পিচ নিয়ে পাল্টা অশ্বিনের, আইসিসি-র দ্বারস্থ হতে পারে ইংল্যান্ড
আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ভারতের কাছে তৃতীয় টেস্টে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড। চেন্নাইয়ের পর আমেদাবাদের পিচ নিয়েও চলছে চাপানউতোর, তর্ক-বিতর্ক। বিপক্ষ শিবিরকে পিচ নিয়ে কাঁদুনি গাইতে দেখে পাল্টা দিয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তাঁকে সমর্থন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অফ স্পিনার নাথান লিয়ঁ। যদিও পিচ নিয়ে আইসিসি-র কাছে অভিযোগ জানাতে পারে ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ডের লজ্জা
আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডকে পর্যুদস্ত করতে ভারতের দুই দিনও সময় লাগেনি। প্রথম ইনিংসে ১১২ রানে অল আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রানে গুটিয়ে গিয়েছে জো রুটের দল। ভারত টেস্ট জিতেছে দশ উইকেটে। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৯৩ রান ভারতের মাটিতে টেস্টে ইংল্যান্ডের সর্বনিম্ন। ১৯০৪ সাল থেকে ধরলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ইংল্যান্ডের এই রান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ইংল্যান্ডের প্রাক্তনরা পিচ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হলেও সকলেই মনে করছেন, ইংল্যান্ডের বারবার ত্রুটিপূর্ণ দল গঠনই বিপর্যয়ের কারণে। ভারতের মাটিতে কঠিন সিরিজে রোটেশন পদ্ধতি অবলম্বন করা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ম্যাচের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট পিচ নিয়ে অভিযোগ করেননি। বরং সোজা বলে ২১ জনের আউট হওয়ার উদাহরণ টেনে বিরাট কোহলি দাবি করেছিলেন, মোতেরার পিচ ভালো।

পিচ নিয়ে অভিযোগের পথে
অধিনায়ক প্রকাশ্য়ে পিচ নিয়ে কিছু না বললেও ইংল্যান্ডের কোচ ক্রিস সিলভারউড পিচ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, যেখানে তিনদিনের খেলা বাকি ছিল সেখানে আমরা বসে আছি, এটা আমাদের পক্ষে তো বটেই দর্শকদের কাছেও হতাশার। কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের কথা চলছে। আমরা ম্যাচ রেফারি জাভাগল শ্রীনাথের সঙ্গেও কথা বলেছি। তবে সেটা পিচ নিয়ে নয়। তবে রুটের সঙ্গে আমি আলোচনায় বসব। তারপর দেখা যাক কী হয়। ইংল্যান্ডের কোচের এই মন্তব্যেই পরিষ্কার, আইসিসি-র কাছে পিচ নিয়ে অভিযোগ জানানো হতে পারে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার দরজা বন্ধ হতেই সব দোষ পিচের উপর চাপাতে মরিয়া ইংল্যান্ড। তবে ভারত এই পিচে ইংল্যান্ডের থেকে ভালো খেলেছে বলে স্বীকার করে নেন সিলভারউড। এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে কীভাবে এই পিচে ভালো খেলা যায় তার উপায়ও খুঁজছেন ইংল্যান্ড কোচ। ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলেও তাঁদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন কোচ।

পাল্টা অশ্বিনের
ভারত নয় যেন পিচ জিতছে। এমন মন্তব্য যাঁরা করছেন তাঁদের পাল্টা দিয়েছেন মোতেরা টেস্টেই চারশো টেস্ট উইকেটের মালিক হওয়া রবিচন্দ্রন অশ্বিন। পিচ নিয়ে যেসব বলা হচ্ছে, একজনের সুরে অন্যজন গলা মেলাচ্ছেন তাতে বিরক্ত তো বটেই, হাসিও পাচ্ছে অশ্বিনের। তাঁর সাফ কথা, নিউজিল্যান্ড সফরেই দুটি টেস্ট পুরো পাঁচ দিন হয়নি। দুটি টেস্ট ম্যাচ শেষ হতে মোট পাঁচদিন লেগেছে এমন উদাহরণও আছে। অথচ ভারতে এসে কোনও দেশ হারলেই নানা কথা শুরু হয়ে যায়। ইংল্যান্ড দলের কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তাঁরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাইছেন। বাইরে থেকেই নানা কথা বলা হচ্ছে যা শুনে হাসি পাচছে। মোতেরার পিচ ভালো টেস্ট উইকেট ছিল কিনা তা জানতে চেয়ে ইংল্যান্ডের এক সাংবাদিক অশ্বিনকে প্রশ্ন করেন। অশ্বিন পাল্টা জানতে চান ভালো পিচ বলতে কী বোঝায়, এই সংক্রান্ত কোনও নীতি কি আছে বা থাকলে সেটা কে ঠিক করেছে? ভারত কখনও বিদেশ সফরে গিয়ে পিচের দিকে আঙুল তোলে না বলে দাবি করে দক্ষিণ আফ্রিকায় পরাজয়ের পর বিরাট কোহলির মন্তব্য মনে করিয়ে দেন অশ্বিন।

সিডনিতেই এমন উইকেট চান লিয়ঁ
পিচ বিতর্কে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সুরেই কথা বলেছেন নাথান লিয়ঁ। ক্রিকেটার হওয়ার আগে কিউরেটরের কাজ করতেন তিনি। লিয়ঁ বলেন, আমি রাত জেগে খেলা দেখেছি। আমেদাবাদের পিচ ভালোই ছিল। সিডনিতেও এমন উইকেট হলে ভালো হয়। লিয়ঁ আরও বলেন, আমরা সিমিং উইকেটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খেলি। ৪৭ বা ৬০ রানেও আউট হওয়ার উদাহরণ আছে। তখন কেউ কিছু বলেন না। বল ঘুরতে শুরু করলেই যেন সব সমস্যা, কাঁদুনি শুরু হয়ে যায়! লিয়ঁ আরও বলেন, সিডনির এসজিতেও আমি আমেদাবাদের কিউরেটরকে নিয়ে আসতে চাই। ইংল্যান্ডের ব্যর্থতা নিয়ে লিয়ঁ বলেন, এই পিচে ইংল্যান্ড চার পেসার নিয়ে নেমেছিল। আশা করি এরপর আর কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না।












Click it and Unblock the Notifications