তিন বছরে এক ডজন! বিরাটের নেতৃত্বে ভারতের লজ্জার টেস্ট হার, কাদের বিরুদ্ধে বেশি জানেন?
লিডস টেস্টে ভারতকে ইনিংস ও ৭৬ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে জো রুটের ইংল্যান্ড। সেই সঙ্গে ৫৫টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে ২৭টিতে জয় পেয়ে জো রুট হলেন সফলতম টেস্ট অধিনায়ক। রুটের নেতৃত্বে ২০টি টেস্ট হেরেছে থ্রি লায়ন্স, ড্র করেছে ৮টিতে। পরিসংখ্যানের বিচারে ভারতের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক আবার বিরাট কোহলি। যদিও তিনি অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি হেরেছেন ইংল্যান্ডের কাছেই। তবে আগের উদাহরণ টেনে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে প্রত্যয়ী বিরাট কোহলি। তাঁর কথায়, টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে ঠিকই করেছিলেন। বোলিং যথাযথ হয়নি। টপ অর্ডারের থেকেও রান আশা করছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অনেক কিছু পজিটিভ দিকও রয়েছে। লোয়ার মিডল অর্ডারে যাতে চাপ না আসে সেই দিকেই লক্ষ্য রাখতে চান ভারত অধিনায়ক। ওভালে স্পিন সহায়ক পিচে নেওয়া হতে পারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে।

সফলতম অধিনায়ক বিরাট
২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ভারতীয় দলকে টেস্টে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিরাট কোহলি। ৬৪টি টেস্টের মধ্যে ভারত জিতেছে ৩৭টিতে, পরাজয় ১৬টিতে, ড্র ১১টি। বিরাট কোহলি দেশের সেরা টেস্ট অধিনায়ক হন মহেন্দ্র সিং ধোনির রেকর্ড টপকে। ২০০৮ থেকে ২০১৪ অবধি ধোনির নেতৃত্বে ভারত খেলেছে ৬০টি টেস্ট, জয় ২৭টিতে, ১৮টিতে পরাজয় এবং ১৫টি ড্র। ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল অবধি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অধিনায়কত্বে ভারত ৪৯টি টেস্টের মধ্যে ২১টিতে জিতেছে, ১৩টিতে হার, ১৫টি ড্র। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সাল অবধি ভারতের টেস্ট অধিনায়ক ছিলেন মহম্মদ আজহারউদ্দিন। ৪৭টি টেস্টের মধ্যে ১৪টিতে জয়, ১৪টিতে পরাজয়, ১৯টি টেস্ট ড্র হয়েছিল আজ্জুর নেতৃত্বে। সুনীল গাভাসকর ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪৭টি টেস্টে, ৯টিতে ভারত জিতেছে, ৮টিতে পরাজয়, ড্র ৩০টি টেস্ট। ১৯৬২ থেকে ১৯৭৫ সাল অবধি ভারত অধিনায়ক ছিলেন মনসুর আলি খান পতৌদি। নবাবের নেতৃত্বে ভারত ৯টি টেস্টে জিতেছে, ১৯টিতে হেরেছে, ১২টি টেস্ট ড্র রাখতে সক্ষম হয়েছে। কপিল দেব টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ অবধি। কপিলের নেতৃত্বে ৩৪টি টেস্টের মধ্যে ভারতের জয় ৪টিতে, ৭টিতে হার, ১টি টাই, ২২টি ড্র। রাহুল দ্রাবিড় (২০০৩-০৭) ও সচিন তেন্ডুলকর (১৯৯৬-২০০০) ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ২৫টি টেস্টে। দ্রাবিড়ের অধিনায়কত্বে ভারত জিতেছে ৮টিতে, ৬টিতে হার, ১১টিতে ড্র। সচিনের নেতৃত্বে ভারত চারটি টেস্টে জিতেছে, ৯টিতে হেরেছে, ১২টি ড্র।

