Ind Vs Eng: ভারতের ক্যাচ মিসের বহর, তাও বাঁচালেন সেই বুমরাহই, চতুর্থ দিনের খেলাই গড়বে ম্যাচের ভাগ্য
হেডিংলে টেস্টে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেল। প্রথম ইনিংসে জসপ্রীত বুমরাহ-র অসাধারণ বোলিংয়ে ভর করে ইংল্যান্ডকে বড় লিড নেওয়া থেকে আটকানোর পর, দ্বিতীয় ইনিংসে কেএল রাহুলের জমাট ব্যাটিং ভারতকে ম্যাচে টিকে থাকতে সাহায্য করছে। দিনের শেষে ভারত ৯৬ রানের লিড নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। যদিও হাতে রয়েছে মাত্র ৮টি উইকেট। ফলে চতুর্থ দিনের সেশনগুলোই যে নির্ধারক হতে চলেছে তা এখনই বলে দেওয়া যায়।
ফের একবার জসপ্রীত বুমরাহ বিদেশের মাটিতে আরও একবার পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতীয় বোলিংয়ের অন্যতম ভরসা হয়েই থাকলেন। তৃতীয় দিনে ইংল্যান্ডের ইনিংসকে প্রায় একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন হ্যারি ব্রুক। তাঁর ৯৯ রানের ইনিংস এবং ইংল্যান্ডের টেল এন্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ফলে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৪৬৫ রান তোলে। এর আগে ভারত প্রথম ইনিংসে ৪৭১ রান করে। ফলে মাত্র ৬ রানের লিড পান শুভমান গিলরা।

টেল এন্ডারদের তাড়াতাড়ি ফেরাতে না পারায় ভারতীয় বোলাররা নিঃসন্দেহে হতাশ হবেন। ইংল্যান্ড খেলায় ফিরে এসেছে এবং এই মুহূর্তে খেলাটি সমান অবস্থানে রয়েছে। এই পিচ এখনও ব্যাটিং সহায়ক, তাই ইংল্যান্ড রান তাড়া করার সুযোগ পাবে। ভারতকে সোমবার পুরো দিন ব্যাট করতে হবে। অন্তত ৩০০ রানের বেশি করতে হবে এবং ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলতে হবে। যদি ফিল্ডিংয়ে ক্যাচ মিসের বহর না থাকত, তাহলে গিলরা ১৫০ রানের বেশি লিড পেত বলে মনে করছেন রবি শাস্ত্রী।
এদিন ভারতীয় ফিল্ডিং দুর্বল ছিল। গিলরা প্রথম ইনিংসে ছয়টি ক্যাচ ফেলেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে গত পাঁচ বছরে এক ইনিংসে এটিই ভারতের সর্বাধিক ক্যাচ ফেলার রেকর্ড।
দিনের শেষবেলায় কেএল রাহুল অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন। মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় ইংল্যান্ডের বোলারদের দাপুটে স্পেল সামলে তিনি দলকে ভরসা দিয়েছেন। বৃষ্টিতে ২০.৫ ওভার খেলা বন্ধ ছিল। দিনের শেষে ভারত ২ উইকেট হারিয়ে ৯০ রান করে। বর্তমানে ভারতের লিড ৯৬ রান। কিন্তু এই পিচ এখনও ব্যাটসম্যানদের জন্য সহায়ক হওয়ায় ভারতকে বড় লিড তৈরি করতে হবে।
ইংল্যান্ড এর আগেও বহুবার কঠিন লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে। তাই ভারত সামনে বড় রানের লক্ষ্য রাখলেও ইংরেজরা আত্মবিশ্বাসী থাকবেন। বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার পরবর্তী যুগে তরুণ ভারতীয় দল প্রথম ইনিংসে ৪৭১ রান করে সকলের নজর কেড়েছে। তবে তাঁদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা এখনও বাকি।
চিন্তার বিষয়, ভারতের শেষ সাতটি উইকেট মাত্র ৪১ রানে পড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের শেষ চারটি উইকেটে ১১৬ রান যোগ করেছে। এই বিষয়টি দুই দলের ইনিংসের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে নিঃসন্দেহে।
ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরুতে যশস্বী জয়সওয়াল তিনটি ক্যাচ ছাড়েন। এরপর ব্যাট করতে নেমে তিনি ৪ রানে আউট হন। ব্রাইডন কার্সের একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে তিনি পরাস্ত হন। সাই সুদর্শন প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হলেও, এদিন চাপের মুখে ভালো শুরু করলেও ৩০ রান করে বেন স্টোকসের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন। দিনের শেষে কেএল রাহুল ৪৭ রানে এবং শুভমান গিল ৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন।
এর আগে বুমরাহ ৮৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ইংরেজ ব্যাটিংয়ে একা ধস নামান। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ৩টি ও মহম্মদ সিরাজ ২টি উইকেট পেলেও কার্যকরী বোলিং করে বুমরাহকে সাহায্য করতে পারেননি। ফলে ইংরেজ টেল এন্ডাররা অনেকটা রান বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হন।
প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে ভারত ও ইংল্যান্ড উভয়েই সমান তালে লড়াই করেছে। দিনের শেষে বুমরাহ-র বোলিং এবং রাহুলের ব্যাটিংয়ের পর চতুর্থ দিনে ভারত অ্যাডভান্টেজ নিতে পারে কিনা সেটাই এখন দেখার।












Click it and Unblock the Notifications