা আগে ভেবে দেখতে হবে। লকডাউন উঠলে আইপিএল হবে বলে উত্তেজিত হলে চলবে না। ভারতে পরবর্তী অনেকটা সময় জুড়ে করোনা হটস্পট এলাকাগুলিতে লকডাউন থাকতে পারে। ফলে এখনই আইপিএল নিয়ে কিন্তু সিদ্ধান্তে আসার সময় আসেনি। ''

সোমবারও আইপিএল নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে আসা যায়নি
ধুমালের এই বক্তব্যেই বুঝিয়ে দিচ্ছে আইপিএল অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে বিসিসিআই। সোমবার বোর্ডের তরফে আইপিএল নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে বলে বলা হয়েছিল। কিন্তু এদিনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত বা আইপিএল নিয়ে সম্ভাবনার উল্লেখ করা হয়নি।

আইপিএল না হলে ক্ষতি কত
আইপিএল না হলে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে। প্রসঙ্গত আইপিএল নিয়ে বোর্ডের যেহেতু কোনও বিমা করা নেই, তাই আইপিএল বাতিল ঘোষণা করতে পারছে না বোর্ড। সেজন্যেই পূর্ণ শক্তি দিয়ে বিকল্প পথ বার করে আইপিএল করানো নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করছে বিসিসিআই।

কী কী সম্ভাবনা
সেপ্টেম্বর এশিয়া কাপ করোনার কারণে পিছিয়ে গেলে এই সময়ে আইপিএল হতে পারে। অন্য দিকে করোনার কারণে অক্টোবরের টি-২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপ পিছিয়ে গেলে সেই সময়ে ভারতে আইপিএল আয়োজন করতে পারে বিসিসিআই।












Click it and Unblock the Notifications