বৃষ্টির চোখরাঙানি এড়িয়ে টাইগারদের বিরুদ্ধে জয়, অঘটন না ঘটলে সেমিফাইনালে ভারত
বৃষ্টির চোখরাঙানি এড়িয়ে টাইগারদের বিরুদ্ধে জয়, অঘটন না ঘটলে সেমিফাইনালে ভারত
টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের পৌঁছনোটা এখন স্রেফ সময়ের ব্যপার। বাংলাদেশকে অ্যাডিলেডে ৫ রানে হারানোর ফলে শেষ চারের দিকে এক পা বাড়িয়ে রাখল ভারত। গ্রুপের শেষ ম্যাচে কোনও অঘটন না ঘটলে শেষ চারে ভারতের যাওয়াটা নিশ্চিত। ভারতের ১৮৫ রানের টার্গেট বৃষ্টির কারণে ১৬ ওভারে কমে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় ১৫১ রান। কিন্তু অনভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইন বাংলাদেশের জয়ের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ১৪৫/৬ রানে।

বুধবার অ্যাডিলেডে টসে জিতে বোলিং-এর সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক শাকিব আল হাসান। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শাকিব। তবে, টসে হারলেও অখুশি ছিলেন না রোহিত কারণ তিনি জানান, টসে জিতলে হয়তো ব্যাটিং-ই নিতেন তিনি। ভারতীয় ইনিংসের শুরুতে আউট হন রোহিত শর্মা। দলের অধিনায়ক রোহিত ২ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরলেও কোনও সমস্যা হয়নি ভারতের বড় রানের টার্গেট প্রতিপক্ষের সামনে রাখতে। বিরাট কোহলি এবং কে এল রাহুলের অর্ধ-শতরানের উপর ভর করে জয়ের জন্য ১৮৪/৬ রান তোলে ভারত।
দীর্ঘ সময় চেনা ফর্মে না থাকা কে এল রাহুলকে এই ম্যাচে পুরনো ছন্দে পাওয়া গিয়েছে। পাকিস্তান, নেদারল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যিনি দুই অঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি তাঁর ব্যাটিং-এ এই ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের ছাপ পাওয়া গিয়েছে। যদিও প্রথমের দিকে কিছুটা অগোছাল লাগছিল রাহুলকে। আত্মবিশ্বাসের অভাব বোঝা যাচ্ছিল, তবে ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গেই নিজের ছন্দ ফিরে পেয়েছেন এই ডান হাতি ওপেনার। ৩টি চার এবং ৪টি চারের সৌজন্যে কে এল রাহুল অর্ধ-শতরান পূর্ণ করেন।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকে ছন্দে থাকা বিরাট কোহলি এই ম্যাচেও দাপটের সঙ্গে শাসন করেছেন বাংলাদেশের বোলারদের। এই নিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২২-এ চার ম্যাচে তিনটি অর্ধ-শতরান করলেন বিরাট। শেষ ম্যাচে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১২ রানে তিনি আউট হন। বিরাটের ইনিংসের মধ্যে ছিল ৮টি চার এবং ১টি ছয়। সূর্যকুমার যাদব ৩০ রানের ইনিংস খেলেন। ভারতের লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা ধরা পড়েছে এই ম্যাচেও দীনেশ কার্তিক এবং অক্ষর প্যাটেল ৭ রানে আউট হয়েছেন। হার্দিক পাণ্ডিয়া করেছেন ৫ রান। যদিও দীনেশ রান আউট হয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে ৩টি উইকেট নেন হাসান মাহমুদ এবং ২টি উইকেট নেন হাসান মাহমুদ।
১৮৫ রান তাড়া করতে নেমে দুর্ধর্ষ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। লিটন দাসের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্সের উপর ভর করে ৭ ওভার শেষে বাংলাদেশ তোলে ৬৬/০। এমন সময় নামে বৃষ্টি। দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টির কারণে বন্ধ ছিল খেলা। অ্যাডিলেডে বৃষ্টির তীব্রতা এতটাই ছিল যে আদৌ ম্যাচ শুরু করা যাবে কি না, তা নিয়ে ছিল সংশয়। এই সময়ে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে জয়ের যতটা রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের তার থেকেও ১৭ রান বেশি তুলেছিল টাইগার বাহিনী।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচে ওভার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৬ এবং জয়ের জন্য নতুন টার্গেট সেট হয় ১৫১ রান। বৃষ্টির অশনি সংকেত কাটিয়ে দল মাঠে ফিরতেই ঝলমল করে ওঠে ভারত। ২৭ বলে ৬০ রানে লিটন দাসের রান আউট পুরো ম্যাচ ওপেন করে দেয় ভারতের সামনে। এর পর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। গত ম্যাচে দুরন্ত খেলা ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ২১ রান। টাইগার অধিনায়ক শাকিব আল হাসান ১৩ রান আউট হন।
বরাবরের মতো বাংলাদেশের ভঙ্গুর মিডল অর্ডার ভরসা দিয়ে পারেনি। ৩ রানে আউট হন আফিফ হোসেন, ইয়াসির আলি করেন ১ রান, মোসাদ্দেক হোসেন প্যাভিলিয়নে ফেরেন ৬ রানে। শেষের দিকে তরুণ উইকেটরক্ষক নাজিমুল হোসেন ১৪ বলে ২৫ রান করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ বলে সুপার ওভারের জন্য ছয় মারতে হতো নাজিমুলকে। কিন্তু তিন তা করতে ব্যর্থ হন। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং এবং হার্দিক পাণ্ডিয়া ২টি করে উইকেট পান, একটি উইকেট নেন মহম্মদ শামি।












Click it and Unblock the Notifications