IND vs ENG Exclusive: সৌরভের 'ভিশন ২০২০' থেকে টেস্ট দলে এবার আকাশ দীপ, কোচ সৌতমের রয়েছে বড় অবদান
IND vs ENG Exclusive: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মস্তিস্কপ্রসূত ভিশন ২০২০ প্রকল্প ভারতীয় টেস্ট দলকে উপহার দিল আরও এক ক্রিকেটার। আকাশ দীপ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাকি তিনটি টেস্টের দলে ডাক পেয়েছেন এই পেসার।
সৌরভের ভিডিওকন আকাদেমিতে আসার পরই ঊর্ধ্বগামী হয় আকাশের কেরিয়ার-গ্রাফ। ২০১৯ সালে বাংলার হয়ে অভিষেক। দক্ষিণ আফ্রিকাতেও সাদা বলের ক্রিকেটে ডাক পেয়েছিলেন। তবে অভিষেক হয়নি।

জসপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজ, মুকেশ কুমারের সঙ্গেই রয়েছেন আকাশ। সৌরভের বাল্যবন্ধু তথা আকাদেমির দায়িত্বে থাকা সঞ্জয় দাস খুশি বাংলা থেকে আরও এক ক্রিকেটার টেস্ট দলে জায়গা করে নেওয়ায়। সঞ্জয় জানালেন, আকাদেমির কোচ সৌতম মিত্র আজ সবচেয়ে খুশি হবেন। কেন না, তাঁর হাতে পড়েই তো আকাশের উত্থান।
সৌতম মিত্র বলেন, আকাশ ভিডিওকন আকাদেমিতে যখন আসেন তখন বয়স ২০-২১ হবে। পেস ভালো ছিল। কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণে কিছু সমস্যা ছিল। সৌতমের পরামর্শ মেনে বল ঠিক জায়গায় রাখা, লাইন, লেংথ ঠিক রাখার সমস্যা কাটিয়ে ওঠেন। বোলিংয়ের মান উন্নত করতে তাঁকে মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছিলেন সাগরময় সেনশর্মা, দত্তাত্রেয় মুখোপাধ্যায়রা।
খ্যাতি অনেকের মাথা ঘুরিয়ে দেয়। আইপিএলে আরসিবিতে খেলার পরেও আকাশের মধ্যে কোনও বদল দেখেননি সঞ্জয়, সৌতমরা। জীবনের নানা হার্ডল টপকে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া ছেলেটা এখনও স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তাই তো, রঞ্জি ম্যাচ খেলেই কোচের বাড়ি গেয়ে চিকেন স্টু খাওয়ার আবদার করেন।
ভিডিওকনে আসার পর ইউনাইটেড ক্লাবে সই। ইস্টবেঙ্গলের প্রস্তাব পাওয়ার পরেও ইউনাইটেড ছাড়েননি। পরে মোহনবাগান হয়ে এখন বড়িশার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। কোনও কথায় আকাশকে না বলতে শোনেননি সৌতম। কুঁচকিতে চোট পেয়েও ক্লাবের হয়ে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন।
এমনও হয়েছে পারিবারিক মামলার কারণে বিহারে যেতে হবে। তাতেও ক্লাবের প্রতি দায়বদ্ধতা, নিষ্ঠায় অবিচল থেকে সারাদিন খেলে পরে ট্রেন ধরে বিহারের বাড়িতে গিয়েছেন। সৌতমের বাড়িতেও বেশ কিছুটা সময় থেকেছেন আকাশ দীপ। মশালাদার খাবার পছন্দ করেন না। সবজি সিদ্ধ তাঁর বেশ পছন্দের।
আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দলে রয়েছেন। ট্রায়ালে আকাশকে পছন্দ হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালসের। কিন্তু বিরাট কোহলির সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ারের সুযোগের কথা ভেবে আকাশকে সৌতম বলেছিলেন, আরসিবিতে কম টাকা পেলেও হবে। কিন্তু বিরাটের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ারের অভিজ্ঞতা অন্য কোথাও মিলবে না। আকাশ সেই কথা মেনে নেন।
আরসিবিতে থাকাকালীনও বোলিংয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। বেশি ওয়াইড বল করে ফেলছিলেন। তখন ভিডিও কলে সৌতমের সঙ্গে কথা বলেন আকাশ। সাগরময়কেও সেই কলে নেওয়া হয়। শেখার অদম্য ইচ্ছা থাকায় সমস্যা কাটিয়ে উঠতে দেরি হয়নি।
বিহারের সাসারাম থেকে দুর্গাপুরে কাকার বাড়িতে এসে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নের জাল বোনা শুরু। তার মধ্যেই বাবা ও দাদার মৃত্যুর জেরে ফের বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছিল। কিন্তু তারপরও ক্রিকেটই ধ্যান-জ্ঞান হওয়ায় দুর্গাপুরে ফিরে আসা। সেখান থেকে কলকাতা। বাংলার বয়সভিত্তিক দল কিংবা ভিশন ২০২০-তে সুযোগ।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয় এ দলের হয়ে খেলার পর দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে ৩ ম্যাচে আকাশ ১৩ উইকেট নেন। এই পারফরম্যান্সেই এবার টেস্ট দলে ডাক। গত মাসেই সৌতমের সঙ্গে কথা হয়েছিল। সৌতম ভারতীয় দলের হয়ে খেলার টার্গেট থেকে ফোকাস না সরানোর কথা মনে করিয়ে দেন।
জানা গিয়েছে, আকাশ দীপের বোলিং দেখে খুশি রোহিত শর্মা। নির্বাচকরাও আকাশের পারফরম্যান্সের পুরস্কার দিলেন। আকাশের সবচেয়ে বড় গুণ, শেখার আগ্রহ ও মাটিতে পা রেখে ধারাবাহিকতা দেখানো। হয়তো আন্তর্জাতিক অভিষেকের জন্য কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। তবে ভারতের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ যে আকাশকে আরও উন্নত করে তুলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।












Click it and Unblock the Notifications