৬২ রানে ১০ উইকেট! ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চূর্ণ করে বিশ্বকাপের শীর্ষে মিতালির ভারত, ঝুলনের বিশ্বরেকর্ড
নিউজিল্যান্ডের কাছে আগের ম্যাচে হেরে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। মিতালি রাজদের কাছে তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরের পর্বে যাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যত মরণ-বাঁচন বললেও ভুল হবে না। কেন না, আজকের আগে পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছিল অপরাজেয়। ক্যারিবিয়ানদের দুরমুশ করে ফের সরণিতে ফিরল ভারত।
বিরাট জয়
হ্যামিল্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৫৫ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান দখল করল মিতালি রাজের ভারত। বড় জয় নেট রান রেটের ক্ষেত্রেও স্বস্তিতে রাখল ভারতকে। পরের ম্যাচেই তাদের খেলতে হবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। আজ আনিসা মহম্মদের উইকেটটি তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক উইকেটশিকারী হয়ে গেলেন ঝুলন গোস্বামী। ম্যাচের সেরার পুরস্কার হরমনপ্রীত কৌরের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা।
৬২ রানেই ১০ উইকেট
ভারতের দেওয়া ৩১৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১২.২ ওভারে ১০০ রানের মাথায় প্রথম উইকেট পড়ে। কিন্তু এরপরই ধস নামে। ২৬.৫ ওভারে ১৪৫ রানের মাথায় সপ্তম উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে যান ক্যারিবিয়ানরা। ৪০.৩ ওভারে ১৬২ রানেই গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ওপেনার ডিয়ান্ড্রা ডটিন ৬২ ও হেইলি ম্যাথিউজ ৪৩ রান করেন। সাতজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরেই পৌঁছাতে পারেননি। স্নেহ রানা ৯.৩ ওভারে ২২ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট দখল করেন। মেঘনা সিং ৬ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট পান। ঝুলন গোস্বামী, রাজেশ্বরী গায়কোয়াড় ও পূজা বস্ত্রকার একটি করে উইকেট নেন। এর আগে, ভারত স্মৃতি মান্ধানার ১২৩ ও হরমনপ্রীত কৌরের ১০৯ রানের সুবাদে তুলেছিল ৮ উইকেটে ৩১৭।
উচ্ছ্বসিত সানি-মিতালি
ভারতের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত সুনীল গাভাসকর। তিনি বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনিং জুটিতে ১০০ ওঠার পড়েও ভারত হাল ছাড়েনি। যে টেম্পারামেন্ট গোটা দল দেখিয়েছে তা অনবদ্য। মিতালি রাজ বলেছেন, এর থেকে ভালো কিছু হয় না। ব্যাটিং, বোলিং ভালো হয়েছে। এই জয় আমাদের নক আউটের দৌড়ে রেখে দিল। সতীর্থরা স্নায়ুর চাপ সামলে যেভাবে জয় ছিনিয়ে নিয়ে এলেন তাতে অভিভূত ভারত অধিনায়ক। তিনি বলেন, আজকের ম্যাচের গুরুত্ব সম্পর্কে সকলেই ওয়াকিবহাল ছিলেন। বিশেষ প্রচেষ্টার দরকার ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুটি ম্যাচ জিতে খেলতে এসেছিল, আমরা এসেছিলাম আগের ম্যাচে হেরে। জয়ের দুই কারিগর স্মৃতি মান্ধানা ও হরমনপ্রীত কৌরের প্রশংসা করেন মিতালি। সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়ররা যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন তাতে সন্তুষ্ট মিতালি ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চান।
জয়ের নেপথ্যে
স্মৃতি মান্ধানাই ম্যাচের সেরা হয়েছেন। তবে তিনি জানান পুরস্কারটি ভাগ করে নিতে চান হরমনপ্রীতের সঙ্গে। তিনি বলেন, শতরান না করেও কেউ ম্যাচের সেরা হচ্ছেন না এটা আমি চাই না। তিনশোর উপর রান ওঠার পিছনে দুজনেরই সমান অবদান রয়েছে। তাই ট্রফিটি শেয়ার করছি। তবে হরমনপ্রীত বলেন, স্মৃতি আমার চেয়ে বেশি রান করায় এটি তাঁরই প্রাপ্য! মান্ধানা বলেন, হরমনপ্রীত স্পিন দারুণ খেলেন, আমি পেসারদের সামলাতে বেশি পছন্দ করি। ফলে স্পিনার এলে আমি কৌরকে স্ট্রাইক দিই, পেসার এলে আমি স্ট্রাইকে বেশি থাকি। দুজনের এই বোঝাপড়াই যে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি সেটা স্পষ্ট করেছেন মান্ধানা। হরমনপ্রীতও দুজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনেই বাজিমাতের কথা উল্লেখ করেছেন। ছন্দ ফিরে পেয়ে তিনি খুশি। উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে স্মৃতি সেট হওয়ার পর যেভাবে খেলেছেন তার প্রশংসা করেছেন কৌর।












Click it and Unblock the Notifications