Akash Deep: সাসারাম থেকে আজ ভারতের ড্রেসিংরুমে ডাক, কোন ঘটনাগুলি মনে পড়ছে আকাশ দীপের?
Akash Deep: আকাশ দীপকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সাদা বলের সিরিজে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সুযোগ মেলেনি। এবার টেস্ট দলে ডাক পেলেন বাংলার পেসার আকাশ দীপ, এই প্রথম।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাকি তিনটি টেস্টের ঘোষিত ভারতীয় টেস্ট দলে মুকেশ কুমারের পর বাংলা থেকে ডাক পেয়েছেন আকাশ দীপ।

আজ সকালে যখন দল ঘোষণা হয় তখন আকাশ থুম্বায় কেরলের বিরুদ্ধে বাংলার হয়ে ম্যাচ খেলছিলেন। বোলিং স্পেল শেষ করে বাউন্ডারি লাইনের ধারেই ছিলেন। এরই মধ্যে ড্রেসিংরুম থেকে সতীর্থ ও সাপোর্ট স্টাফরা করতালি দেন। আকাশ দীপকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য।
বাংলা ও ভারতীয় এ দলের হয়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি। সম্প্রতি ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে চার দিনের ২টি ম্যাচে ১১ উইকেট নেওয়া আকাশ দীপ বলেছেন, ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করলে যে টেস্ট দলে ডাক পাব সে ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু তৃতীয় টেস্টে ডাক পাব ভাবিনি।
বিহারের সাসারাম থেকে এসেছেন। বাবা ছিলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। বিহার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন সেই সময় বিসিসিআইয়ের সাসপেনশনে ছিল। সেখানকার সাসারামে তাই ক্রিকেট খেলে ভালো জায়গায় পৌঁছনো সম্ভব, এমন আশা কেউই করতেন না। আকাশের বাবাও ব্যতিক্রমী ছিলেন না।
আকাশ পিটিআইকে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যেহেতু তিনি ক্রিকেট খেলে বেড়াতেন, ফলে অনেক অভিভাবকই ছেলেদের আকাশের সঙ্গে মিশতে দিতেন না। তাঁরা বলতেন, আকাশের সঙ্গে মিশলে পড়াশোনা গোল্লায় যাবে। এতে অবশ্য বন্ধু বা অভিভাবকদের কোনও দোষ দেখেন না আকাশ দীপ।
কেন না, নিদেনপক্ষে বিহারের পুলিশ কনস্টেবল বা সরকারি অফিসে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পরীক্ষা দেওয়াকেই গুরুত্ব দেওয়া হতো। আকাশের বাবাও তাঁকে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসতে বলতেন, নিজে ফর্ম ফিল-আপ করতেন। কিন্তু আকাশের স্বপ্ন ক্রিকেটার হওয়া। তিনি পরীক্ষায় বসতেন, সাদা খাতা জমা দিয়ে আসতেন। এরই মধ্যে মাস ছয়েকের মধ্যে আকাশের জীবনে দুটি বড় ঘটনা ঘটে যায়।
প্রথমে বাবা ও পরে দাদার মৃত্যু হয়। মা-বোন-সহ সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব এসে পড়ে আকাশের কাঁধে। আকাশের হারানোর কিছু ছিল না। কিন্তু সংসার দেখতে হবে, এটাই তাঁর কাছে বড় মোটিভেশন হয়ে দাঁড়ায়। এক বন্ধুর সহযোগিতায় দুর্গাপুরে খেলার সুযোগ মেলে। আকাশ জানিয়েছেন, ক্লাবের হয়ে লেদার বল ক্রিকেট খেলে তেমন অর্থ পেতাম না।
সে কারণে টেনিস বল খেলাকে বেছে নিতে হয়েছিল। ক্লাবের হয়ে খেলার ফাঁকে বাংলার জেলায় জেলায় ঘুরে টেনিস বল ক্রিকেট খেলতেন আকাশ। মাসের তিন-চারদিন টেনিস বল টুর্নামেন্টে খেলে দৈনিক ৬ হাজার টাকা করে পেতেন। ফলে মাসে হাজার বিশেক টাকায় নিজের ও সংসারের খরচটা উঠে আসতো।
আকাশের কথায়, আমার সুনির্দিষ্ট কোনও কোচ নেই। সৌরাশিস লাহিড়ি, রণদেব বোস, অরুণ লালদের পরামর্শ পেয়েছি। ইনস্যুইং করতে ভালোবাসেন। কিন্তু আইপিএল ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বুঝেছেন আউটস্যুইং ও রিভার্স স্য়ুইংয়ের গুরুত্ব। দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয় ড্রেসিংরুমে থেকে আকাশ উপলব্ধি করেছেন দক্ষতার থেকেও বেশি জরুরি মানসিক শক্তি।
চাপের মুখে কী করণীয় সেই মানসিক শক্তিই বাড়ানো লক্ষ্য আকাশের। টেস্ট দলের ড্রেসিংরুমে মুকেশ কুমারের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে কাটাবেন ভেবে ভালো লাগছে আকাশের। তিনি বলেছেন, বাংলাই আমার রাজ্য, এখান থেকেই সব কিছু পেয়েছি। জাতীয় দলে ডাক পেয়ে তাই বাংলার প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বছর ২৭-এর আকাশ। যাঁর লক্ষ্য আকাশ ছোঁয়া।












Click it and Unblock the Notifications