IND vs ENG: শোয়েব বশির টেস্টে এই প্রথম ইনিংসে নিলেন পাঁচ উইকেট! উত্থানে অবদান শেন ওয়ার্ন ও বাঙালি কোচের
IND vs ENG: ইংল্যান্ডের তরুণ স্পিনার রাঁটিতেই প্রথমবার টেস্টে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন। ভারতের বিরুদ্ধে। কেরিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলছেন। বিশাখাপত্তনমে অভিষেক টেস্টে পান ৪ উইকেট।
উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে ভালো বল ঘোরাতে পারেন। তাতেই সাফল্য পেলেন এই অফ-স্পিনার। শোয়েব বশিরের উত্থানে অবদান রয়েছে রাজস্থান রয়্যালস ও শেন ওয়ার্নের।

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত শোয়েব বশির যখন ইংল্যান্ড টেস্ট দলে ডাক পান তখন তাঁর নামের পাশে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০টি উইকেট। ২০২৩ সালে সমারসেটের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন, সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১৮টি ম্যাচ খেলেছেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলেন সারের হয়ে। ১৭ বছর বয়সে তাঁকে ওই কাউন্টি ছেড়ে দেয়।
এরপর মিডলসেক্স ও বার্কশায়ারের হয়ে খেলেছেন, অবশেষে পেশাদার ক্রিকেটে প্রবেশ সমারসেট সেকেন্ড ইলেভেনের হয়ে। টি২০ ব্লাস্টে নজর কাড়েন। তারপর সুযোগ মেলে ইংল্যান্ড লায়ন্স দলের হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফরে। শোয়েবের কেরিয়ারকে অন্য খাতে বইয়ে দেয় রাজস্থান রয়্যালস আকাদেমি।
ইংল্যান্ডে রাজস্থান রয়্যালস আকাদেমির কোচ সিদ্ধার্থ লাহিড়ী, যিনি আবার কলকাতার বেহালার ছেলে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, শোয়েবকে প্রথম দেখি যখন তাঁর ১১ বছর বয়স। ওকিংয়ের হাসিন্দা। লাজুক ও অন্তর্মুখী স্বভাবের। বন্ধু, গার্লফ্রেন্ড, পার্টি নয়, শোয়েব শুধু পরিবার ও ক্রিকেট নিয়েই মেতে থাকতেন।
শোয়েব রাজস্থান রয়্যালসের আকাদেমিতে অনুশীলন শুরু করেন ব্যাটার হিসেবে, যিনি মিডিয়াম পেস বল করতে পারেন। তখনও কোনও কাউন্টির বয়সভিত্তিক দলে খেলেননি। শোয়েবের বয়স যখন ১৩-১৪, তখন কোচেরা বোঝেন, উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যাচরাল অ্যাকশনে তিনি অফ-স্পিন বল করলে কার্যকরী হবেন।
তখন থেকেই শোয়েবের প্রতি বিশেষ নজর দিতে থাকেন সিদ্ধার্থ। স্কুল থেকে এসে কিছু খেয়েই নেমে পড়তেন অনুশীলনে। ১৩ বছর বয়স থেকেই বেশি করে বোলিং করা শুরু বঙ্গসন্তানের তত্ত্বাবধানে। স্টেট স্কুলে পড়ায় বেসরকারি স্কুলের তুলনায় খেলার সুযোগ কম ছিল শোয়েবের। তাতে তিনি বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কিছুটা পিছিয়ে পড়েন।
১৩-১৪ বছর বয়স থেকে শোয়েবকে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে খেলানোর ব্যবস্থা করেন সিদ্ধার্থ। এতেই তাঁর উন্নতি গতি পায়। সারে তাঁর সঙ্গে চুক্তি না করায় শোয়েবের মনোবলে ধাক্কা লাগে। তবে হতোদ্যম হননি। এরই মধ্যে ২০১৯ সালে রাজস্থান রয়্যালস আকাদেমিতে গিয়েছিলেন শেন ওয়ার্ন।
ওয়ার্ন আকাদেমির শিক্ষার্থীদের স্পিন বোলিং দেখছিলেন। শোয়েব নজরে পড়েন। ওয়ার্ন তাঁকে ডেকে বলেন, তুমি স্পিনার, নাকি ফাস্ট বোলার? শোয়েব বলেন, স্পিনার। ওয়ার্ন বলেন, তাহলে কী করতে চাও? শোয়েবের জবাব, বোলিং। ওয়ার্ন তাঁকে বলেন, বল ঘোরাতে হবে। তাছাড়া কিছু করার দরকার নেই। টি২০, টি১০, পাঁচ দিন, চার দিনের ম্যাচ যা-ই হোক না কেন। শুধু বল ঘোরাও। ওয়ার্নের এই মন্ত্র আত্মস্থ করেই এগিয়েছেন শোয়েব।












Click it and Unblock the Notifications