ICC CWC 2023: কোহলির খাসতালুকে শ্রেয়স-রাহুল নাম লেখালেন সচিন-রোহিতের পাশে! বিরাট প্রশংসায় অভিষেক
ICC CWC 2023: বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আজ শতরান হাঁকিয়েছেন শ্রেয়স আইয়ার ও লোকেশ রাহুল। রাহুল ৬৪ বলে ১০২ রান করে আউট হলেও ৯৪ বলে ১২৮ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন শ্রেয়স আইয়ার।
ডাচদের বিরুদ্ধেই ওডিআই কেরিয়ারের সর্বাধিক রান করলেন শ্রেয়স। ২০২০ সালে হ্যামিলটনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১০৩, ২০২২ সালে রাঁচিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে অপরাজিত ১১৩ ও গত সেপ্টেম্বরে ইন্দোরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে করেন ১০৫।

শ্রেয়স চোট সারিয়ে মাঠে ফিরেছেন। যে লড়াইটা মোটেই সহজ ছিল না। অস্ত্রোপচার হয়। খেলতে পারেননি আইপিএলে। বিশ্বকাপের আগে পুরো ফিট হতে পারবেন কিনা তা নিয়েও ছিল সংশয়। এমনকী চর্চা শুরু হয়েছিল দলে ফিরলেও প্রথম একাদশে কি আসতে পারবেন? যদিও টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন।
মোহালিতে গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শতরানের পর এদিনই ফের শতরান এলো শ্রেয়সের ব্যাটে। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৮২ ও ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে করেছিলেন ৭৭। ফলে টানা তিনটি ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করলেন আইয়ার। যা মনে করা হচ্ছে, বেশ কিছুদিনের জন্য ওডিআইয়ে ভারতের চার নম্বর জায়গাটি তাঁর জন্য সুনিশ্চিত করে দিল।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের ব্যাটিং কোচ অভিষেক নায়ার কেকেআরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, শ্রেয়সকে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পিঠের চোট তাঁকে ভোগাচ্ছিল। আইপিএলে খেলতে পারেননি। চোট সারিয়ে ফেরার সময় থেকেই বিশ্বকাপে খেলা, প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা নানা কথা চলতে থাকে।
তবে বাইরে যা-ই আলোচনা হোক, শ্রেয়সের উপর রোহিত শর্মার আস্থা রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে অভিষেক নায়ারের কথায়। শ্রেয়স কি চারে উপযুক্ত? এমন প্রশ্নও উঠেছিল। অভিষেক বলেন, চোট সারিয়ে ফিরে ভালো খেলাটা জরুরি ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভালো পারফর্ম করেন শ্রেয়স। তবুও চর্চা থামেনি।
শ্রেয়সের শর্ট বল খেলায় দুর্বলতা আছে বলে প্রচার হয়। যে প্রশ্ন শুনে সাংবাদিকদের উপরও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। অভিষেক নায়ার বলেন, এত কিছুর পরেও শ্রেয়স যে ইনিংসগুলি খেলছেন তাতে তাঁর টেম্পারামেন্ট, সক্ষমতা বোঝা যায়। এই চারিত্রিক গুণগুলিই শ্রেয়সকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। ভারতীয় দলের হয়ে তিনি অসাধারণ খেলছেন।
কেকেআরের ব্যাটিং কোচ আরও বলেছেন, আশা করি সকলে এখন বুঝছেন শ্রেয়সকে চার নম্বরে কেন দরকার। ওয়াংখেড়েতে বাউন্সি উইকেটে তিনি যেমন কার্যকরী, তেমনই ইডেনে যেখানে বল ঘোরে সেখানেও কার্যকরী ভূমিকা পালনে দক্ষ শ্রেয়স। যে কোনও পরিস্থিতিতে তিনি দলের প্রয়োজনে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন। চার, ছয় অবলীলায় মারতে পারেন।
ওডিআই টিমে চার নম্বরে শ্রেয়সকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না অভিষেক। শ্রেয়স এদিন একটি নজিরও গড়ে ফেলেছেন। বেঙ্গালুরুতে একাধিক ওডিআই শতরান আছে সচিন তেন্ডুলকর, রোহিত শর্মার। ইউসুফ পাঠানেরও রয়েছে একটি। চিন্নাস্বামীতে ভারতের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে ওডিআই শতরান পেলেন শ্রেয়স।
বেঙ্গালুরুতে ২০১৩ সালে রোহিত শর্মা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিশতরান করেছেন। ২০২০ সালে অজিদের বিরুদ্ধে আরেকটি শতরান হাঁকান হিটম্যান। সচিন ১৯৯৭ সালে নিউজিল্যান্ড ও ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এখানে সেঞ্চুরি করেন। ২০১০ সালে ইউসুফ পাঠান নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুতে ওডিআই শতরান করেছিলেন। শ্রেয়স আইয়ার নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে প্রথম ভারতীয় হিসেবে ওডিআই শতরান হাঁকালেন।












Click it and Unblock the Notifications