শেষ ওভারে দুরন্ত নটরাজনে ক্যাচ ফেলার খেসারৎ না দিয়ে সিরিজ জয় ভারতের
শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৪। অধিনায়ক বিরাট কোহলি দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার ২০০তম ম্যাচ জিততে বল তুলে দিলেন টি নটরাজনের হাতে। প্রথম বলেই দুই রান নিতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান স্যাম কারান। হার্দিক পাণ্ডিয়ার দুরন্ত থ্রোয় ১৪ রানে রান আউট হন মার্ক উড। দ্বিতীয় বলে রিস টপলে এক রান নেওয়ায় শেষ চার বলে দরকার ছিল ১২। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা তেমন না থাকলেও স্নায়ুযুদ্ধে ইয়র্কার-সহ ডেথ ওভারে দুরন্ত বোলিং করলেন টি নটরাজন। যার ফলে টেস্ট, টি ২০-র পর একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজেও ইংল্যান্ডকে পরাস্ত করল ভারত। বিরাটরা ৭ রানে ম্যাচ জিতে পকেটে পুরে নিলেন সিরিজও। স্যাম কারান অপরাজিত থাকেন ৯৫ রানে। শার্দুল ঠাকুর চারটি ও ভুবনেশ্বর কুমার তিনটি উইকেট নেন।

ভুবির ধাক্কা
তৃতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক তথা সিরিজ জিততে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ৩৩০ রানের টার্গেট রেখেছিল ভারত। তবে শুরুতেই ভুবনেশ্বর কুমারের ধাক্কায় বেসামাল হয়ে যায় ইংল্যান্ড। ভুবনেশ্বর কুমারের প্রথম ওভার থেকেই মারমুখী ব্যাটিং শুরু করেন ফর্মে থাকা জেসন রয়। তিনটি চারও মারেন। তবে এই ওভারের শেষ বলে তিনি বোল্ড হয়ে যান, ৬ বলে ১৪ রান করে ফেরেন রয়। স্কোরবোর্ডে আর ১৪ রান যোগ হতে আউট হন আগের দুটি ম্যাচে বিস্ফোরক ব্যাটিং করা তথা গত ম্যাচের সেরা জনি বেয়ারস্টো। ৪ বলে ১ রান করে ম্যাচের চতুর্থ ওভারে ফেরেন তিনি। তিনি ভুবনেশ্বর কুমারের বলে লেগ বিফোর হন। রিভিউ নিয়েও আম্পায়ার্স কলে তিনি আউট হন।

ব্যর্থ স্টোকস, বিপজ্জনক শার্দুল
বেন স্টোকস ও ডেভিড মালান আক্রমণাত্মক ব্যাটিং অব্যাহত রাখলেও আরেক বিপজ্জনক স্টোকসকে ফেরান এই ম্যাচে কুলদীপ যাদবের বদলে সুযোগ পাওয়া টি নটরাজন। ৩৯ বলে ৩৫ রান করে আউট হন স্টোকস, দলের ৬৮ রানের মাথায়। ১৬ ওভারে দলের ৯৫ রানের মাথায় জস বাটলারকে ফিরিয়ে বাটলার-মালান জুটি ভাঙেন শার্দুল ঠাকুর। ১৮ বলে ১৫ করে আউট হন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। বাটলারকে প্রথমে আউট দেননি আম্পায়ার। রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। রিপ্লেতে দেখা যায় বল উইকেটে লাগছে। ফলে আম্পায়ারকে সিদ্ধান্ত বদলে আউট দিতে হয়। ম্যাচ ঝুঁকতে শুরু করে ভারতের দিকে।

