Shakib Retires: মীরপুরে খেলার ইচ্ছা শাকিবের, কানপুরেও টেস্ট কেরিয়ারে যবনিকা পড়তে পারে! অবসর T20I থেকেও
Shakib Al Hasan Retires: কানপুরে কাল ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামার আগে বড় ঘোষণা শাকিব আল হাসানের। টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর দেশের হয়ে তাঁকে দেখা যাবে না।
সেই সঙ্গে মীরপুরে আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলে এই ফরম্যাটকেও বিদায় জানাতে চান। যদিও সেটা সম্ভব না হলে কানপুরেই বিদায়ী টেস্ট খেলতে হতে পারে শাকিবকে।

ভারতে চলতি টেস্ট সিরিজের পর তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। তবে শাকিব এদিন জানিয়ে দিয়েছেন, গত জুনে টি২০ বিশ্বকাপেই দেশের হয়ে শেষবার খেলে ফেলেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে ছোট ফরম্যাটে। ফলে শাকিব স্বাভাবিকভাবেই থাকছেন না ভারত-বাংলাদেশ টি২০ সিরিজে।
অক্টোবরে বাংলাদেশ সফর রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। গত সপ্তাহে বাংলাদেশে নিরাপত্তার বন্দোবস্ত খুঁটিয়ে দেখেছেন ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ থেকে মহিলাদের টি২০ বিশ্বকাপও সরিয়েছে আইসিসি। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সফর নিয়ে এখনও সবুজ সঙ্কেত দেয়নি প্রোটিয়াদের বোর্ড।
সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত জুলাই ও অগাস্টে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। হাসিনার দলের হয়ে চলতি বছরই আওয়ামি লিগের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন শাকিব। বাংলাদেশে এখন অন্তর্বর্তী সরকার।
এরই মধ্যে শাকিবের বিরুদ্ধে খুন-সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। শাকিব দেশে ফিরতেও পারেননি। দেশে ফিরলে তিনি গ্রেফতার হবেন কিনা তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। যদিও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড শাকিবের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল।
টেস্টে শাকিবের ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চেন্নাই টেস্টে তাঁর চোট নিয়েও নানাবিধ প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশের হেড কোচ চণ্ডিকা হাতুরুসিংঘে অবশ্য গতকালই বলেছেন, শাকিব দ্বিতীয় টেস্টে খেলার জন্য প্রস্তুত। এখন প্রশ্ন হলো, কানপুরেই শাকিবকে শেষ টেস্ট খেলতে হবে কিনা।
শাকিব আজ সাংবাদিকদের বলেন, আমি দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে দেশে অনেক কিছু ঘটছে। যা আমার নিয়ন্ত্রণেও নেই। আমি টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে পরিকল্পনার কথা বিসিবিকে জানিয়েছি। বিশেষ করে এই সিরিজ ও আগামী সিরিজ নিয়ে। দেশের মাটিতে শেষ সিরিজ খেলতে পারব বলে ভেবে রেখেছিলাম।
শাকিব আরও বলেন, বিসিবি সভাপতি ফারুকি ভাই (ফারুক আহমেদ) ও নির্বাচকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। যদি সুযোগ থাকে এবং যদি আমি খেলতে পারি আমার শেষ টেস্ট হবে মীরপুরেই। যাতে আমি নিরাপদ অনুভব করে খেলতে পারি তার বন্দোবস্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বোর্ডের তরফে।
বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে ফেরেননি শাকিব। তিনি বলেন, যখন দেশের বাইরে যেতে হবে তখন যাতে কোনও সমস্যা না হয় সে বিষয়টিও বোর্ড খেয়াল রাখছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে যাঁরা যুক্ত তাঁরা খেয়াল রাখছেন। তাঁদের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করব দেশে ফিরে গিয়ে নিরাপদে খেলে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে পারি কিনা।
শাকিবের কথায়, আমি বাংলাদেশের নাগরিক। ফলে দেশে ফিরতে আমার সমস্যা হওয়া কাম্য নয়। আমার একটাই চিন্তা বাংলাদেশে সুরক্ষা, নিরাপত্তা নিয়ে। এ বিষয়ে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, পরিবারের সদস্যদেরও চিন্তা রয়েছে। তবে আশা করি, সব ঠিকঠাকই থাকবে। নিশ্চয়ই কোনও সমাধান বেরোবে।
শাকিব স্পষ্ট করেছেন, কোনও কষ্ট বা অভিমান থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুনদের ছেড়ে দেওয়ার এটাই সেরা সময়। পরবর্তীকালে বিসিবি যদি মনে করে শাকিব টি২০ আন্তর্জাতিকে খেলার উপযুক্ত, তখন অবসর ভেঙে ফেরার ইঙ্গিতও দিয়ে রাখলেন। আগামী বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলে শাকিব একদিনের আন্তর্জাতিক থেকে অবসর নেবেন বলেও পরিকল্পনা করেছেন। কোচ, অধিনায়ক, নির্বাচক, বোর্ড- সকলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলেন। তবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা চালিয়ে যাবেন শাকিব।












Click it and Unblock the Notifications