মোতেরার পিচে গোলাপি বল ভোগাতে পারে বিরাটদের, হুঙ্কার বেন স্টোকসের
আমেদাবাদের মোতেরায় ভারত-ইংল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট শুরু বুধবার। গোলাপি বলে দিন-রাতের এই টেস্টেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে মোতেরার পিচ। রোহিত শর্মা মনে করছেন, এই পিচেও বল ঘুরবে। অর্থাৎ স্পিন-অস্ত্রেই বাজিমাত করতে চাইছে ভারতীয় শিবির। হোম অ্যাডভান্টেজ সব দেশ কাজে লাগায়, তাই এতে দোষের কিছু নেই। তাছাড়া এই টেস্টের উপর অনেকটাই নির্ভর করবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে কোন দল ওঠার দিকে এগিয়ে যাবে।

চেন্নাইয়ে টেস্টের প্রথম থেকেই পিচের পাশাপাশি আলোচনায় ছিল এসজি বলের মানের বিষয়টিও। বিরাট কোহলি থেকে রবিচন্দ্রন অশ্বিনরা বল নিয়ে অসন্তোষ গোপন রাখেননি। গোলাপি বলে টেস্টের আগেও বল কেমন হবে তা নিয়ে চলছে চর্চা। এসজি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর পরশ আনন্দ জানিয়েছেন, ৮০ ওভার অবধি গোলাপি বল ব্যবহার করতে এবং এর রং ধরে রাখতে পিচে ঘাস থাকা উচিত। বিশ্ব ক্রিকেটে দেখা গিয়েছে গোলাপি বলে দিন-রাতের টেস্টে পিচে ৬-৭ মিলিমিটার ঘাসের আস্তরণ রাখেন কিউরেটররা। ভারত হোম অ্যাডভান্টেজ নিতে চাইবে, টার্নিং উইকেট হলেও আপত্তি নেই। তবে বলের কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স পেতে ২-৩ মিলিমিটার ঘাস রাখার পরামর্শ দিয়েছে এসজি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ইডেনে দুই বছর আগে গোলাপি বলের টেস্টের উইকেটেও ঘাস ছিল। সব উইকেট পেয়েছিলেন পেসাররা। তবে সেই প্রতিপক্ষ দলে জেমস অ্যান্ডারসন, জোফ্রা আর্চারের মতো ক্রিকেটাররাও ছিলেন না। অস্ট্রেলিয়াতেও দিন-রাতের টেস্টে মুখ থুবড়ে পড়ে ভারত। ফলে মোতেরাতেও স্পিন সহায়ক উইকেট হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।
ইংল্যান্ড শিবিরও পিচ বিতর্ক নিয়ে আর মাথা ঘামাতে চাইছে না। বেন স্টোকস বলেছেন, ভালো টেস্ট ব্যাটসম্যানকে সব ধরনের পরিবেশের জন্যই প্রস্তুত থেকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। ভারতে এসে যে কোনও বিদেশি ব্যাটসম্যানেরই সফল হওয়া কঠিন। ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রেও কথাটা খাটে। তবে এই চ্যালেঞ্জ আমরা ভালোবাসি। উপমহাদেশে যে দলই পরে ব্যাট করে তাদের উপর রানের চাপ থাকে। প্রথমে ব্যাট করলে জেতা অনেক সহজও হয়ে যায়। এখানে জিততে কী করা উচিত তা আমরা জানি। দ্বিতীয় টেস্টের খামতি মেটাতে অনুশীলনে জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন মাঠে প্রথম খেলা। আশা করি সঠিকভাবেই নিজেদের পরিকল্পনার প্রয়োগ ঘটাতে পারব। চেন্নাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে স্টোকস ২ ওভার বল করেছিলেন। সে বিষয়ে তিনি বলেন, পিচের চরিত্র অনুযায়ী সেখানে আমাদের স্পিনাররাই বেশি বল করেছেন। তবে গোধূলিতে আলো জ্বললে দিন-রাতের টেস্টে অন্যরকম পরিস্থিতি তৈর হয়। তাই এখানে আমাকে হয়তো বেশি বল করতে হবে। স্পিনারদের চেয়ে পেসাররাই এখানে বেশি বল করবেন বলে মনে হচ্ছে। ২০১২ সালে ভারত থেকে টেস্ট সিরিজ জিতে ফেরার অভিজ্ঞতা দিয়েই দলের সতীর্থদের উদ্বুদ্ধ করছেন স্টোকস।












Click it and Unblock the Notifications