৪ তারিখে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তান মহারণ, তার আগে ঘোষিত হল ভারতীয় দল
রবিবারই বিসিসিআই চূড়ান্ত করেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের খেলার বিষয়টি। আর তার পরের দিন সোমবারই নয়াদিল্লিতে বেছে নেওয়া হল ভারতীয় দলের সদস্যদের।
১ জুনই ইংল্যান্ডে শুরু হয়ে যাচ্চে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ভারতের প্রথম খেলা ৪ জুন। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ক্রিকেট ময়দানে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই উত্তেজনার বিস্ফোরণ। মর্যাদার এই লড়াইয়ে নামার আগে ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের নাম চূড়ান্ত করার পালা চলছিল। অবশেষে জানিয়ে দেওয়া হল ১৫ জন নির্বাচিত ক্রিকেটারের নাম।
দেখে নেওয়া যাক চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ভারতীয় দল-

রোহিত শর্মা-
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দলে ফিরলেন এই প্রতিভাবান ক্রিকেটার। চোটের জন্য মাঝখানে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। আপাতত সুস্থ রোহিত। আইপিএল-এ তাঁর ব্যাটিং ও ফিল্ডিং প্রতিপক্ষের ঘুম কেড়েছে। জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ওপেনার কে এল রাহুল চোটের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলবেন না। তাঁর জায়গায় দলে এলেন রোহিত।

আজিঙ্কা রাহানে-
ভারতীয় ক্রিকেট দলের সহ-অধিনায়ক। কিন্তু, আইপিএল-এ খুব একটা ভাল ফর্ম দেখাতে পারেননি। কিন্তু, ইংল্যান্ডের উইকেটে তাঁর কার্যকারিতা নিশ্চিতভাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে স্থান করে দিল।

শিখর ধওয়ান-
একটা সময় ভারতীয় ক্রিকেট দলের এক নম্বর ওপেনার। কিন্ত, ধারবাহিকতার অভাব এবং অফ-ফর্ম-এ আপাতত দলের বাইরে ছিলেন। আইপিএল তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্স চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে সুযোগ ঘটিয়ে দিল। রিজার্ভড ওপেনার হিসাবেই শিখরকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

বিরাট কোহলি-
ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। কিন্তু, আইপিএল-এ তাঁর অফফর্ম চিন্তায় ফেলেছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দলের সদস্য ছিলেন। এবার নেতা হিসাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলবেন তিনি।

যুবরাজ সিং-
নিশ্চিতভাবেই দলে থাকার কথা ছিল যুবির। তেমনটাই হয়েছে। আইপিএল-এ যে বিধ্বংসী মেজাজে চার ও ছয়ের বন্যা ছুটিয়েছেন যুবরাজ তাতে তিনি অটোমেটিক চয়েসই ছিলেন।

এমএস ধোনি-
অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু, ফিনিশার ধোনি যে শেষ হয়ে যাননি তার প্রমাণ রেখে চলেছেন এমএস। অধিনায়কত্ব ছাড়া মানেই যে ক্রিকেট থেকে সন্যাস, এমন ধারনাকে মিথ্যা বলে প্রতিপন্ন করতে বদ্ধপরিকর তিনি। উইকেটের পিছনে তাঁর বিশ্বস্ত হাত আর ফিনিশার ব্যাটসম্যান-এর তকমা নিশ্চিতভাবে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম ইউএসপি। আর ধোনিকে এখনই ছুঁড়ে ফেলার মতো সময়ও যে আসেনি তা ভালমতই জানেন নির্বাচকরা। তাই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে ধোনির নির্বাচন অবশ্যাম্ভাবি ছিল।

মণীশ পাণ্ডে-
বলা হয় যতটা প্রতিভাবান তিনি ততটা নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এই ক্রিকেটার। মির্ডল অর্ডারে মারাত্মকরকমের ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান মণীশ। নিজের দিনে কাউকে রেয়াত করেন না। ভারতীয় দলে যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই কোনও না কোনওভাবে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। আইপিএল-এও কেকেআর-এর হয়ে এবার দুরন্ত সব ইনিংস খেলেছেন।

কেদার যাদব-
দাবাং ক্রিকেটার বলেই পরিচিত। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্য়ান্ড সিরিজে দেখিয়েছেন তাঁর ব্যাটিং দাপট। এই মুহূর্তে পারফরম্যান্সের বিচারে নিশ্চিতভাবে দলে থেকে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন কেদার।

হার্দিক পাণ্ড্য-
ভারতীয় দলের এই অলরাউন্ডার ক্রিকেটারটিকে নিয়ে অনেকেই আশাবাদী। কিন্তু, সম্প্রতি জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স ভাল ছিল না। আইপিএল-এ বিধ্বংসী মেজাজে রয়েছেন হার্দিক। বল এবং ব্যাট হাতে তাঁর খুনে মেজাজকে ভয় পাচ্ছে প্রতিপক্ষ।

রবিচন্দ্রণ অশ্বিন-
কোহলি ব্রিগেডে ম্যাচ উইনার বোলার তিনি। কিন্তু, চোটের জন্য আইপিএল খেলেননি। আপাতত চোটমুক্ত তিনি। তাই ম্যাচ উইনারের নাম নির্বাচিত করতে কোনও বিতর্কের মধ্যে যেতে হয়নি নির্বাচকদের।

রবীন্দর জাদেজা-
সম্প্রতি পারফরম্যান্সের বিচারে অশ্বিণকেও পিছনে ফেলে দিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের এই লেফট-আর্ম স্পিনার। এই মুহূর্তে টেস্ট ক্রিকেটে আইসিসি র্যাঙ্কিং-এ এক নম্বরে।

ভূবনেশ্বর কুমার-
স্যুইং বোলিং ভূবির হাতিয়ার। ইংল্যান্ডের আবহাওয়ায় তাঁর বোলিং কার্যকরি হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এবারের আইপিএল দুরন্ত ছন্দে আছেন ভূবনেশ্বর কুমার। তাঁর স্যুইং বোলিং-এ বহুবার স্টাম্প ছিটকে গিয়েছে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের।

উমেশ যাদব-
ভারতীয় দলের স্পিড-স্টার। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফরম্যান্সও নজরকাড়া। সুতরাং, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে তিনিও অটোমেটিক চয়েস।

জসপ্রীত বুমহরা-
বাঁ-হাতে অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন। সঙ্গে মারাত্মক সব ইয়র্কার। এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা ইয়র্কার বোলার হিসাবে ধরা হচ্ছে বুমহরাকে। আইপিএল-এ তাঁর দুরন্ত বোলিং মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং বিভাগকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে।

মহম্মদ সামি-
একটা সময় জাতীয় দলের স্ট্রাইক বোলার। সব ধরনের বল ফেলার ক্ষমতা রাখেন। প্রতিপক্ষের উইকেট তোলায় প্রচণ্ডরকম ধারাবাহিকতা দেখিয়ে এসেছেন। কিন্তু, চোটের জন্য দীর্ঘসময় দলের বাইরে। আইপিএল-এ খেলছেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে তাই তাঁকে ব্রাত্য না করে রাখার পক্ষেই সিলমোহর দেন নির্বাচকরা।












Click it and Unblock the Notifications