India vs South Africa সিরিজের তৃতীয় টেস্ট কেপ টাউনে, নিউল্যান্ডসে কেমন রেকর্ড ভারতের?
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে সেঞ্চুরিয়নে এবারই প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে ভারত। তৃতীয় টেস্ট ১১ জানুয়ারি থেকে কেপ টাউনে। সেখানে অবশ্য ভারত ৫টি টেস্টের একটিতেও জিততে পারেনি। তিনটিতে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে, ২টি ড্র। একনজরে দেখে নেওয়া যাক ওই পাঁচটি টেস্টের ফলাফল।
|
প্রথম টেস্টে
১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে চার টেস্টের সিরিজের শেষ টেস্টটি হয়েছিল কেপ টাউনে। এই টেস্ট ড্র হওয়ার ফলে ১-০ ব্যবধানে মহম্মদ আজহারউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ভারতের বিরুদ্ধে নিজেদের দেশে প্রথম ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি জিতেছিল কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়ারা ৯ উইকেটে ৩৬০ রান তুলে প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ারের পর ভারত করে ২৭৬। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রোটিয়ারা ৬ উইকেটে ১৩০ তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে। ভারত ১ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান তোলার পর টেস্ট ড্র হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে চারটি-সহ টেস্টে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হন জাভাগল শ্রীনাথ। মনোজ প্রভাকর ৬২ ও সচিন তেন্ডুলকর সর্বাধিক ৭৩ রান করেছিলেন।
|
প্রথম পরাজয়
১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে কেপটাউনে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সচিন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বাধীন ভারতকে ২৮২ রানে হারিয়ে দিয়েছিল হ্যান্সি ক্রোনিয়ের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়ারা ৭ উইকেটে ৫২৯ রান তুলে প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ারের পর ভারত ৩৫৯ রানে অল আউট হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে ২৫৬ রান তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ারের পর ভারতের টার্গেট দাঁড়ায় ৪২৭। কিন্তু মাত্র ১৪৪ রানেই গুটিয়ে যায় ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস। প্রথম ইনিংসে গ্যারি কার্স্টেন ১০৩ করেন, ম্যাচের সেরা ব্রায়ান ম্যাকমিলানও ১০৩ রানেই অপরাজিত ছিলেন, ড্যারিল কালিনান করেছিলেন ৭৭। সচিন ১৬৯ ও সাতে নেমে আজহারউদ্দিন ১১৫ রান করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অ্যান্ড্রু হাডসন ও কালিনান দুজনেই করেন ৫৫, ম্যাকমিলান অপরাজিত ছিলেন ৫৯ রানে।
|
পরাজয়ের ধারা অব্যাহত
২০০৭ সালে রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতকে কেপ টাউনে ৫ উইকেটে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়াসিম জাফরের ১১৬, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ৬৬, সচিনের ৬৪ রানের দৌলতে প্রথম ইনিংসে ভারত তোলে ৪১৪। জবাবে গ্রেম স্মিথের ৯৪, হাসিম আমলার ৬৩, জ্যাক কালিসের ৫৪, মার্ক বাউচারের ৫০ রান দক্ষিণ আফ্রিকাকে পৌঁছে দেয় ৩৭৩ রানে। ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১৬৯ রানে। দ্রাবিড় ৪৭, সৌরভ ৪৬ করেন, দীনেশ কার্তিক অপরাজিত ছিলেন ৩৮ রানে। ডেল স্টেইন নিয়েছিলেন চার উইকেট। গ্রেম স্মিথের অর্ধশতরানে ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১১ রানের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের সেরা হন স্মিথ।
|
টেস্ট ড্র, সিরিজও
২০১১ সালের জানুয়ারিতে কেপ টাউন সিরিজের তৃতীয় টেস্ট ড্র রাখতে সক্ষম হয় ভারত। জ্যাক কালিসের ১৬১ রানের দৌলতে প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়ারা ৩৬২ রান তোলে। শ্রীসন্থ নেন পাঁচটি উইকেট ও জাহির খান তিনটি। সচিনের ১৪৬ ও গৌতম গম্ভীরের ৯৩ রানের দৌলতে ভারত করে ৩৬৪ রান। জ্যাক কালিসের ১০৯ রানের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে ওঠে ৩৪১ রান। হরভজন সিং ১২০ রানে ৭ উইকেট নেন। ভারতের টার্গেট ছিল ৩৪০ রান। কিন্তু ৮২ ওভারে তিন উইকেটে ১৬৬ রান তোলার পর হাতে আর সময় ছিল না মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারতের। এই টেস্ট ড্র হওয়ায় তিন টেস্টের সিরিজ ১-১ থাকে। কালিস হয়েছিলেন ম্যাচের সেরা।

আবার হার
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে কেপ টাউনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ভারতকে ৭২ রানে হারিয়ে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর সেঞ্চুরিয়ন টেস্টও তারাই জেতে, ভারত জিতেছিল জোহানেসবার্গে। বিগত সফরে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৮৬ রান করে প্রথম ইনিংসে, ভারত তোলে ২০৯। দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত ১৩০ রানে বেঁধে ফেলায় জয়ের টার্গেট ছিল ২০৮। কিন্তু ভারত গুটিয়ে গিয়েছিল ১৩৫ রানে। প্রথম ইনিংসে ভুবনেশ্বর কুমার চার উইকেট নিয়েছিলেন। ৯২ রানে ৭ উইকেট পড়ার পর হার্দিক পাণ্ডিয়ার ৯৩ রান ভারতকে দুশো পার করতে সাহায্য করে। দ্বিতীয় ইনিংসে ভুবনেশ্বর কুমার, মহম্মদ শামি ও জসপ্রীত বুমরাহ তিনটি করে উইকেট নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অশ্বিন সর্বাধিক ৩৭ করেছিলেন। ম্যাচের সেরা ভার্নন ফিলান্ডার ৪২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ভারতের আশায় জল ঢেলে দেন।












Click it and Unblock the Notifications