IND vs ENG: শুভমান গিলের আগ্রাসী শতরানে খুশি, কিন্তু ব্যাটিং পজিশন নিয়ে কেন আপত্তি বাবা লখবিন্দরের?
IND vs ENG: শুভমান গিলের বেশিরভাগ খেলা দেখতেই মাঠে থাকেন বাবা লখবিন্দর। বাবার মতামতের ভিত্তিতেই শুভমান ছোট থেকে নিজের খেলার ভুলত্রুটি শুধরে নেন।
যতই লোকে প্রশংসা করুক, বাবার কাছ থেকে প্রশংসা না পাওয়া অবধি শুভমান পুরোপুরি তৃপ্ত হতে পারেন না। চলতি সিরিজে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ছেলের দ্বিতীয় শতরান ধরমশালায় বসে দেখলেন লখবিন্দর।

শুভমান গিল হায়দরাবাদে প্রথম টেস্টে ২৩ ও ০ রানে আউট হওয়ার পর চাপে ছিলেন। বিশাখাপত্তনম টেস্টেও প্রথম ইনিংসে বড় রান পাননি। গত বছরের মার্চে আমেদাবাদে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১২৮ রানের ইনিংস খেলার পর টেস্টের ১২টি ইনিংসে তাঁর রান ছিল যথাক্রমে ১৩, ১৮, ৬, ১০, অপরাজিত ২৯, ২, ২৬, ৩৬, ১০, ২৩, ০ ও ৩৪।
অবশেষে বিশাখাপত্তনম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৭ বলে ১০৪ রান করেছিলেন শুভমান। অনূর্ধ্ব ১৬ পর্যায় থেকে প্রচুর রান করা শুভমানের এই রানের খরার কারণ ছিল তাঁর স্বাভাবিক খেলা বন্ধ করে দেওয়া, তেমনটাই মনে করছেন বাবা লখবিন্দর। বাবার কাছেই শুভমানের ক্রিকেট শেখা।
এখনও মোহালিতে থাকলে বাবার তত্ত্বাবধানেই অনুশীলন করেন শুভমান। পেসার হোক বা স্পিনার, প্রতিপক্ষ বোলারদের বিরুদ্ধে স্টেপ আউট করে খেলার মাধ্যমেই শুভমান রানে ফিরেছেন বলে মনে করছেন লখবিন্দর। আজও শুভমান ক্রিজ ছেড়ে যেভাবে বেরিয়ে এসে জেমস অ্যান্ডারসনের বলে ছক্কা মেরেছেন তা চোখজুড়ানো।
লখবিন্দরের কথায়, যখনই নিজের স্বাভাবিক খেলা থেকে কেউ সরে আসবে তখনই সমস্যা দেখা দেবে। খেলাটা পুরো আত্মবিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। একটা ভালো ইনিংস ছন্দ ফিরিয়ে দিতে পারে। আজ নিজের আগ্রাসী মেজাজে থেকে শুভমান কখনও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় কাট মেরেছেন, কখনও কভার ড্রাইভ।
পেসারদের বিরুদ্ধে কিছুটা এগিয়ে এসে খেললে বা স্টেপ আউট করলে বোলারদের ডেলিভারির মুভমেন্টের মোকাবিলা ভালোভাবে করা যায়। শুভমান সে কাজে আজ সফল। তবে টেস্টে ওপেনিং পজিশন ছেড়ে গিলের তিনে নেমে আসার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন না তাঁর বাবা। যদিও ছেলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাচ্ছেন।
লখবিন্দর বলেন, শুভমানের খেলার ধরন চেতেশ্বর পূজারার মতো নয়। পূজারা রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করে সফল তিনে। তিন নম্বর এমন এক পজিশন যা ওপেনিং নয়, আবার মিডল অর্ডারও সেভাবে নয়। খেলা যত এগোবে তিনে নামা প্লেয়ারের উপর চাপও বাড়তে থাকে। ফলে শুভমানের ওপেন না করার সিদ্ধান্ত সঠিক নয়।
শুভমানের বাবা আরও বলেন, নতুন বলে খেললে প্রথমদিকে কয়েকটা লুজ বল পাওয়া যায়। কিন্তু ৫-৭ ওভার হয়ে গেলেও বোলাররাও তাঁদের লেংথের সমস্যা কাটিয়ে উঠে ছন্দে থেকেই বোলিং করতে পারেন। তবে আমি শুভমানের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করি না। শুভমানের অল্প বয়সে তাঁর ভালোর জন্য পরামর্শ দিতাম। এখন ভালো বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুভমান পরিণত।
বিসিসিআই যে রঞ্জি-সহ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট বাধ্যতামূলক করেছে ক্রিকেটারদের জন্য, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন শুভমানের বাবা। তিনি বলেন, ক্রিকেটীয় ক্যালেন্ডার এতটাই ঠাসা যে লাল বলে খেলার সুযোগ তেমন মেলে না। ফলে সাদা বলেই বেশি অনুশীলন করতে হয় শুভমানকে। এতে লাল বলে স্পিনারদের খেলা কঠিন হয়ে যায়।












Click it and Unblock the Notifications