ICC CWC 2023 Final: প্রত্যাখ্যান প্রত্যয় বাড়ায় শামির! উত্তরপ্রদেশ ছেড়ে পাঞ্জাব মেলে কেন কলকাতায় পদার্পণ?
ICC World Cup 2023 Final: মহম্মদ শামি। চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই তিনবার ম্যাচের সেরার পুরস্কার পেয়েছেন। রয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা হওয়ার দৌড়ে। তবে সবার আগে সকলের মতো শামির পাখির নজর বিশ্বকাপ জয়।
অস্ট্রেলিয়া সবচেয়ে বেশি যাঁকে ফাইনালে ভয় পাচ্ছে তাঁর উত্তরণের পথটাও কম চমকপ্রদ নয়। মনে হতেই পারে উত্তরপ্রদেশ ছেড়ে কেন কলকাতায় এসেছিলেন শামি? কোচ বদরুদ্দিনের কোন সিদ্ধান্ত বদলে দেয় শামির জীবন?

দিল্লিকে লখনউয়ের সঙ্গে সংযোগকারী ২৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে পড়ে আমরোহার সাহসপুর আলিনগর। মোরাদাবাদ থেকে গাড়িতে লাগে মিনিট ৩০। আখ ও সর্ষের চাষ করেন সেই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ। স্থানীয় ইটভাটার অসমান ফাঁকা জায়গায় ক্রিকেটের হাতেখড়ি শামির। বাবা তৌসিফ আহমেদ স্থানীয় টুর্নামেন্টে জোরে বোলারের জন্য খ্যাত ছিলেন।
তবে ক্রিকেট পরিকাঠামো না থাকায় আমরোহা ও মোরাদাবাদেই স্থানীয় ক্রিকেট খেলতেন তৌসিফ। উত্তরপ্রদেশের হয়ে খেলা হয়নি। শামির দাদা হাসিব উত্তরপ্রদেশের অনূর্ধ্ব ১৯ ট্রায়াল দেওয়ার আগেই বিপত্তি। কিডনির স্টোনে ট্রায়াল মিস। হাসিবও বাবার মতো জোরে বোলার, কিন্তু তিনিও স্থানীয় টুর্নামেন্টেই খেলেছেন।
টিভিতে ওয়াসিম আক্রম ও মাইকেল হোল্ডিংয়ের স্যুইং দেখে ভাই শামিকে শেখাতেন দাদা হাসিব। তিন বছর ধরে উত্তরপ্রদেশের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের ট্রায়ালে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিলেও দরজা খুলছিল না। শামির বাবা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ছয় বল দেখে বোলার বিচার করা যায় না। শামির বলে জোর ছিল। নিখুঁত বল করতেও পারদর্শী।
শামির গ্রাম থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে মোরাদাবাদে বদরুদ্দিনের কাছে শামি নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতেন। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ দলে ক্রিকেটার বাছাইয়ে বারবার শামিকে রাজনীতির শিকার হতে দেখে বদরুদ্দিনই বড় পদক্ষেপ নেন। ডালহৌসি ক্লাব সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। কিন্তু জোরে বোলার চোট পাওয়ায় পরিবর্ত ক্রিকেটার খুঁজছিলেন কর্তারা।
ডালহৌসি থেকে ফোন পান বদরুদ্দিন। জোরে বোলার পাওয়া যাবে কিনা তার উত্তরে তিনি শুধু বলেছিলেন, সেরা বোলার পাওয়া যাবে। সেটা ২০০৬ সাল। ফোন পাওয়ার দুই দিন পরেই শামির হাতে পাঞ্জাব মেলের টিকিট ধরিয়ে দেন বদরুদ্দিন। তার আগে পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন। শামির তখন বয়স প্রায় ১৬।
ওই বয়সে ট্রেনে চেপে অচেনা কলকাতায় যেতে হবে। ট্রেনে ওঠার আগে কোচের দিকেই একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিলেন শামি। কোচ বদরুদ্দিন বলেছিলেন, যা বেটা! তেরে লিয়ে আচ্ছা হি হোগা। পাঞ্জাব মেল যে শামিকে হাওড়ায় পৌঁছে দিয়েছিল, আজ তাঁর দিকেই তাকিয়ে দেশ। যে শামি ডালহৌসিতে ম্যাচ প্রতি ৫০০ টাকার চুক্তিতে সই করেছিলেন, তাঁকে ঘিরেই তামাম দেশবাসীর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।












Click it and Unblock the Notifications