জুটি ভাঙার নায়ক
জুটি ভাঙায় বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠছেন শার্দুল ঠাকুর। কারণ, বাটলার ফেরার পরও মালান ও লিয়াম লিভিংস্টোন ভালো খেলছিলেন, ৬০ রান যোগও করেন। তাঁদের জুটিও ভাঙেন লর্ড শার্দুল-ই। ৩১ বলে ৩৬ করে শার্দুলের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হন লিভিংস্টোন। ১৫৫ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। স্কোরবোর্ডে আর ১৩ রান যোগ হওয়ার পর ডেভিড মালানের উইকেটও তুলে নেন শার্দুল ঠাকুর। ৫০ বলে ৫০ রান করে আউট হন মালান।

দুরন্ত বোলাররা
অধিনায়কের বোলিং পরিবর্তনের আস্থার মর্যাদা দিয়ে এরপর মঈন আলির উইকেট তুলে নেন ভুবনেশ্বর কুমার। ২৫ বলে ২৯ রান করা মঈনের শট দারুণভাবে তালুবন্দি করেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। বেন স্টোকসের ক্যাচ ফেলেছিলেন, সেই হার্দিকই যেন এই দুরন্ত ক্যাচ ধরে তার প্রায়শ্চিত্ত করলেন। শার্দুল ফের ভাঙেন স্যাম কারান ও আদিল রশিদের ৫৭ রান যোগ করা অষ্টম উইকেট জুটিতে। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে বিরাট কোহলির অনবদ্য ক্যাচ সাজঘরে পাঠায় রশিদকে। ৪০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে শার্দুল ম্যাচে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নিতেই অষ্টম উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

কারানের পাল্টা
২৫৭ রানের মাথায় অষ্টম উইকেট পড়ার পর পাল্টা প্রত্যাঘাতের রাস্তা বেছে নেন স্যাম কারান। হার্দিক পাণ্ডিয়া তাঁর ক্যাচ ফেলার সুযোগ নিয়ে কার্যত একাই দলের রান তিনশো পার করে দেন। তারই ফাঁকে দুরন্ত অর্ধশতরান তিনি পূর্ণ করেন মাত্র ৪৫ বলে।৪৮তম ওভারের পঞ্চম বলে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে মার্ক উডকে লেগ বিফোর দেন আম্পায়ার। যদিও ডিআরএসের সাহায্যে জীবন পান উড। শেষ দুই ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৯ রান। অধিনায়ক বিরাট কোহলি বল তুলে দেন হার্দিক পাণ্ডিয়ার হাতে। ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময় জোড়া ক্যাচ ফেলেছিলেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। তবে ৪৯তম ওভারে হার্দিক পাণ্ডিয়া দুরন্ত বোলিং করলেন। যদিও এই ওভারেও পরপর দুই বলে দুটি সহজ ক্যাচ ফেললেন শার্দুল ঠাকুর ও টি নটরাজন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন দাঁড়ায় ১৪ রান। তবে ৯টি চার ও তিনটি ছয়ের সাহায্যে ৮৩ বলে ৯৫ রান করেও দলকে জেতাতে পারলেন না কারান। ইংল্যান্ড ৯ উইকেটে ৩২২ রানের বেশি এগোতে পারেনি।

ভারতের ৩২৯
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.২ ওভারে ৩২৯ রানে অল আউট হয়ে যায় ভারত। সর্বাধিক ৭৮ রান করেন ঋষভ পন্থ। শিখর ধাওয়ান ৬৭ ও হার্দিক পাণ্ডিয়া ৬৪ রান করেন। রোহিত শর্মা ৩৭, বিরাট কোহলি ৭, লোকেশ রাহুল ৭, ক্রুণাল পাণ্ডিয়া ২৫ রান করেন। ঝোড়ো ব্যাটিং করে ২১ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৩০ রান করেন শার্দুল। তিনি আউট হন ৪৬ ওভারে দলের ৩২১ রানের মাথায়। এরপর মাত্র ১৪ রানের মধ্যেই বাকি তিনটি উইকেটও হারায় ভারত। ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার মার্ক উড নেন তিন উইকেট।












Click it and Unblock the Notifications