ভারত টেস্টে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপরাজেয় থাকার পথে গড়ল কোন কোন নজির? রাহুল অনুসরণ করলেন ধোনিকে
মীরপুর টেস্টে রান তাড়া করতে নেমে বিপর্যয়ের মুখে পড়া ভারতের পরিত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন শ্রেয়স আইয়ার ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। স্পিনারদের দাপট সামলে তাঁরা অবিচ্ছেদ্য ৭১ রানের পার্টনারশিপে ভর করে ভারতের জয় এনে দিলেন ৩ উইকেটে। সিরিজ জয় ২-০ ব্যবধানে।

চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়া করতে নেমে শ্রেয়স ও অশ্বিন যে পার্টনারশিপ গড়লেন, টেস্টে অষ্টম উইকেটে তা সর্বাধিক। ১৯৯৪ সালে পাকিস্তানের ইনজামাম উল হক ও রশিদ লতিফ যোগ করেছিলেন ৫২ রান। সফলভাবে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে এই ৭১ রান অষ্টম বা তার পরবর্তী উইকেটে ওঠা রানের ক্ষেত্রে রইল চতুর্থ স্থানে। ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৩টি টেস্টের মধ্যে ১১টিতে জিতল। কোনও দল কোনও নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টেস্টে অপরাজেয় থেকেছে ভারতের চেয়ে বেশি টেস্ট খেলে, এমন তিনটি নজির রয়েছে। শ্রীলঙ্কা ২০টি টেস্ট খেলে অপরাজেয় জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে, নিউজিল্যান্ড ১৪টি টেস্ট খেলেছে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে, একটিতেও হারেনি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৪টি টেস্টে অপরাজেয় দক্ষিণ আফ্রিকা
১৪৫ রানের টার্গেট তাড়া করে ভারতের টেস্ট জিতল ভারত। ২০২১ সালে ব্রিসবেন টেস্টে ভারত জিতেছিল ৩২৮ রান তাড়া করে। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই মোহালি টেস্টে ভারত জেতে ১৫৫ রান তাড়া করে। গত ১০ বছরে ১৪৫ বা তার উপর রান তাড়া করে ভারত তৃতীয়বার জয় ছিনিয়ে নিল। নয় নম্বর বা তার পরে নেমে টেস্টে সফলভাবে রান করার ক্ষেত্রে অশ্বিনের অপরাজিত ৪২ রান সর্বাধিক স্কোর। ভারতের ৭ উইকেট পড়ে গিয়েছিল ৭৪ রানে। ২০১০ সালে মোহালি টেস্টে ভারত জিতেছিল ১ উইকেটে, শেষ তিন উইকেটে যোগ হয়েছিল ৯৪ রান। রান তাড়া করতে নেমে সাত উইকেট পড়ার পর ৭১ তুলে জেতার নিরিখে ভারত রইল বিশ্বে দশম স্থানে। ১৯৮০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ১০৪ রান তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের ৫৪ রানে এবং ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৬৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের ৫৯ রানে সাত উইকেট পড়ে। তারপরও টেস্ট জিতেছিল তারা। তাদের পরে এবার রইল ভারতের নজির।
ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ট্রফি জেতার পর তা দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যের হাতে প্রথমে তুলে দেওয়ার প্রথা চালু করেছিলেন। যা পরে বজায় রাখেন বিরাট কোহলি। লোকেশ রাহুল সেই প্রথা মেনেই এদিন ট্রফি তুলে দিলেন সৌরভ কুমারের হাতে। এখনও তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়নি। রাহুলের এই দৃষ্টান্তের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। রান তাড়া করার সময় ড্রেসিংরুমে টেনশন ছিল বলে স্বীকার করেন রাহুল। তবে বিশ্বাস ছিল কেউ না কেউ দলকে ঠিক লক্ষ্যে পৌঁছে দেবেন। কুলদীপ যাদবকে বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও কোনও খেদ নেই রাহুলের। তবে বলেছেন, টেস্টে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার থাকলে দ্বিতীয় ইনিংসে নামাতেন কুলদীপকে।












Click it and Unblock the Notifications