বিরাটের নেতৃত্বে টেস্টে পরাজয়
টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিরাট কোহলি যান অস্ট্রেলিয়া সফরে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিজ শুরু হয়। অ্যাডিলেডে প্রথম টেস্টে ভারত হারে ৪৮ রানে। পরের ব্রিসবেন টেস্টে ভারত হারে ৪ উইকেটে। মেলবোর্ন ও সিডনি টেস্ট ড্র হওয়ায় প্রথম সিরিজই বিরাটের ভারত হারে ০-২ ব্যবধানে। এরপর ২০১৫ সালের গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজয় ৬৩ রানে। যদিও এই সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতে ভারত। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনেয় প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারত ৩৩৩ রানে পরাজিত হয় বিরাট কোহলির অধিনায়কত্বে। দেশের মাটিতে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে এটি বিরাটের প্রথম পরাজয়। যদিও তিন টেস্টের সিরিজ শেষে ১-১ ড্র হয়েছিল।

তিন বছরে এক ডজন হার
গত তিন বছরেই বেশিরভাগ টেস্ট হেরেছে বিরাট কোহলির ভারত। লিডস নিয়ে সেই সংখ্যাটা এক ডজন! ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে কেপটাউনে প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন ভারতকে ৭২ রানে হারায়। পরের সেঞ্চুরিয়ন টেস্ট দক্ষিণ আফ্রিকা জেতে ১৩৫ রানে। ২০১৮ সালের ইংল্যান্ড সফরে চার টেস্টের সিরিজে ১-৩ ব্যবধানে ভারত হেরেছিল। লর্ডসে ইংল্যান্ড জিতেছিল ইনিংস ও ১৫৯ রানে। সাউদাম্পটনে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট ৬০ রানে জিতে ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর ওভাল টেস্ট ১১৮ রানে জিতে সিরিজ ৩-১ করে ফেলে জো রুটের দল। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বিরাটের নেতৃত্বে ভারত অস্ট্রেলিয়া সফরে যায়। ভারত চার টেস্টের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতলেও পারথে দ্বিতীয় টেস্টে ১৪৬ রানে জিতে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছিল টিম পেইনের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া। গত বছর জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়েলিংটন টেস্ট ভারত হারে ১০ উইকেটে। এরপর ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে জিতে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বিরাটের ভারতকে। গত ডিসেম্বরে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রথম টেস্টে বিরাটের ভারত হারে ৮ উইকেটে। এই টেস্টে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬ রানে অল আউট হয়। পরে বিরাট না খেললেও ভারত সিরিজ জেতে অজিঙ্ক রাহানের নেতৃত্বে। চলতি বছর চেন্নাই টেস্টে ভারতকে ইংল্যান্ড হারায় ২২৭ রানে। এরপর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে সাউদাম্পটনে নিউজিল্যান্ডের কাছে পরাজয়। কেন উইলিয়ামসনরা জিতেছিলেন ৮ উইকেটে। তারপর আজকের এই পরাজয় উইলিয়ামসনদের কাছে হারের ধরনের চেয়েও খারাপ পরাজয়!

ব্যর্থ বিরাট
২০২০ সালে বিরাট কোহলি তিনটি টেস্ট খেলেছিলেন। ৬টি ইনিংসে রান ছিল ১১৬। সর্বাধিক ৭৪। গড় ১৯.৩৩, স্ট্রাইক রেট ৪০.৯৮। একটিই অর্ধশতরান করেছিলেন। চলতি বছর বিরাট আটটি টেস্ট খেলেছেন। ১৩টি ইনিংসে রান ৩৫৩। সর্বাধিক ৭২। গড় ২৭.১৫। স্ট্রাইক রেট ৪৩.৫৮। এই বছর তিনটি অর্ধশতরান করলেও শতরানের খরা মিটল না লিডসেও। বিগত দুই বছরের পারফরম্যান্স তাঁর টেস্ট কেরিয়ারের সঙ্গেও বেমানান। ৯৫টি টেস্টে ১৬০টি ইনিংসে ৭৬৭১ রান হল বিরাটের। সর্বাধিক ২৫৪ অপরাজিত। গড় ৫১.১৪। স্ট্রাইক রেট ৫৬.৬১। ২৭টি শতরান, ২৬টি অর্ধশতরান। ১৩ বার শূন্যে আউট হয়েছেন। ৮৫৬টি চার ও ২২টি ছয় মেরেছেন টেস্ট কেরিয়ারে। আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ২৩ হাজার রান করতে বিরাটের এখনও দরকার ৬৩ রান।












Click it and Unblock the Notifications