ICC CWC 2023: মাছ পাহারার দায়িত্বে বিড়ালে আস্থা স্নেহাশিসের! বিশ্বকাপে লজ্জা বাড়াচ্ছে সিএবির ভূমিকা
ICC CWC 2023: বিশ্বকাপের আগে নানা কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল। দশকের পর দশক ধরে বড় মাপের ইভেন্ট মসৃণমভাবে সামলেছে সিএবি। কিন্তু সবচেয়ে জঘন্য দশা এবার।
২০১৬ সালে টি ২০ বিশ্বকাপ দারুণভাবে আয়োজন করে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন তৎকালীন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও সচিব অভিষেক ডালমিয়া। কিন্তু স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের জমানায় কেন এমন দশা? সর্ষের মধ্যে ভূতই কি লজ্জা বাড়াচ্ছে?

ইডেনে কাল পাকিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচ। ৫ নভেম্বর ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা। কালীপুজোর আগের দিন ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তান। এর মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিতই হয়ে গিয়েছে। অঙ্কের জটিল সমীকরণে ঝুলে থাকা দলগুলির ম্যাচ ঘিরে তাপ-উত্তাপ নেই ক্রিকেটের নন্দনকাননে। আরও বিরক্তি সিএবি সভাপতির ভূমিকায়।
স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় সংবামাধ্যমকে নীতিশিক্ষা দিতে গিয়ে গঠনমূলক সমালোচনার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু তাকেও পাত্তা দিচ্ছেন না। না হলে একের পর এক কেলেঙ্কারি দেখেও তিনি যেন কাঠের পুতুল। সাজুগুজু করে সেজে ওঠা ইডেন দেখাচ্ছেন ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকদের। কিন্তু সংবিধান মেনে সিএবির আজীবন সদস্যদের টিকিটের বন্দোবস্ত করতে ব্যর্থ।
আইপিএল চলাকালীন একটি সংবাদমাধ্যমের চিত্র সাংবাদিক অভিযুক্ত হয়েছিলেন প্রেস বক্সের টিকিট ব্ল্যাকে। ওই চ্য়ানেলের সাংবাদিকের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু উপযুক্ত তদন্ত করে কোনও ব্যবস্থা নেননি সিএবি সভাপতি। এখন যখন সিএবির সদস্যরা টিকিট না পেয়ে ক্ষিপ্ত, তখন ওই সাংবাদিকের হাতে টিকিটের গোছা দেখে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, এমনিতে পছন্দের সাংবাদিকদের ডেকে ডেকে কমপ্লিমেন্টারি টিকিট সিএবি সভাপতি দিতেন মিডিয়া ম্যানেজারের মাধ্যমে। এবার আবার জোড়া মিডিয়া ম্যানেজার। একজন বেতন পান, অপরজন বেতন না পেলেও অ্যাক্সিডেন্টাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে অবতীর্ণ। সিএবির হেভিওয়েট মিডিয়া ম্যানেজারের নামে নানা অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু জোড়া মিডিয়া ম্যানেজারও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না। জানা যাচ্ছে, বিশ্বকাপের সময় মিডিয়া ম্যানেজারকে দিয়ে সাংবাদিকদের টিকিট বিতরণ করা হচ্ছে না। সিএবি সভাপতি বা সচিব তাঁদের পেটোয়া সাংবাদিকদের যে টিকিট দিয়ে থাকেন, তা যথাযথভাবে না পেয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
টিকিট ব্ল্যাক কাণ্ডে অভিযুক্ত সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক সিএবি সভাপতির আপ্ত সহায়কের কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ। এতে সিএবির কমিটির কয়েকজনও ক্ষুব্ধ। ওই টিকিট অনেক সাংবাদিক পাননি বলেও অভিযোগ। মাছ পাহারার দায়িত্বে কেন বিড়ালে আস্থা স্নেহাশিসের? বোধগম্য হচ্ছে না।
২০১৬ সালের টি ২০ বিশ্বকাপে ভারত-পাক ম্যাচ, এমনকী ফাইনালও হয়েছিল ইডেনে। টিকিট নিয়ে কোনও অসন্তোষ ছিল না। সিএবি সূত্রে খবর, এবারও টিকিটের সংখ্যা কমায়নি আইসিসি। কিন্তু তা সত্ত্বেও সিএবির বিভিন্ন সদস্য, ক্লাবগুলির মধ্যে টিকিট পাওয়া নিয়ে অসন্তোষের আগুন পুঞ্জীভূত হচ্ছে। সৌরভ-অভিষেকের থেকেও তো পরামর্শ নিতে পারতেন স্নেহাশিস, নরেশ ওঝারা।
টিকিট নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে সিএবির বক্তব্য জানতে চাওয়ার চেষ্টা করা হলেও সিএবির মিডিয়া ম্যানেজার ফোন ধরেননি। তিনি এদিনও স্নেহাশিসের সুরে সুর মিলিয়ে সংবাদমাধ্যমকে পজিটিভ খবর করতে বলেছেন। সংবাদমাধ্যমে টিকিট পাঠিয়ে নেগেটিভ খবর আটকানোর বুদ্ধি মেনে কাজ হচ্ছে বলেও অভিযোগ। কিন্তু দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম হিসেবে সাদাকে সাদা, কালোকে কালোই বলবে ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা।
সিএবি সভাপতি নানা সময় বলে থাকেন তিনি নাকি ভুল থেকে শিক্ষা নেন। এবার বিশ্বকাপের প্রথম ম্য়াচে প্রায় ৬৫ হাজার দর্শকাসন-বিশিষ্ট ইডেনে দর্শক ছিলেন মেরেকেটে হাজার ১৫। ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে তিনি অন্তত সিএবির বিভিন্ন স্তরের সদস্যের টিকিট নিয়ে ক্ষোভ মেটানোর চেষ্টা করতেন।
বাংলাদেশের সাংবাদিকরা সিএবির ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। আজ সিএসজেসি ও সিএবি তাঁদের ক্ষোভ প্রশমনের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। এরই মধ্যে আবার অভিযোগ আসছে বিশ্বকাপ আয়োজনে সিএবিতে স্বজনপোষণের। টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও সিএবি সেই অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন বলে এখনও দাবি করেনি। সিএবির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা আমরা তুলে ধরব পাঠকদের কাছে।
(ছবি- ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল ফেসবুক)












Click it and Unblock the Notifications