(ছবি) ভারত Vs নিউজিল্যান্ড কলকাতা টেস্ট : ইডেন গার্ডেন্সে ভারতের ৫ স্মরণীয় জয়!
নয়াদিল্লি, ২৯ সেপ্টেম্বর : নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট ম্যাচে অসামান্য জয়ের পর এবার দ্বিতীয় টেস্টের দিকে তাকিয়ে ভারত। শুক্রবার মহালয়ার দিন থেকেই উৎসবমুখর কলকাতায় শুরু হতে চলেছে ভারত-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় সিরিজ।[অশ্বিনের ঘূর্ণিতে ধরাশায়ী কিউয়িরা, ৫০০তম টেস্টে জয়ী ভারত]
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে খেলা। ইতিমধ্যেই কানপুরে ১৯৭ রানে কিউইদের হারিয়ে ১-০তে এগিয়ে রয়েছে ভারত। [টেস্টে ভারতের স্বপ্নের একাদশ : বাদ পড়লে কোহলি-সৌরভ, অথচ দলে যুবরাজ!]
আসুন একঝলকে দেখে নেওয়া যাক ইডেন গার্ডেন্সে ভারতের ৫ সেরা জয়।

ভারত বনাম ইংল্যান্ড (১৯৬২)
পরপর ৯ টা ম্যাচে ড্রয়ের পর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের দ্বিতীয় টেস্ট জয় হয়েছিল এই ইডেনেই। ১৯৬২ সালের ৪ জানুয়ারি। নারি কনট্রাক্টরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয়দল ১৮৭ রানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ডকে।
বিজয় মেহরার ৬২ রান, মনসুর আলি খান পতৌডির ৬৪ রান এবং চাঁদু বোর্দের ৬৮ রানে ভর করে ভারত প্রথম ইনিংসে ৩৮০ রান করে। ওদিকে সালিম দুরানি ৪৭ রান দিয়ে ৫টি উইকেট নেন এবং বোর্দে ৬৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে ধরাশায়ী করে। প্রথম ইনিংসের শেষে ১৬৮ রানে এগিয়ে ছিল ভারত।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ভারতের ২৫২ করা মানে ইংল্যান্ডকে জেতার জন্য ৪২১ রান করতে হত। কিন্তু দুরানির ৩ উইকেট এবং ভারতের অসামান্য পারফরম্যান্সের জোরে ২৩৩ রানেই অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড।

ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া (১৯৯৮)
১৯৯৮ সালের মার্চ মাসে মার্ক টেলরের অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইনিংস এবং ২০১৯ রানে জয় পায় ভারত। ওই সিরিজ ২-০তে জিতেছিল ভারত। মহমম্দ আজাহারউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল প্রথম থেকেই এই ম্যাচের ফেভারিট দল ছিল। ৫ উইকেট খুইয়ে ৬৩৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা স্থাপন করে ভারতীয় দল।
এই ম্যাচে ভিভিএস লক্ষ্মণ ৯৫ রান, নভজ্যোৎ সিং সিধু ৯৭ রান, রাহুল দ্রাবিঢ় ৮৬ রান এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ৬৫ রান করেছিলেন। লক্ষ্মণ ও সিধু একটুর জন্য সেঞ্চুরির সুযোগ হারালেও আজহারের ১৬৩ রানে অপরাজিত থাকাটা দর্শকদের কাছে সেরা পাওনা ছিল। আজহারের ব্যাটের পাশে অনিল কুম্বলের ৬২ রানে ৫ উইকেট টেস্টের চতুর্থ দিনেই বড় জয় এনে দিয়েছিল।

ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া (২০০১)
ভারত এই টেস্টে ১-০তে পিছিয়ে ছিল। অস্ট্রেলিয়ার ৪৪৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৭১ রানেই শেষ হয়ে যায় ভারতীয় ইনিংস। ফলো অনে বাধ্য হয়ে ভারত। তারপর যা হল তা পুরোটাই ইতিহাস। প্রথম ইনিংসে লক্ষ্মণের ৮৩ বলে ৫৯ রানের ইনিংসে মুগ্ধ হয়ে অধিনায়ক তাকে ছয় থেকে তিন নম্বরে ব্যাট করতে পাঠায়।
তৃতীয় দিনে দ্বিতীয়বার ব্যাট করে ভারত। দিনের শেষে রাহুল দ্রাবিঢ়ের ১৮০ রানের পাশাপাশি লক্ষ্মণ ১০৯ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে অপরাধিত হয়ে শেষ করেন। এই ম্যাচে ভারতীয় হিসাবে টেস্টে সর্বোচ্চ রান করেন লক্ষ্মণ, ২৮১। ৩৮৩ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেন অধিনায়ক সৌরভ।
হরভজন সিং এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে টেস্টে প্রথম ভারতীয় হিসাবে হ্যাট্রিক করেছিলেন এবং ১২৩ রানে ৭ উইকেট তুলেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও নিজের পারফরম্যান্স বজায় রেখে ৬ উইকেট নিয়ে ভারতকে ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছিলেন।

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (২০০৪)
২০০১ সালের হ্যাট্রিকের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ২০০৪ সালে ইডেনেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিলেন হরভজন সিং। নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। চতুর্থ দিনে যে ৫ টা উইকেট পড়েছিল তার মধ্যে ৪টিই নিয়েছিলেন হরভজন। পঞ্চম দিনের সকালে ৩০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কফিনে শেষ পেরেখটাও পুঁতে দেন পাঞ্জাবের এই ভাজ্জি।
এরপর ভারত ১১৭ রান তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেটে জয় পায়।

ভারত বনাম পাকিস্তান (২০০৫)
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে মোহালিতে কারমান আকমল এবং আবদুল রজ্জাকের জেদি ব্যাটিংয়ের সামনে জয় হাসিল করতে পারেনি ভারত। তাই ফাইনালের আগে কলকাতায় টেস্ট জেতাটা জরুরি ছিল।
কলকাতার এই টেস্টে দুটি ইনিংসেই দ্রাবিঢ় ও কুম্বলের অসামান্য পারফরম্যান্স অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। দ্রাবিঢ় দুই ইনিংসেই শতরান করেছিলেন (১১০ ও ১৩৫)। অন্যদিকে চতুর্থ ইনিংসে কুম্বলের ৬৩ রানে ৭ উইকেট সহ অনিল কুম্বলের ১০ টি উইকেট ভারতের জয়ে একটা বড় ভূমিকা নিয়েছিল।
বীরেন্দ্র সহবাগের ৮১ রান (প্রথম ইনিংসে), শচীন তেন্ডুলকারের ৫২ বলে ৫২ রান এবং দীনেশ কার্তিকের ৯৩ রান (দ্বিতীয় ইনিংসে) সহযোগী ভূমিকা নিয়েছিল ভারতের জয়ে। এই টেস্টে ১৯৫ রানে পাকিস্তানকে হারিয়েছিল ভারত।












Click it and Unblock the Notifications