ভারতের টি ২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে কেন গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ? কোন জায়গায় কারা পাবেন সুযোগ?
অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু টি২০ বিশ্বকাপ। ২৩ অক্টোবর ভারত অভিযান শুরু করবে পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে। গত টি ২০ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর দেশের মাটিতে ভারত নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কাকে টি ২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের প্রথম একাদশে যাঁরা থাকেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, জসপ্রীত বুমরাহর মতো তারকাদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় কে সবচেয়ে উপযুক্ত এবং বিকল্পই বা কারা তার আঁচ মিলতে পারে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে সিরিজেই।

বিকল্প ওপেনার
টি ২০ বিশ্বকাপে লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মাই ওপেন করবেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে রাহুলের সঙ্গে কে ওপেন করেন সেটাও দেখার। আগের বিশ্বকাপে ঈশান কিষাণকে দলে রেখেছিলেন নির্বাচকরা। তবে কিষাণের সাম্প্রতিক ফর্ম ভালো নয়। এবারের আইপিএলের মেগা নিলামে সবচেয়ে বেশি দর পেলেও ৪১৮ রান করেছেন ১২০ স্ট্রাইক রেটে। পন্থ রয়েছেন। দীনেশ কার্তিকও যদি একাদশে থাকেন সেক্ষেত্রে আর উইকেটকিপার-ব্যাটার লাগবে না। কেন না, রাহুলও কিপিং করেন। ফলে আইপিএলে চেনা ছন্দে না থাকলেও ব্যাক আপ ওপেনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিমানে উঠতে পারেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। তাঁকেও প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে দেখে নিতে চাইবে টিম ম্যানেজমেন্ট।

মিডল অর্ডার
ভারতের টি ২০ দলে মিডল অর্ডারে একটি জায়গাই খালি রয়েছে। তবে সেই জায়গাটির জন্য লড়াইয়ে অনেকে। তিনে বিরাট কোহলিই খেলবেন। চার নম্বর জায়গাটির জন্য লড়াইয়ে শ্রেয়স আইয়ার, সূর্যকুমার যাদব ও দীপক হুডা। সূর্য অবশ্য চোটের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে নেই। শ্রেয়স তিনেও খুব ভালো খেলেন। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শ্রেয়সের রানগুলি ছিল যথাক্রমে ২৮ বলে অপরাজিত ৫৭, ৪৪ বলে অপরাজিত ৭৪ ও ৪৫ বলে অপরাজিত ৭৩। ফলে দৌড়ে এগিয়ে শ্রেয়সই। দীপক হুডা এবারের আইপিএলে ১৩৬.৬৬ স্ট্রাইক রেট রেখে ৪৫১ রান করেছেন। সর্বোপরি তিন থেকে ছয়- সব জায়গাতেই তিনি ব্যাট করতে পারেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে না থাকলেও রাহুল ত্রিপাঠী ও সঞ্জু স্যামসনের ফর্মও মোটেই হেলাফেলার নয়।

দ্বিতীয় স্পিনারের দৌড়
আইপিএলে ২৭টি উইকেট নিয়ে বেগুনি টুপি দখলের পর যুজবেন্দ্র চাহাল যে প্রথম স্পিনার তা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি ২০ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় স্পিনার কে হবেন? রবিচন্দ্রন অশ্বিন আইপিএলে ব্যাট হাতেও ভালো খেলেছেন। তবে ইংল্যান্ড সফরের টেস্টের কথা ভেবে তিনি আপাতত বিশ্রামে। রবীন্দ্র জাদেজাও চোটের কারণে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে সিরিজে নেই। জাদেজার ভালো বিকল্প হতেই পারেম অক্ষর প্য়াটেল। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে নিজেকে আরও একবার মেলে ধরতে চাইবেন। তবে অক্ষর জাদেজার মতো উইকেট-টেকার নন। এই অবস্থায় অনেকেই আস্থা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন কুল-চা জুটিতে। প্রতিপক্ষে বাঁহাতি ব্যাটার থাকলে তাঁদের সমস্যায় ফেলতে কুলদীপ বেশি কার্যকরী হবেন। রবি বিষ্ণোইও থাকবেন সুযোগের অপেক্ষায়।

জোরে বোলারদের লড়াই
মহম্মদ শামি ও জসপ্রীত বুমরাহ বিশ্রামে। দীপক চাহারের চোট। এই অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতীয় বোলিং আক্রমণকে নেতৃত্ব দেবেন ভুবনেশ্বর কুমার। আইপিএল মোটের উপর খারাপ যায়নি ভুবির। ডেথ ওভারে এখনও তিনি অনবদ্য। তবে আরও ধারাবাহিকতা তাঁর থেকে চাইবে টিম ম্যানেজমেন্ট। ডেথ ওভারে ভালো বোলিং করেন হর্ষল প্যাটেল, রয়েছেন আবেশ খানও। আগামী কিছু ম্যাচে দেখে নেওয়া হবে অর্শদীপ সিং ও উমরান মালিককে। উমরান ২২টি উইকেট পেয়েছেন। অর্শদীপ ১৪টি ম্যাচে ১০ উইকেট পেলেও ডেথ ওভারে ইকনমিতে তিনি সেরার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। ১০ ওভার বল করা বোলারদের মধ্যে বুমরাহর ডেথ ওভারে ইকনমি ছিল ৭.৩৮, অর্শদীপের ৭.৩৮। সবমিলিয়ে সেরা ফাস্ট বোলিং বিকল্প নিয়েই ভারত যেতে পারবে অস্ট্রেলিয়ায় টি ২০ বিশ্বকাপ অভিযানে।












Click it and Unblock the Notifications