হায়দরাবাদ টেস্ট, ফের তিনদিনেই খেল খতম, মাঠে মারা গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সোয়া দুই দিনের লড়াই
ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ হায়দরাবাদ টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষে প্রতিবেদন।
প্রথম দুইদিন ও এক সেশন সমানে সমানে লড়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেই ফের অসহায় আত্মসমর্পন করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের প্রথম ইনিংস ৩৬৫ রানে বেঁধে রাখার পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র দেড় সেশনেই তারা ১২৭ রানে গুটিয়ে গেল। লোকেশ রাহুল (৩৩*) ও পৃথ্বী শ (৩৩*)-এর সৌজন্যে ১৬ ওভারেই প্রয়োজনীয় ৭২ রান তুলে দিল ভারত। ম্যাচ জিতে নিল ১০ উইকেটে। ম্যন অব দ্য ম্যাচ হন ১০ উইকেট নেওয়া উমেশ যাদব। আর সিরিজের সেরা আর কেউ নয়, পৃথ্বী শ।

তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে কিন্তু আরও একবার ম্যাচে ফিরে এসেছিল ওয়েস্টইন্ডিজ। দিনের তৃতীয় ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার ফিরিয়ে দেন আজিঙঅকা রাহানেকে। শরীর থেকে দূরের বল তাড়া করতে গিয়ে গালি অঞ্চলে ধরা পড়েন রাহানে (৮০)। ওই ওভারেই দুই বল পরে কোনও রান না করে ফিরে যান জাদেজাও।
এরপর আরও একটি নিশ্চিত শতরান মাঠে ফেলে আসেন ঋষভ পন্থও। গেব্রিয়েল শ্যাননের একটি বাউন্সার তিনি অফসাইডে ওড়াতে গিয়ে কভার এলাকায় ধরা পড়ে প্রথম টেস্টের মতো ফের একবার ৯২ রানেই প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় তাঁকে। এরপর ভারতের লিডটা আরও একটু বাড়ান অশ্বিন (৩৫)। কিন্তু ৫৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট দখল করে ভারতকে ৩৬৭ রানেই বেঁধে রেখেছিলেন হোল্ডার।
প্রথম ইনিংসে সব মিলিয়ে মাত্র ৫৬ রানের লিড পেয়েছিল ভারত। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং থেকে ভাল লড়াই আশা করা হয়েছিল। কিন্তু উমেশ যাদবের দাপটে শুরুতেই তাদের লড়াইযের পরিকল্পনা ধাক্কা খায়। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ভাঙলেন ইমেশ যাদব। ৩ উইকেট নিয়ে তাঁকে যোগ্য সহায়তা করলেন রবীন্দ্র জাদেজা।
প্রথম ইনিংসের শেষ দুই বলে উইকেট নেওয়ায় উমেশের সামনে এই ইনিংসে হ্যাট্রিক করার সুযোগ ছিল। ইয়র্কার দিয়েছিলেন উমেশ। সেই বলটি সামলে দেন ব্রেথওয়েট। কিন্তু এর পরের বলেই উইকেটে পিছনে ধরা পড়েন ব্রেথওয়েট (০)।
শর্দুল ঠাকুর নেই তাই অপর প্রান্ত থেকে শুরু করেছিলেন আর অশ্বিন। অশ্বিনের একটি নিরামীষ ডেলিভারিই পাওয়েল (০)-এর ব্যাটের কানায় লেগে প্রথম স্লিপে যায়। লোকেশ রাহুল সেই জমি-ঘেসা ক্যাচ তালুবন্দী করেন। আউটের সিদ্ধান্তে একেবারেই খুশি ছিলেন না পাওয়েল। তবে রিভিউয়ের পরও তাঁকে আউট দেওয়া হয়।
এরপর হেতমিয়ের (১৭) ও শাই হোপ (২৮) ফের আশা জাগিয়ে শুরু করেও উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন। হেতমিয়ের কূলদীপকে মারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ অবধি বল তার ব্যাটের কানায় লেগে পয়েন্টে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে চলে যায়। আর জাদেজার বলে প্রথম স্লিপে ধরা পড়েন হোপ। ভারতের লিডটা টপকাবার আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ উইকেট চলে গিয়েছিল।
তবে এরপরই নেমেছিলেন এবারের সিরিজে ওয়েস্টইন্ডিজের সবচেয়ে সফল ব্যাট রোস্টন চেজ। কিন্তু সিরিজের শেষ ইনিংসে তিনি আর চানতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসকে। স্পিনারদের তিনি সাবলিলভাবে খেলে দিচ্ছেন দেখে উমেশকে আক্রমণে এনেছিলেন বিরাট। উমেশের অফ স্টাম্পেরর বাইরের বলটি খেলতে সময়ের সামান্য ভুল করেন চেজ। বল তার ব্যাটের ভিতরে কানায় লেগে উইকেট ভেঙে দেয়।
উমেশের পরের ওভারেই কোনও রান না করেই বিজায় নিয়েছিলেন ডাওরিচও। এখান থেকে কিছুটা লড়াই করেছিলেন সুনীল অম্ব্রিশ ও অধিনায়ক হোল্ডার। কিন্তু জাদেজা আক্রমণে ফিরেই তুলে নেন হোল্ডারকে (১৯)। জাদেজা তাঁর পরের ওভারেই ফিরিয়ে দেন অম্ব্রিশকেও (৩৮)।
এরপর আর বেশিক্ষণ টেকেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিংয়ের লেজ। শেষ দুটি উইকেট ভাগাভাগি করে নেন অশ্বিন ও উমেশ যাদব। এরপর দিনের আর মাত্র ১৫ ওভার বাকি ছিল। যাবতীয় কৌতূহল গিয়ে দাঁড়ায় এরমধ্যে ভারত রানটা তুলতে পারবে কিনা সেই বিষয়ে। ইংল্যান্ড সিরিজের পর ফের একবার সিরিজের শেষ ইনিংসে রানে ফিরলেন লোকেশ রাহুল। আর পৃথ্বী শো-ও জারি রইল। ফল সরূপ ভারত ম্যাচ শেষ করতে সামান্য এক ওভার বেশি সময় নিল। ১৬.১ ওভারে জয়ের রানটা তুলে দিল তারা।












Click it and Unblock the Notifications