যমজ ইন্দ্রজিৎ ও অপরাজিতের রেকর্ড রঞ্জি ট্রফিতে, নাইটদের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত শ্রেয়সের কেকেআর
প্রথম ভারতীয় যমজ হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একই ম্যাচে একই দলের হয়ে একই ইনিংসে শতরান হাঁকিয়ে নজির গড়লেন বাবা ইন্দ্রজিৎ ও বাবা অপরাজিত। এই দুই ভাই খেলেন তামিলনাড়ুর হয়ে। তার মধ্যে ইন্দ্রজিৎকে এবারই আইপিএল নিলাম থেকে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। রঞ্জি থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ- নাইটদের নিয়ে উচ্ছ্বসিত কলকাতা নাইট রাইডার্স।

যমজ ভাইদের শতরান
গুয়াহাটিতে এলিট গ্রুপ এইচের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে তামিলনাড়ু ও ছত্তিশগড়। তামিলনাড়ু ১১৮ ওভারে ৯ উইকেটে ৪৭০ রান তুলে প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ার করেছে। ব্যাট করতে নেমে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে ছত্তিশগড়। তবে এই ম্যাচেই হয়েছে এক নতুন নজির। দুই যমজ ভাই একই দলের হয়ে শতরান হাঁকিয়েছেন। ৫৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট পড়ার পর বাবা ইন্দ্রজিৎ ও বাবা অপরাজিত তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেছেন ২০৬ রান। এর আগে একই ম্যাচে দুই ভাই শতরান করলেও খেলেছিলেন আলাদা দলের হয়ে। দলীপ ট্রফির সেই ম্যাচে ইন্দ্রজিৎ ছিলেন ইন্ডিয়া গ্রিনে, অপরাজিত ইন্ডিয়া রেডে। এবার একই দলের হয়ে একই ইনিংসে। দুই ভাই-ই একে অপরের সঙ্গে ব্যাটিং উপভোগ করেন। এবারও করলেন।

ইন্দ্রজিতের ফর্ম
অজয় মণ্ডলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১৪১ বলে ১২৭ রান করেন বাবা ইন্দ্রজিৎ। মেরেছেন ২১টি চার। চলতি রঞ্জি ট্রফিতে টানা দ্বিতীয় শতরান এলো নতুন নাইটের ব্যাট থেকে। এর আগে দিল্লির বিরুদ্ধেও ১১৭ রান করেছিলেন ইন্দ্রজিৎ। বিজয় হাজারে ট্রফিতেও ছিলেন দারুণ ফর্মে। হিমাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে ফাইনালে তিনি করেন ৮০, সেমিফাইনালে সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে করেন ৫০। এ ছাড়াও মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ৪৫, কর্নাটকের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৫১, বাংলার বিরুদ্ধে ৬৪, কর্নাটকের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে করেছিলেন ৩১ রান।
|
নতুন নাইট
বাবা ইন্দ্রজিৎ প্রয়োজনে কিপিং করতে পারেন, লেগ স্পিন বলও করেন। স্পিন খেলতে পারদর্শী। ২০১৪ সালে এস বদ্রীনাথ তামিলনাড়ু ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় ইন্দ্রজিৎকে মিডল অর্ডারে খেলায় তামিলনাড়ু। ২০১৭-১৮ মরশুমে দলীপ ট্রফি অভিষেকে তিনি দ্বিশতরান করেন, এরপরই মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে হাঁকান ১৫২। পরের মরশুমে তামিলনাড়ুর অধিনায়ক হয়ে রঞ্জিতে প্রথম ম্যাচেই মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে করেছিলেন ১০৩ রান। ইন্দ্রজিৎ প্রথম থেকেই ছন্দে থাকায় অপর প্রান্তে উইকেট ধরে রাখায় মনোযোগী ছিলেন অপরাজিত। পরে তিনি দলের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। ইন্দ্রজিতের দাদা বাবা অপরাজিত ২০১২ সালে ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জয়ে ভালোই অবদান রেখেছিলেন। এদিন তিনি যখন আউট হন তামিলনাড়ুর স্কোর তখন ১১৩.২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫১। তিনে নামা বাবা অপরাজিত করেন ২৬৭ বলে ১৬৬ রান। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১৫টি চার ও চারটি ছয়। শাহরুখ খান করেন ১০৫ বলে ৬৯ রান। আটটি চার ও দুটি ছয়ের সাহায্যে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দুরন্ত ফর্ম রঞ্জিতেও ধরে রেখেছেন শাহরুখ।
|
উচ্ছ্বসিত কেকেআর
এদিকে, কলকাতা নাইট রাইডার্স নাইটদের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত। অ্যালেক্স হেলস পাকিস্তান সুপার লিগের প্রথম এলিমিনেটরে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে জেতানোর পিছনে বড় অবদান রেখেছেন। ৬টি চার ও তিনটি ছয়ের সাহায্যে ৪৯ বলে ৬২ রান করে। রঞ্জিতে সৌরাষ্ট্র ওডিশার বিরুদ্ধে চিরাগ জনির ২৩৫ রানের সুবাদে ৫০১ রান করেছে। এই দলের হয়েই নতুন নাইট শেল্ডন জ্যাকসন ১১২ বলে ৭৫ রান করেছেন।
|
নজরে নাইটরা
ভারত-শ্রীলঙ্কা প্রথম টি ২০ আন্তর্জাতিকে নজর ছিল শ্রেয়স আইয়ারের দিকে। নাইট অধিনায়ক পাঁচটি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ২৮ বলে ৫৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন। তবে শ্রীলঙ্কার চামিকা করুণারত্নেও রয়েছেন কেকেআরে। তিনি চার ওভারে ৪৬ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি।












Click it and Unblock the Notifications