বিশ্ব ক্রিকেটে কোণঠাসা পাকিস্তান! রাগ মেটাতে গিয়ে ভারতের শ্রেষ্ঠত্বই মানলেন ইমরান
টি ২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে ভারত। বিশ্বকাপে কখনও ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে বিরাট কোহলিরা বাবর আজমদের বিরুদ্ধে নামবেন ফেভারিট হিসেবেই। তার মধ্যেই প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তথা ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী পাক অধিনায়ক ইমরান খান। নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে অসহায় পাকিস্তান এখন যত দোষ ভারতের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে। আর সেটাও ঠিকমতো পারলেন না ইমরান। পরোক্ষে ভারতেরই শ্রেষ্ঠত্ব মানতে হল অসহায় পাকিস্তানকে।

ইমরান খান নিজে রামিজ রাজাকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে বসিয়েছেন। পাকিস্তান টি ২০ বিশ্বকাপের দল ঘোষণার পর কোচেরা পদত্যাগ করেছেন। ধরে-বেঁধে নতুন কোচ আনা হয়েছে, বদল হয়েছে পাকিস্তানের চূড়ান্ত দলেও। তবে সবচেয়ে বেশি মুখ পুড়েছে রাওয়ালপিণ্ডিতে একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ শুরুর কিছুক্ষণ আগে নিরাপত্তার কারণে সফর বাতিল করে ফিরেছে নিউজিল্যান্ড। তারপর পুরুষ ও মহিলা দলের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছে ইংল্যান্ডও। যদিও দুই দেশই আগামী বছর পাকিস্তান সফরে যাওয়ার মৌখিক আশ্বাস দিয়েছে। এই জোড়া সফর বাতিলে টি ২০ বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের প্রস্তুতিও ধাক্কা খেয়েছে। এই ঘটনার পিছনে ভারতের হাত রয়েছে বলে পাকিস্তানের বিভিন্ন মহল মুখরক্ষার উপায় খুঁজছিল। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেও কিউয়িদের পাকিস্তান ছাড়ার সিদ্ধান্ত রুখতে পারেননি।

ইমরান খানের দাবি, পাকিস্তান সফর বাতিল না করলে লাভবানই হতো ইংল্যান্ড। কিন্তু এই সফর বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ হল অর্থ। অর্থই এখন বিগ প্লেয়ার। অর্থ ক্রিকেটারদের কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বিভিন্ন দেশে বোর্ডের কাছেও। আর সেই অর্থের বিপুল ভাণ্ডার ভারতে। তাই ভারতই বিশ্ব ক্রিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ভারত যা বলছে সেটাই হচ্ছে! ভারতের কথা অমান্য করার সাহস অন্যরা দেখাতে পারছে না কারণ ভারতের সাহায্য পেলে তবেই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব।

নিউজিল্যান্ডের পাকিস্তানে তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি টি ২০ খেলার কথা ছিল। ১৩ ও ১৪ অক্টোবর ইংল্যান্ডের পাকিস্তানে দুটি টি ২০ খেলার কথা ছিল। আগামী বছর পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা অস্ট্রেলিয়ার। তবে সেই সফরও বাতিল হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই। পাকিস্তানে যেতে বিভিন্ন দল রাজি না হওয়ায় নিরপেক্ষ কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে বিভিন্ন সিরিজ আয়োজন করেছে পাকিস্তান। তবে কিছু দেশ পাকিস্তান সফরে যেতে সম্প্রতি রাজি হওয়ায় আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে পিসিবি। একে ভারত পাকিস্তান সফরে যায় না বহু বছর। তার উপর বাকিরাও পাকিস্তানে যেতে নারাজ হওয়ায় ভারতই কলকাঠি নাড়ছে বলে অভিযোগ পাকিস্তানের। ইমরানের গলায় তাই অসহায়তার সুর। দুটি দেশ পাকিস্তান সফর বাতিল করায় রামিজ রাজা বাবরদের উদ্দেশে বলেছিলেন, টি ২০ বিশ্বকাপের মঞ্চেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে যাতে অন্য দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলতে লাইন লাগায়। কিন্তু পাকিস্তান যে ক্রিকেটেও কোণঠাসা তা বুঝিয়ে নিজেদের দৈন্যতারই পরিচয় দিলেন বিশ্বকাপজয়ী পাক অধিনায়ক তথা প্রধানমন্ত্রী ইমরান।












Click it and Unblock the Notifications