IND vs ENG: ধ্রুব আপার কাটের ছক্কায় মনে করালেন ধোনিকে! আগ্রার জুয়েল জুরেলের উত্থানে ফুলের অবদান
IND vs ENG: টেস্ট অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখার বার্তা দিয়েছিলেন কোচ ফুল চাঁদ। রাজকোটে ভারত-ইংল্যান্ড টেস্টের প্রথম দিন সকালে বার্তা পেয়ে প্রত্যুত্তরে ধ্রুব জুরেল লিখেছিলেন, স্যর, আমার সেরাটাই দেব।
কোচকে দেওয়া কথা রাখলেন ধ্রুব জুরেল। কেএস ভরতের খারাপ ফর্ম, ঈশান কিষাণকে নিয়ে জটিলতা, ঋষভ পন্থের এখনও মাঠের বাইরে থাকা। এই পরিস্থিতিতে সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করলেন ধ্রুব জুরেল।

ধ্রুব জুরেল আজ রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সঙ্গে জুটি বেঁধে ভারতের রান চারশো পার করানোর ক্ষেত্রে অবদান রাখলেন। ২টি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে তিনি ১৪৩ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে খেললেন ১০৪ বলে ৪৬ রানের ইনিংস। ধ্রুবর টেম্পারামেন্ট সকলের মন জিতে নিল। বুঝিয়ে দিলেন তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া।
আগ্রায় সেনা পরিবারে জন্ম। ধ্রুবর বাবা ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাবিলদার। কার্গিল যুদ্ধে অংশ নেন। পরে স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। ধ্রুবর জন্ম ২০০১ সালের ২১ জানুয়ারি। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসার পথটা মসৃণ ছিল না। ধ্রুবর ক্রিকেট কেরিয়ারের শুরুটা তো বেশ নাটকীয়।
নয়ডার সেক্টর ৭১-এ ফুল চাঁদ ক্রিকেট আকাদেমি চালান। ধ্রুবই তাঁর প্রথম ছাত্র যাঁর টেস্ট অভিষেক হলো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবশ্য ধ্রুবর আগে ফুল চাঁদের যে ছাত্রর অভিষেক হয়েছে তিনি হলেন শিবম মাভি। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে ধ্রুবর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কথা তুলে ধরেছেন ফুল চাঁদ।
Dhruv Jurel on debut against a 146kmph delivery. 🔥pic.twitter.com/cw1elR4h0V
— Mufaddal Vohra (@mufaddal_vohra) February 16, 2024
ধ্রুবর বয়স তখন বছর ১৩। হঠাৎই আকাদেমির অফিস ঘরের কাছে এক টিনএজার এসে বলেন, স্যর, আমার নাম ধ্রুব জুরেল। অনুগ্রহ করে আপনার আকাদেমিতে আমাকে ভর্তি নিন। সাধারণভাবে বাবা-মা বা পরিবারের কেউ আকাদেমিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে আসেন। কিন্তু ধ্রুবর ক্ষেত্রে কেউ আসেননি।
ধ্রুবকে দেখে ফুল চাঁদ ভেবেছিলেন, নয়ডার স্থানীয় ছেলে হয়তো ভর্তি হতে এসেছে। কিন্তু ধ্রুব জানান, তিনি আগ্রা থেকে একাই ট্রেনে চেপে দিল্লিতে এসেছেন। ছেলেটি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে কিনা বলে এরপরই সংশয় হয় ফুল চাঁদের। তবে এতটুকু ছেলে ট্রেনে একা আসায় ধ্রুবর মধ্যে বিশেষ কিছু গুণ রয়েছে বলে উপলব্ধি করেন ফুল চাঁদ।
ফুল চাঁদ জানতে পারেন, ধ্রুবকে যে বন্ধু দিল্লিতে আসার কথা বলেছিলেন, থাকার বন্দোবস্ত করার কথা বলেছিলেন, তিনি নাকি ফোন ধরছেন না। ধ্রুবর থেকে নম্বর নিয়ে এরপর তাঁর বাবা নেম চাঁদকে ফোন করেন ফুল চাঁদ। ধ্রুবর বাবা জানান, ছেলের সঙ্গে তাঁর আসার কথা ছিল। কিন্তু ধ্রুবর ঠাকুরদার শ্রাদ্ধ পড়ে গিয়েছে। তাই বাবাকে ধ্রুব বলেছিলেন, কোনও চিন্তা না করতে, একাই পৌঁছে যাবেন দিল্লিতে।
ধ্রুবকে আকাদেমিতে ভর্তি নেয়ে প্রাথমিকভাবে একটি হস্টেলে থাকার বন্দোবস্ত করে দেন ফুল চাঁদ। তাঁর আকাদেমিতে অর্থ কোনও প্রতিবন্ধকতা নয়। নিজেই অনেককে ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম কিনে দিয়েছেন। ধ্রুবর প্রতিভা নজর কাড়ে ফুল চাঁদের। সবচেয়ে ভালো লাগে টেম্পারামেন্ট। এ ছাড়া ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে মা বন্ধক রেখেছিলেন সোনার গয়না।
ধ্রুবর টেম্পারামেন্ট নিয়ে চর্চা চলছে আইপিএলের পর টেস্টের আসরেও। বিশেষ করে যেভাবে ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার বেগে আসা মার্ক উডের ডেলিভারিকে অবলীলায় আপার কাটে ছক্কা মেরেছেন ধ্রুব। এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর প্রথম ছক্কা। ধ্রুব শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন বলে জানান ফুল চাঁদ।
ধ্রুবর যখন ১৪ বছর বয়স তখন থেকে তাঁকে দিল্লি ও এনসিআরে স্থানীয় বিভিন্ন টুর্নামেন্টে কয়েকশো ম্যাচ খেলিয়েছেন ফুল চাঁদ। কেন না, তিনি বিশ্বাস করতেন যত বেশি ম্যাচ খেলা যাবে তত দ্রুত প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। বৈভব শর্মা মেমোরিয়ালে ধ্রবকে একটি ক্লাবে খেলার বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন ফুল চাঁদ।
কিন্তু ধ্রুবর বয়স কম দেখে তাঁকে লোয়ার মিডল অর্ডারে খেলানো হচ্ছিল। ওই দলের কর্ণধারকে ফুল চাঁদ অনুরোধ করেন ধ্রুবকে ব্যাটিং অর্ডারে উপরের দিকে পাঠাতে। সেটা হয়। ধ্রুব কোচের মান রাখেন ফাইনালে ৩৮ বলে ৮৬ রানের ইনিংস খেলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে।
স্বাভাবিকভাবেই সেই ছাত্রের টেস্ট অভিষেক গর্বিত করেছে কোচ ফুল চাঁদকে। অনূর্ধ্ব ১৯-এ রাজ্য তথা দেশের দলের হয়ে খেলা থেকে শুরু করে রঞ্জি ট্রফি-সহ ঘরোয়া টুর্নামেন্ট, আইপিএল, ভারতীয় এ দলের হয়ে নজর কেড়েছেন ধ্রুব। এবার মিলেছে সিনিয়র দলে সুযোগ। সেখানেও শুরুটা ভালোই করলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধ্রুবর সাফল্য সম্পর্কে নিশ্চিত ফুল চাঁদ। ধ্রুবর আপার কাটের ছক্কা দেখে অনেকে বলছেন, ভারতীয় ক্রিকেট আরেক ধোনিকে পেতে চলেছে।












Click it and Unblock the Notifications